রাজধানীর উত্তরা সেক্টর-৬ এলাকায় অবস্থিত নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে সন্তুষ্টির চিত্র দেখা গেছে। টানা দুই দিন সরেজমিনে প্রতিষ্ঠানটি ঘুরে দেখা এবং চিকিৎসাসেবা নিতে আসা স্থানীয় ও দূর-দূরান্তের রোগী-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবাসহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে। চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রোগীদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলতে এবং প্রয়োজনীয় সেবা দিতে দেখা যায়। কথা হয় একাধিক রোগী ও স্বজনের সঙ্গে। তাদের অধিকাংশই চিকিৎসকদের ব্যবহার, সেবার আন্তরিকতা এবং তুলনামূলক কম খরচে চিকিৎসা পাওয়ার বিষয়ে সন্তুষ্টির কথা জানান।
বিশেষ করে নারী ও শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিতে অনেক রোগী এখানে আসছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা এবং দূর-দূরান্ত থেকেও রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
রোগীদের কয়েকজন জানান, চিকিৎসকদের ব্যবহার তাদের ভালো লেগেছে। রোগীর সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শোনা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া এবং জরুরি সময়ে সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকায় তারা এ কেন্দ্রের ওপর আস্থা রাখছেন।
ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা ও সেবার বিষয়ে কথা হয় ক্লিনিক ম্যানেজার ডা. সৈয়দা তানজিম আফরোজের সঙ্গে। তিনি জানান, রোগীদের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে এবং চিকিৎসক ও কর্মীদের আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এদিকে আরবান হেলথের মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠানটির সেবার মান ধরে রাখতে চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার খোঁজখবর নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোঃ হাবিবুর রহমান নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের পরও প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করেন। রোগীদের সমস্যা ও সেবার বিষয়গুলো সরাসরি পর্যবেক্ষণ করার চেষ্টা করেন বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।
তবে প্রতিষ্ঠানের কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও উঠে এসেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো অ্যাম্বুলেন্স সংকট।
মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, বর্তমানে ক্লিনিকের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সেটি দীর্ঘদিনের পুরোনো এবং বর্তমানে অচল অবস্থায় রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অ্যাম্বুলেন্সটি ২০০৩ সালে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর সেটি এখন আর সচল নেই।
তিনি বলেন, “আমাদের এখানে একটি বা দুটি সচল অ্যাম্বুলেন্স থাকলে রোগীদের জন্য আরও ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব হতো। বিশেষ করে জরুরি রোগীকে দ্রুত অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”
সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলেও জরুরি পরিবহন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে আসে। তাদের মতে, ২৪ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু থাকলেও জরুরি রোগীকে দ্রুত অন্য হাসপাতালে নেওয়ার জন্য সচল অ্যাম্বুলেন্স থাকা প্রয়োজন।
এর আগে প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্পের মেয়াদ, কর্মীদের বেতন-ভাতা ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন সামনে এলেও সরেজমিনে দুই দিনের পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা অনেক রোগী ও স্বজনের কাছ থেকে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা পাওয়া গেছে।
সেবাগ্রহীতাদের বক্তব্য, স্বল্প খরচে চিকিৎসা এবং ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের আন্তরিকতা ও কর্মীদের ভালো ব্যবহার সেবাগ্রহীতাদের আস্থা বাড়াচ্ছে।
তবে এই সেবা আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, বিশেষ করে সচল অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুই দিনের সরেজমিন পরিদর্শনে রোগী, স্বজন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে যে চিত্র পাওয়া গেছে, তাতে চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে আন্তরিকতা ও রোগীবান্ধব আচরণের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। এখন প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সহায়তা নিশ্চিত হলে এই সেবাকেন্দ্রটি সাধারণ মানুষের জন্য আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

