ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬: রাজধানীর যানজট নিরসন ও পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে মঙ্গলবার উত্তরা এলাকায় ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে ট্রাফিক পুলিশ। জসিমউদ্দিন মোড় থেকে হাউজ বিল্ডিং পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল ও অবৈধ বিলবোর্ড অপসারণ করা হয়।
উক্ত অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিসি উত্তরা ট্রাফিক। তার সঙ্গে ছিলেন উত্তরা জোনের এডিসি মোঃ রুবেল হক এবং বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আসাদুজ্জামান। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাদের সঙ্গে মাঠে ছিলেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা।
অভিযানে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ক্লিন জোন’ সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করে। সংগঠনের সদস্যরা ফুটপাত দখলকারীদের সচেতন করেন এবং উচ্ছেদকৃত মালামাল অপসারণে সহায়তা করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, জসিমউদ্দিন থেকে হাউজ বিল্ডিং পর্যন্ত সড়কের পাশে গড়ে ওঠা দোকানের সাইনবোর্ড, টেবিল-চেয়ার ও হকারদের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। একইসঙ্গে অনুমোদনবিহীন ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড নামিয়ে ফেলা হয়। এতে সড়কের প্রশস্ততা বেড়েছে এবং যান চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছে।
ডিসি উত্তরা ট্রাফিক বলেন, “ফুটপাত জনগণের চলাচলের জন্য। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে এটি দখল করে রাখায় পথচারী ও যানবাহন উভয়ই ভোগান্তিতে পড়ছিল। জনস্বার্থে এই অভিযান চলমান থাকবে।”
এডিসি মোঃ রুবেল হক জানান, “উত্তরা জোনকে যানজটমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন রাখতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করব। সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানাই।”
বিশেষ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কয়েকজনকে জরিমানা করেন এবং ভবিষ্যতে ফুটপাত দখল না করার জন্য সতর্ক করেন।
‘ক্লিন জোন’-এর সমন্বয়করা জানান, তারা শুধু উচ্ছেদ নয়, সচেতনতার কাজও করছেন। “একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ উত্তরা গড়তে আমরা ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে কাজ করে যাব,” বলেন সংগঠনের এক স্বেচ্ছাসেবী।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের দাবি, এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে উত্তরা হবে আরও বাসযোগ্য।
ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে উত্তরার অন্যান্য পয়েন্টেও পর্যায়ক্রমে একই ধরনের অভিযান পরিচালিত হবে।

