ফেনী পৌরসভায় গৃহ ও দোকানের পৌরকর অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি করায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পৌরবাসী। তাদের অভিযোগ, আগে যেখানে বছরে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পৌরকর পরিশোধ করতে হতো, সেখানে এবার কোনো ধরনের কার্যকর নাগরিক পরামর্শ ছাড়াই অনেক ক্ষেত্রে কর ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
পৌরবাসীর দাবি, এটি স্বাভাবিক কর বৃদ্ধি নয়; বরং তাদের ওপর অতিরিক্ত ও অসহনীয় আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার শামিল।
পৌরসভার পক্ষ থেকে আপিলের মাধ্যমে শুনানি করে কর কমানোর সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হলেও, অনেক ক্ষেত্রে সেই প্রতিশ্রুতির যথাযথ বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
পৌরবাসীর প্রশ্ন—প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা না হলে এত বেশি পৌরকর কেন দিতে হবে?
তাদের অভিযোগ, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের ড্রেন ময়লা-আবর্জনায় ভরে আছে। অনেক সড়কের যথাযথ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ নেই। একই সঙ্গে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লেও কার্যকর মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম প্রত্যাশিত মাত্রায় দৃশ্যমান নয়।
নাগরিক সেবার মান নিয়ে যখন নানা অভিযোগ রয়েছে, তখন অতিরিক্ত কর আদায়ের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পৌরবাসী। তাদের ভাষ্য, সেবার ক্ষেত্রে অবহেলা এবং কর আদায়ের ক্ষেত্রে তৎপরতা—এ ধরনের দ্বৈতনীতি গ্রহণযোগ্য নয়।
ফেনী পৌরবাসীর দাবি, অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করা পৌরকর পুনর্বিবেচনা করে সহনীয় পর্যায়ে নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে পৌরবাসীর মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং আপিল ও শুনানি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে কর বৃদ্ধি করা হলে এর বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ গড়ে তোলার কথাও জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ পৌরবাসীরা।
তারা অবিলম্বে অতিরিক্ত পৌরকর পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
মাত্রাতিরিক্ত পৌরকর দেবেন না ফেনী পৌরবাসী, নাগরিক সেবা নিশ্চিত না করে অস্বাভাবিক কর বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ
মহিউদ্দিন মহি খন্দকার, ফেনী প্রতিনিধি:
8

