নোয়াখালী ক্লাব ঢাকা লিমিটেডে সন্ত্রাসীদের হামলা: মতিঝিল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের

by protibimbo
0 মন্তব্য 6 বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালী ক্লাব ঢাকা লিমিটেডে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের হামলা:

আরও পড়ুন

নোয়াখালী ক্লাব ঢাকা লিমিটেডের প্রশংসনীয় অগ্রযাত্রা, কুচক্রী মহলের অপ-প্রয়াস আদী একটি জেলার নাম নোয়াখালী। এ জেলার লোকজনের মধ্যে একতা, পারস্পারিক সহযোগিতা ও কর্মে দেশ বিদেশসহ সর্বত্র কৃতিত্বের পরিচয় বহন করে চলেছে। নোয়াখালীর লোকজনকে অন্য জেলার লোকজন ‘নোয়াখাইল্লা’ নামে আখ্যা দিয়ে থাকে। এ জেলাকে সর্বাঙ্গীনভাবে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সকল পেশার লোকজনকে নিয়ে নোয়াখালী ক্লাব ঢাকা লিমিটেড করার পরিকল্পনা করা হয়। ২০১৭ সালে রেজিষ্ট্রেশন লাভ করে এবং ২০১৮ সাল থেকে পুরোপুরি ভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হতে থাকে। ৩৬৮ জন সদস্য নিয়ে প্রাথমিক ভাবে এ ক্লাবের অগ্রযাত্রা আরম্ভ হয়। ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ডিবিসি’র চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি শহিদুল আহসান এর নেতৃত্ব দেন। এ ক্লাবকে গতিশীল এবং নোয়াখালী বাসীর মধ্যে ব্যাপক প্রসার ও পরিচিতি বিস্তার করেন। ৫ বছর এ কমিটির দায়িত্ব পালন করার পর ২০২৩ সালে কার্যকরী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতাউর রহমান মানিক প্রেসিডেন্ট এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল হাই জেনারেল সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। মানিক এবং হাই কার্যক্রম গ্রহণ করে এ ক্লাবকে ঢাকা শহরের শ্রেষ্ঠ ক্লাব করার প্রত্যয়ে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেন। এর ধারাবাহিকতায় প্রথমে নতুন সদস্য সংগ্রহ করেন। তারপর ক্লাবের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মতিঝিলে গাউছে পাক ভবনের ১৭ তলায় ১৩৫০০ বর্গফুটের একটি ফ্লোর ক্রয় করেন। ফ্লোরটিতে আধুনিক ডিজাইনের ইন্টেরিয়রের কাজ করেন। ফ্লোরে কমিটির সদস্যদের জন্য জীম, বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার ব্যবস্থা, জুসবার, বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য সুবিশাল ব্যাংকুয়েট হল, নামাজের স্থান, আধুনিক কিচেন ও রেস্টুরেন্ট, লবিসহ ক্লাবের বিভিন্ন অর্গান গুলা চালু করেন। মানিক ও হাই’র নেতৃত্বে এ কমিটি নোয়াখালীর বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়নের অগ্রভাগে নেতৃত্ব দিয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। বর্তমানে এ ক্লাবের সদস্য সংখ্যা ১৯৫৬ জন এসে দাঁড়িয়েছে এর মধ্যে ভোটার ১৭২৫ জন। ২০২৬ সালে নির্বাচনের লক্ষ্যে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। নির্বাচন কমিশন ভোটের কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রনয়ন করে তফসিল ঘোষনা করেন। এ নির্বাচন নিয়ে সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দেয় এবং প্রাণ চাঞ্চল্যা ফিরে আসে এবং সদস্যদের ক্লাব ব্যবহার বাড়তে থাকে। ক্লাব সদস্যদের আড্ডা ও বিনোদনের কেন্দ্রে পরিণত হয়। ঠিক এই সময় একটি কুচক্রি মহল দুভিসন্ধী করে নির্বাচনের বিরুদ্ধে ক্লাবের বর্তমান জেনারেল সেক্রেটারি আব্দুল হাই প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্ধীতার করার ঘোষনা দিয়ে এ ক্লাবকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ক্লাব হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ভবিষ্যতে পূর্বাচল/সুবিধা জনক স্থানে ২০ বিঘা জমি ক্রয় করে দৃষ্টি নন্দন ক্লাব হিসেবে এ ক্লাবকে সেখানে স্থাপন করার পরিকল্পনা জানান। গত ৬ই সেপ্টেবর সন্ধ্যায় ক্লাবে আব্দুল হাই এর সমর্থকরা একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় অপর এক সভাপতি প্রার্থী এসি সেলিম ক্লাবের সদস্য নয় এমন একদল বাহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে ক্লাবে হামলা করে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয় এবং ভোটার তালিকা ছিড়ে ফেলে। হামলাকারীরা ক্লাবের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও উপস্থিত সদস্যদের হুমকি দিয়ে ক্লাব বের করে দেন এবং ক্লাবে তালা লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। হামলাকারী সন্ত্রাসীরা তাদেরকে ক্লাবের সদস্য করার জন্য গালাগালি করতে থাকে। এসি সেলিম অন্য এক প্রভাবশালী সভাপতি প্রার্থীর ডামী প্রার্থী হিসেবে এ সমস্ত সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করার অভিযোগ রয়েছে। সন্ত্রাসী হামলার সময় উপস্থিত ক্লাবের সদস্য আব্দুল মান্নান জানান, সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্ধীতা করার জন্য যিনি টাকা দিয়ে ডামী প্রার্থী দিয়েছেন এবং এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করিয়েছেন তিনি বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের সাথে যুক্ত থেকে ব্যবসা বানিজ্য করে হাজার হাজার কোটি টাকা কামিয়েছেন। তিনি সভাপতি প্রার্থী হয়ে ফ্যাসিস্টদের বিরোধীতা করার কোন মানে হয় না। আরেক সদস্য সামছুল আলম জানান, ক্লাবে হামলার ঘটনা ঘটিয়ে যে নোংরামির পরিচয় দেওয়া হয়েছে সদস্যগন এখনই সর্তক না হলে ক্লাব তার ঐতিহ্য ও অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলবে। আরেক সদস্য হাসান আহমেদ জানান, তিনি ফ্যাসিষ্ট বিরোধী তকমা বিক্রি করেন। এয়ার পোর্টে দখলবাজীসহ ফ্যাসিস্ট আমলে হাজার হাজার কোটি টাকা কামিয়েছেন। তাকে শুধু ক্লাবের সদস্য পদ নয়- সামাজিক ভাবে প্রতিরোধ করা দরকার। এ লোক দুষ্কৃতিকারী। হামলার ঘটনায় ক্লাবের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ও বর্তমান পরিচালক এসি সেলিমকে কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠিয়েছে। এছাড়াও ক্লাব থেকে মতিঝিল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ তদন্তকারী এসআই আব্দুল হাকিম জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানান, ক্লাবে সদস্য ভূক্তির নিয়মকানুন রয়েছে। এ সব নিয়মকানুন মেনে ক্লাবের সদস্য হতে হয়। তবে নির্বাচন তফসিল ঘোষনার পর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নতুন সদস্য হওয়ার বিধান নাই। নোয়াখালী ক্লাব ঢাকা লিমিটেড নাম হলেও দেশের অনেক জেলার সদস্য রয়েছে। মোট সদস্যের ২৩% সদস্য অন্যান্য জেলার। তাই ক্লাবে বিশৃংঙ্খলা বা জবর দখলের চেষ্টা নোয়াখালীবাসীর প্রতি মানুষের আস্থা ও স্বপ্ন ভঙ্গের আশংকার সৃষ্টি করবে।

আরও পড়ুন

সম্পর্কিত খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আবুল খায়ের 

নির্বাহী সম্পাদক: 
বার্তা প্রধান:

অফিস: বাড়ি ২৫ (দ্বিতীয় তলা), সড়ক ৫, সেক্টর ৬, উত্তরা, ঢাকা।

যোগাযোগ: ০১৭১৫৩৬৩০৭৯

বিজ্ঞাপন: ০১৮২৬৩৯৫৫৪৯

Email: khair.hrm@gmail.com

info@dainikprotibimbo.com

protibimboprokash.com

ফেসবুকে আমরা

©2025 Dainik Protibimbo – All Right Reserved. Designed and Developed by Bangla Webs