গাজীপুর মহানগরীর কড্ডা এলাকায় তুরাগ নদ থেকে মোয়াজ্জেম হোসেন নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর নিখোঁজ ছিলেন তিনি। প্রায় দুই দিন পর শুক্রবার সকালে নদীতে তাঁর মরদেহ ভেসে ওঠে।
নিহত মোয়াজ্জেম হোসেন গাজীপুর মহানগরীর খালিশাবর্তা এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। শুক্রবার সকালে কড্ডা এলাকায় তুরাগ নদে মরদেহটি ভেসে উঠলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে তুরাগ নদে একটি ট্রলারে কয়েকজন বসে ছিলেন। এ সময় অপর একটি ট্রলার তাঁদের কাছে এলে সেটিকে পুলিশ ভেবে আতঙ্কিত হয়ে কয়েকজন নদে ঝাঁপ দেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও মোয়াজ্জেম নিখোঁজ হন।
নিখোঁজের খবর পেয়ে স্থানীয়রা প্রথমে নদে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উদ্ধার অভিযান চালায়। দিনভর তল্লাশি চালিয়েও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার ভোরে কড্ডা এলাকায় তুরাগ নদে মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ তা উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, মোয়াজ্জেমসহ কয়েকজন ট্রলারে অবস্থানকালে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের ট্রলার থেকে নেমে আসতে বলেন এবং গুলি করার হুমকি দেন। আতঙ্কে তাঁরা নদীতে ঝাঁপ দেন। এ সময় মোয়াজ্জেম নিখোঁজ হন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ওই সময় ঘটনাস্থলে পুলিশের কোনো অভিযান পরিচালিত হয়নি। তাঁদের ধারণা, নদীতে জুয়া খেলার সময় কয়েকজনকে দেখে পুলিশ ভেবে আতঙ্কিত হয়ে তাঁরা পানিতে ঝাঁপ দেন। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

