৬ লাখ টাকা ফেরত চাইতেই হুমকি! ব্যবসায়ী দম্পতির বিরুদ্ধে থানায় জিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

by protibimbo
0 মন্তব্য 25 বার পড়া হয়েছে

টাকা ফেরত না দিয়ে রাতের আঁধারে কারখানার মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, দুই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে তালা

ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে ৬ লাখ টাকা নেওয়ার পর সেই টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ব্যবসায়ী দম্পতি মেহেদী হাসান, পিতা—মোঃ মিরাজ এবং সুলতানা হাসান, পিতা—মোঃ বেলায়েত হোসেন-এর বিরুদ্ধে। পাওনা ৬ লাখ টাকা ফেরত চাইলে বিনিয়োগকারীকে হুমকি-ধমকি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বিনিয়োগকারী গত মঙ্গলবার উত্তরা পূর্ব থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। একই দিনে সংশ্লিষ্ট মার্কেট কর্তৃপক্ষ এবং দোকান মালিক সমিতির কাছেও লিখিত অভিযোগ ও আবেদন দেওয়া হয়েছে। জিডি নম্বর ১২২৫।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ০৯-০৪-২০২৬ তারিখে মেহেদী হাসানের সঙ্গে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে লাক্সী ব্রেন্ড’ ব্যবসায় ৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন ওই ব্যক্তি। পরবর্তীতে বিনিয়োগের ৬ লাখ টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

Banner

বিনিয়োগকারীর দাবি, টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য তিনি মেহেদী হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তার স্ত্রীও কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন বলে জানান তিনি। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, মেহেদী হাসান ফোন রিসিভ করেননি এবং পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

টাকা ফেরত না দিয়ে কারখানার মালামাল বিক্রির অভিযোগ

বিনিয়োগকারীর আরও অভিযোগ, তার ৬ লাখ টাকা ফেরত না দিয়ে রাতের আঁধারে সংশ্লিষ্ট কারখানার মালামাল সরিয়ে নেওয়া ও বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে তার বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তার দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী দম্পতির দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে একটি পলওয়েল মার্কেটে এবং অপরটি উত্তরা আজমপুরের আমির কমপ্লেক্সে অবস্থিত বলে তিনি জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উভয় প্রতিষ্ঠানেই দীর্ঘদিন ধরে তালা ঝুলছে।

তবে কারখানার মালামাল বিক্রি বা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি এবং প্রতিষ্ঠান দুটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্বাধীন কোনো নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

টাকা ফেরত চাইলে হুমকির অভিযোগ

বিনিয়োগকারীর অভিযোগ, তার পাওনা ৬ লাখ টাকা ফেরত চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তার আরও অভিযোগ, তার স্ত্রী বর্তমানে প্রায় আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তাকেও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন বিনিয়োগকারী।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

মার্কেট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ

গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ পুলিশ কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের
পলওয়েল শপিং কমপ্লেক্সের পলওয়েল মার্কেটের নিচতলায় সংশ্লিষ্ট মার্কেট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন বিনিয়োগকারী। সেখানে মার্কেটের ম্যানেজার মামুন সাহেবের কাছেও বিষয়টি জানানো হয়।

বিনিয়োগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, ম্যানেজার মামুন তাকে জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর কাছে মার্কেট কর্তৃপক্ষেরও টাকা পাওনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানান তিনি এবং দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আখতারুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

তবে মার্কেট কর্তৃপক্ষের পাওনা সংক্রান্ত এ তথ্যের স্বাধীন কোনো নথি বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

দোকান মালিক সমিতিতেও আবেদন

ম্যানেজার মামুনের পরামর্শ অনুযায়ী, গত মঙ্গলবারই দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আখতারুজ্জামানের কাছেও লিখিত আবেদন করা হয়। এতে ৬ লাখ টাকা ফেরত না পাওয়া এবং উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়টি জানানো হয়েছে।

তবে আবেদন দেওয়ার পরও এ বিষয়ে সভাপতি আখতারুজ্জামানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

থানায় সাধারণ ডায়েরি

একই ঘটনায় গত মঙ্গলবার উত্তরা পূর্ব থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বিনিয়োগকারী। জিডি নম্বর-১২২৫।

বিনিয়োগকারী বলেন, “আমি চুক্তির ভিত্তিতে ৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। বর্তমানে আমার সেই ৬ লাখ টাকা ফেরত পাচ্ছি না। টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে আমি হুমকির মুখে পড়েছি বলে মনে করছি। আমার স্ত্রীও প্রায় আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার নিরাপত্তা নিয়েও আমি উদ্বিগ্ন। তাই বিষয়টি থানাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

মেহেদী হাসান ও সুলতানা হাসানের বিরুদ্ধে ওঠা ৬ লাখ টাকা ফেরত না দেওয়া, কারখানার মালামাল বিক্রি ও হুমকির অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একইভাবে দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আখতারুজ্জামানের বক্তব্যের জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

অভিযোগের সত্যতা, দায়-দায়িত্ব এবং এ বিষয়ে কোনো আইনগত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

সম্পর্কিত খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আবুল খায়ের 

নির্বাহী সম্পাদক: 
বার্তা প্রধান:

অফিস: বাড়ি ২৫ (দ্বিতীয় তলা), সড়ক ৫, সেক্টর ৬, উত্তরা, ঢাকা।

যোগাযোগ: ০১৭১৫৩৬৩০৭৯

বিজ্ঞাপন: ০১৮২৬৩৯৫৫৪৯

Email: khair.hrm@gmail.com

info@dainikprotibimbo.com

protibimboprokash.com

ফেসবুকে আমরা

©2025 Dainik Protibimbo – All Right Reserved. Designed and Developed by Bangla Webs