সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিএম মহিউদ্দিন মন্টির যৌথ সঞ্চালনায় এবং জেলা কমিটির সভাপতি ওমর ফারুকী তাপসের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কথাগুলো বলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসনাত বাবুল, নবনির্বাচিত সভাপতি এনামুল হক ফারুক, সিনিয়র সাংবাদিক সহিদুল্লাহ, প্রেসক্লাবের সাবেক আহ্বায়ক ও দৈনিক শিরোনাম সম্পাদক নীতিশ সাহা, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সাদিক হোসেন মামুন, কুমিল্লার জমিনের সম্পাদক শাহজাদা এমরান ও দৈনিক সমাজ কণ্ঠের সম্পাদক জসিম উদ্দিন চাষীসহ সাংবাদিক নেতারা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া কুমিল্লার ১০ সাংবাদিককে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে সরকারকে ৯০ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর। আগামী নভেম্বরের মধ্যে আইন প্রণয়ন না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে আইন প্রণয়নে বাধ্য করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট) কুমিল্লায় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নবগঠিত জেলা কমিটির পরিচিতি ও আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ আল্টিমেটাম দেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, সাংবাদিকদের কাছে ভালো সংবাদ প্রত্যাশা করা হবে, অথচ তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে না—এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জাতির বিবেক হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকরা বছরের পর বছর হামলা, মামলা, হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। কিন্তু তাদের সুরক্ষায় কার্যকর কোনো আইন বা কাঠামো গড়ে ওঠেনি।
তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের জন্য কোনো সরকারই কার্যকরভাবে কিছু করেনি। গত ৫৫ বছর ধরে সাংবাদিকদের নানা আশ্বাস দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। সাংবাদিক সুরক্ষা আইন, নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন এবং পেশাদার সাংবাদিকদের তালিকা তৈরিতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সাংবাদিকতার বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে আহমেদ আবু জাফর বলেন, দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা ও নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি সাংবাদিক হত্যার মতো স্পর্শকাতর ঘটনাগুলোরও অনেক মামলার বিচার দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। অনেক ক্ষেত্রে আসামিরা জামিনে বের হয়ে যাচ্ছে।
তার দাবি, স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত ৫৩ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন। কিন্তু এসব হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশ মামলার বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি। সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন বিমাতৃসুলভ আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি সাংবাদিকতার পেশাগত মর্যাদা ও অস্তিত্ব রক্ষায় অবিলম্বে গণমাধ্যম কমিশন গঠনের দাবি জানান। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের জন্য একটি কার্যকর সুরক্ষা কাঠামো তৈরি, নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন এবং পেশাদার সাংবাদিকদের তালিকা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, “আমি সাংবাদিকদের পাশে আছি, ইনশাআল্লাহ থাকবো।”
এ ছাড়া বক্তব্য দেন জি কে রাসেল, কাজী সালাহ উদ্দিন নোমান, সিকান্দার আলী কাবুল ও ফাতেমা আক্তার।
সভায় নবগঠিত কুমিল্লা জেলা সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির ১১১ সদস্যের কার্যকরী পর্ষদ ও সদস্যদের পরিচিতি অনুষ্ঠিত হয়। জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক সংগঠনের সাংগঠনিক রূপরেখা তুলে ধরেন।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু সাংবাদিক সমাজের দাবি নয়; অবাধ, স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম নিশ্চিত করার জন্য এটি রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব। তাই সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

