ভেনেজুয়েলায় আজ শনিবার ভোরে ‘বড় পরিসরে’ হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বিবিসির খবরে বলা হয়, মাদুরোকে কীভাবে ধরা হয়েছে বা তাঁকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে গ্রেপ্তার করার বিষয়ে তথ্য দেওয়ার জন্য ৫ কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ভেনেজুয়েলা সরকার তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
আজ ভোরে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর রাজধানী কারাকাসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় বিকট বিস্ফোরণের পর ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। স্থাপনা দুটির একটি হলো শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত লা কারলোটা সামরিক বিমানঘাঁটি।
অন্য সামরিক ঘাঁটি হলো ফুয়ের্তে তিউনা সামরিক ঘাঁটি। এটিতেই প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো দীর্ঘদিন ধরে থাকেন বলে মনে করা হচ্ছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় স্থল অভিযানের ব্যাপারে বারবার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়েছে, তাঁর বিচার হবে: রুবিও বরাতে মার্কিন সিনেটরের দাবি
যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির নেতা সিনেটর দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। বিচারের জন্য তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়েছে। ওই সিনেটর জানান, তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জেনেছেন।
ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের সিনেটর মাইক লি আজ শনিবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানান, ‘তিনি (মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও) আমাকে জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী নিকোলা মাদুরোকে গ্রেপ্তার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি অপরাধের মামলায় তাঁর বিচার করা হবে। আজ রাতে আমরা যে সামরিক অভিযান দেখেছি, তা মূলত এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে চালানো হয়েছিল।’
সিনেটর লি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপ সম্ভবত সংবিধানের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদের আওতায় পড়ে, যা কোনো আসন্ন হামলা থেকে মার্কিন কর্মী ও নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা দেয়।’
তবে এর আগে সকালে সিনেটর লি এই হামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, যুদ্ধ ঘোষণা বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের আগাম অনুমতি ছাড়াই এই হামলা চালানোর কোনো সাংবিধানিক যুক্তি আছে কি না।

