ইরানকে ৯০টি হেলিকপ্টার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থা দিতে রাজি রাশিয়া

by protibimbo
0 মন্তব্য 16 বার পড়া হয়েছে

ইরানকে হেলিকপ্টার থেকে নিক্ষেপযোগ্য নির্ভুল নিশানার ক্ষেপণাস্ত্রের ৯০টি উৎক্ষেপণব্যবস্থা সরবরাহে সম্মত হয়েছে রাশিয়া। ফাঁস হওয়া রুশ প্রতিরক্ষা শিল্পের অভ্যন্তরীণ নথির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও দ্য গার্ডিয়ান।

রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিমপেলের উৎপাদনসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করেছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। এসব নথিতে দেখা যায়, ২০২৪ সালের মে মাসে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থার যন্ত্রাংশ সরবরাহ দ্রুত করার অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।

চিঠির সঙ্গে যুক্ত ২০২৪-২৫ সালের উৎপাদন পরিকল্পনায় ‘কে-১০’ সাংকেতিক নামে একজন বিদেশি ক্রেতার জন্য ৯০টি উৎক্ষেপণব্যবস্থা বরাদ্দের তথ্য রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রোসোবোরোনএক্সপোর্ট ইরানকে বোঝাতে ‘কে-১০’ সংকেত ব্যবহার করে।

ইউক্রেনের বেসরকারি গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান ডালাস অ্যানালিটিকস এসব নথি সংগ্রহ করে দ্য গার্ডিয়ানকে সরবরাহ করেছে। নথিতে ইরানের কাছে এলএমইউআর ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণব্যবস্থা পাঠানোর পরিকল্পনার বিস্তারিত রয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি ‘ইজদেলিয়ে ৩০৫’ নামেও পরিচিত।

Banner

এগুলো নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম এবং চলমান লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে। রাশিয়ার এমআই-২৮ আক্রমণকারী হেলিকপ্টারে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। ইরানও এ ধরনের হেলিকপ্টার পরিচালনা করে।

ভিমপেলের ২০২৪ সালের মে মাসে তৈরি করা উৎপাদন সূচিতে ‘কে-১০’ রপ্তানি চুক্তির আওতায় ৯০টি উৎক্ষেপণব্যবস্থা সরবরাহের কথা উল্লেখ রয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এগুলো সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। অন্য কয়েকটি অভ্যন্তরীণ নথিতেও ‘কে-১০’ বলতে ইরানকে বোঝানো হয়েছে।

তবে এসব নথি থেকে উৎক্ষেপণব্যবস্থাগুলো শেষ পর্যন্ত তেহরানে পৌঁছেছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একই নথিপত্রের আরেকটি উৎপাদন সূচিতে ২০২৩ সালে ইরানের জন্য ছয়টি ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ বিমান তৈরির তথ্য রয়েছে। প্রকাশ্যে আসা বিমান সরবরাহের খবরের সঙ্গে এ তথ্যের মিল রয়েছে।

নথিগুলো মস্কো ও তেহরানের সামরিক সহযোগিতার গভীরতা সম্পর্কে নতুন তথ্য দিয়েছে। এমন এক সময়ে এ তথ্য সামনে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করছে ওয়াশিংটন।

পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করছেন, ইরানকে ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়া দেশগুলোর একটি রাশিয়া। এ সংঘাত মস্কোকে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সুবিধা এনে দিয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এতে রাশিয়ার তেল বিক্রি থেকে আয়ও বাড়ছে। এই অতিরিক্ত রাজস্ব ইউক্রেন যুদ্ধে অর্থায়নে ক্রেমলিনকে সহায়তা করতে পারে এবং রাশিয়ার বাজেটের ওপর চাপ কিছুটা কমাতে পারে।

সম্পর্কিত খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আবুল খায়ের 

নির্বাহী সম্পাদক: 
বার্তা প্রধান:

অফিস: বাড়ি ২৫ (দ্বিতীয় তলা), সড়ক ৫, সেক্টর ৬, উত্তরা, ঢাকা।

যোগাযোগ: ০১৭১৫৩৬৩০৭৯

বিজ্ঞাপন: ০১৮২৬৩৯৫৫৪৯

Email: khair.hrm@gmail.com

info@dainikprotibimbo.com

protibimboprokash.com

ফেসবুকে আমরা

©2025 Dainik Protibimbo – All Right Reserved. Designed and Developed by Bangla Webs