নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ২০২৬ সালের শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কাদরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মমতাজ বেগম।
উপজেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের নির্ধারিত মূল্যায়ন, বিভিন্ন সূচক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের পর এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
উত্তর শাহাপুর গ্রামের গৃহবধূ মমতাজ বেগমের এ অর্জনে পরিবার, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে। মমতাজের স্বামী ১১৬/৮,কলেজরোড উত্তর শাহাপুর,গ্রামের প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর বাবুর স্ত্রী।২০০১ সালে বধু হয়ে নোয়াখালী কবির হাটের মরহুম আলী আকবরের এক মাত্র কন্যা এই গ্রামে আসেন।জাহাঙ্গীর বাবু এ সি আই পি এল সি, কঞ্জুমার ব্রান্ড,সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রজেক্ট ম্যানাজার হিসাবে কর্মরত আছেন।
মমতাজ বেগম ওরফে মুন্নি সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব পালন, দুই কন্যার লালন-পালন, শিক্ষা ও চিকিৎসার দেখভালের পাশাপাশি শিক্ষকতা পেশায় নিষ্ঠা, দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে তিনি এই স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।
পারিবারিক জীবনের নানা ব্যস্ততা সামলে বড় মেয়ে সাভার সি আর পি অধ্যায়নরত, ছোট মেয়ে এইচ এস সি পরীক্ষার্থী, মাইজদী, সেনবাগ কলেজ রোড,উত্তর শাহাপুর নিজবাড়ি, মিরসরাই স্বামীর কর্মস্থল ও মাষ্টার্স ইতিহাস অধ্যায়নে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানের দায়িত্ব ও পারিবারিক প্রয়োজন সমন্বয় করে তিনি কর্মজীবনে যে নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের পরিচয় দিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
উল্লেখ্য, মমতাজ বেগম এর আগে ২০২২ সালে সেনবাগ উপজেলা, নোয়াখালী জেলা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ে “সংগ্রামী নারী জয়িতা” সম্মাননায় ভূষিত হন। তাঁর এই নতুন অর্জন শিক্ষকতা পেশায় কর্মরত নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে ।
এদিকে, একইসঙ্গে কাদরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আল আমিন স্যার ২০২৬ সালে সেনবাগ উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর এ অর্জনেও বিদ্যালয় পরিবার ও শিক্ষাঙ্গনে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে।
শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও সমৃদ্ধ করতে যারা কঠোর পরিশ্রম, তদারকি ও নিষ্ঠার মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন, সেই সকল জ্ঞানী, গুণী ও সম্মানিত, শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষক,কাব শিক্ষকদের প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
শিক্ষাক্ষেত্রে,কর্মক্ষেত্রে, যে কোন ক্ষেত্রে সন্মান সকলের জন্য সন্মানের।শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের এই স্বীকৃতি ভবিষ্যতেও তাঁদের কর্মস্পৃহা ও সেবার মান আরও সমৃদ্ধ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
সার্টিফিকেট এওয়ার্ড, পুরস্কার, পদন্নতি,প্রনোদনা,আর্থিক সুবিধা কর্মক্ষেত্রে মানসিক প্রশান্তি দেয়।সন্মান দিয়ে সন্মান নিতে হয়,কর্মক্ষেত্রে পুরুষের চেয়ে নারিদের চ্যালেঞ্জ আজীবন বেশি।
শুভেচ্ছা সবার জন্য।

