ব্যাংকের ৫ লাখ কোটি টাকা চুরি হয়ে গেছে

by protibimbo
০ মন্তব্য ১২ বার পড়া হয়েছে

বন্ধ শিল্প চালু করতে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা * ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান * ২৫ লাখের বেশি কর্মসংস্থানের আশা

বন্ধ কলকারখানা চালুসহ অর্থনীতি চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শনিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এ ঘোষণা দেন। তিনি আশা করেন, এ উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে দেশে ২৫ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা চুরি হয়েছে। ঋণের এক-তৃতীয়াংশ নেই হয়ে গেছে। এসবের বিপরীতে পর্যাপ্ত সম্পদ নেই। এসব ঋণ পুরোটাই এখন খেলাপি। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার, ড. হাবিবুর রহমান, মো. জাকির হোসেন চৌধুরী, ড. মো. কবির আহম্মদ, নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বন্ধ কলকারখানা চালুর পাশাপাশি কৃষি খাত, পোশাক, সিএমএসএমই ও পরিবেশবান্ধব, সৃজনশীল অর্থনীতি (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) খাতে ঋণ ও অর্থায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

Banner

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে। আগে যেখানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৮ শতাংশ, পরে তা কমে ৪ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসে। বর্তমানে তা আরও কমে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, স্টিল, সিরামিক, তথ্যপ্রযুক্তি ও উৎপাদন খাত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।

গভর্নর বলেন, ব্যাংক খাতে চাপ বেড়েছে, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে, অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটেছে ও আমানতকারীদের আস্থাও কমেছে। উচ্চ সুদের কারণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা ব্যবসা সম্প্রসারণে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এ বাস্তবতায় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে ও বন্ধ শিল্পকারখানা সচল করতে এ বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় দেওয়া হবে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা, সিএমএসএমই খাতে ৫ হাজার কোটি টাকা, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক খাতে ১০ হাজার কোটি টাকা, রপ্তানি বহুমুখীকরণে ৩ হাজার কোটি টাকা ও উত্তরবঙ্গকে কৃষি হাব হিসাবে গড়ে তুলতে আরও ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব ১৯ হাজার কোটি টাকার সহায়তা তহবিলে প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট রিফাইন্যান্সে ৫ হাজার কোটি টাকা, কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতে ২ হাজার কোটি টাকা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানে ১ হাজার কোটি টাকা, গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ১ হাজার কোটি টাকা, হিমায়িত মাছ ও ফিশ এক্সপোর্টে ২ হাজার কোটি টাকা, পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন বিনিয়োগে ১ হাজার কোটি টাকা, বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা, স্টার্টআপ খাতে ৫০০ কোটি টাকা ও সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমিতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

গভর্নর বলেন, ক্রিয়েটিভ ইকোনমির জন্য বরাদ্দ ৫০০ কোটি টাকা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে অনুদান হিসাবে দেওয়া হবে। এটি ঋণ নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, তহবিলটি পুরোপুরি কার্যকর হলে ২৫ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে শিল্পকারখানা পুনরায় চালু, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে। বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য বরাদ্দ ১ হাজার কোটি টাকা থেকে প্রায় এক লাখ মানুষের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করা হবে। অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনৈতিক কাজে ঋণ দেওয়া হবে আনসার-ভিডিপি ব্যাংকের মাধ্যমে। এতে আনসার ও ভিডিপির লাখো সদস্য উপকৃত হবেন বলে জানানো হয়েছে। সুদের হারের বিষয়ে গভর্নর বলেন, পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক ৪ শতাংশ সুদে অর্থ দেবে। ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ স্প্রেড রাখতে পারবে। এতে বড় ঋণগ্রহীতারা ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে ক্ষুদ্র ঋণের ক্ষেত্রে পরিচালন ব্যয় বেশি হওয়ায় সুদের হার কিছুটা বেশি হতে পারে। বিশেষ করে ছোট উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানভিত্তিক ঋণের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি সুদ নির্ধারণ করা হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো আবার চালু হবে, রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাড়বে, গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা হবে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি ফিরে আসবে।

সম্পর্কিত খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আবুল খায়ের 

নির্বাহী সম্পাদক: 
বার্তা প্রধান:

অফিস: বাড়ি ০৭, সড়ক ১৪/সি, সেক্টর ৪,

উত্তরা, ঢাকা-১২৩০।

যোগাযোগ: ০১৭১৫৩৬৩০৭৯

বিজ্ঞাপন: ০১৮২৬৩৯৫৫৪৯

Email: khair.hrm@gmail.com

info@dainikprotibimbo.com

protibimboprokash.com

ফেসবুকে আমরা

©2025 Dainik Protibimbo – All Right Reserved. Designed and Developed by Bangla Webs