আইএমএফের শর্ত মেনে কি পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে পারবে সরকার?

by protibimbo
0 মন্তব্য 20 বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নতুন ঋণ কর্মসূচির শর্ত পূরণ করে নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে পারবে কিনা, সেই প্রশ্ন এখন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে দুর্বল রাজস্ব আহরণ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ব্যাংকিং খাতের চাপের মধ্যে সরকারের অর্থায়ন সক্ষমতা খতিয়ে দেখতে ঢাকায় আসছে আইএমএফের প্রতিনিধি দল।

আইএমএফ থেকে ৪৫০-৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১২-১৬ জুলাই আইএমএফের বাংলাদেশ মিশন প্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করবে। সফরের প্রথম দিন অর্থ বিভাগের সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে। প্রথম বৈঠকে রাজস্বনীতি, বাজেট, মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো এবং অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক অর্থায়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে।

এরপর দ্বিতীয় বৈঠকের পুরো সময়জুড়ে থাকবে নবম পে-স্কেল, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং এ খাতে চলতি অর্থবছরে বাজেট বরাদ্দ। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চলতি বাজেটে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন।

জুলাই থেকেই পে-স্কেল কার্যকর। এ প্রসঙ্গে অর্থ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আইএমএফের সঙ্গে বৈঠকে সরকারের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো, রাজস্ব বৃদ্ধির কৌশল, বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং নবম পে-স্কেলের অর্থায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। সরকারের আশা, এসব আলোচনার ভিত্তিতে নতুন ঋণ কর্মসূচির বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।

Banner

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে নতুন পে-স্কেলের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন হবে। এ অর্থ বাজেটের অপ্রত্যাশিত ব্যয় খাতে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নবম পে-স্কেল পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। আগামী অর্থবছরের মধ্যে ধাপে ধাপে পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এমন বাস্তবতায় আইএমএফ জানতে চাইছে, রাজস্ব আদায়ের বর্তমান ধারা, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, মূল্যস্ফীতি ও কমে যাওয়া প্রবৃদ্ধির মধ্যে অতিরিক্ত এই ব্যয় অর্থনীতির ওপর কতটা চাপ সৃষ্টি করবে এবং সরকার তা কীভাবে মোকাবিলা করবে।

এ প্রসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা রাজস্ব আহরণ। জিডিপির তুলনায় কর আদায়ের হার অনেক কম। অন্যদিকে সরকারি ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ফলে পে-স্কেলের মতো বড় ব্যয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের আগে অর্থায়নের উৎস নিশ্চিত করা জরুরি। নইলে বাজেট ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়ে যাবে।

সম্পর্কিত খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আবুল খায়ের 

নির্বাহী সম্পাদক: 
বার্তা প্রধান:

অফিস: বাড়ি ০৭, সড়ক ১৪/সি, সেক্টর ৪,

উত্তরা, ঢাকা-১২৩০।

যোগাযোগ: ০১৭১৫৩৬৩০৭৯

বিজ্ঞাপন: ০১৮২৬৩৯৫৫৪৯

Email: khair.hrm@gmail.com

info@dainikprotibimbo.com

protibimboprokash.com

ফেসবুকে আমরা

©2025 Dainik Protibimbo – All Right Reserved. Designed and Developed by Bangla Webs