৮
মোহাম্মদ নূরুল হুদা ডিউক (ডিউক হুদা) সম্মুখ সারির জুলাই যোদ্ধা এবং বাঙালা সালতানাতের স্বাধীন সুলতান মহাবীর খাজা উসমান খান লোহানী’র বংশধর ও দেশ বরেণ্য রাজনীতিবিদ ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন মহান ভাষা আন্দোলন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত প্রাদেশিক আইন পরিষদ সদস্য (এমএলএ) আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মানব হিতৈষী সমাজ সংস্কারক প্রখ্যাত চিকিৎসক বিপ্লবী জননেতা ডাক্তার রিয়াজউদ্দীন আহমদ এর কনিষ্ঠ পুত্র।
ডাক্তার রিয়াজউদ্দীন আহমদ (জন্ম:২৮শে সেপ্টেম্বর ১৯০৫ সাল, মৃত্যু: ১লা জানুয়ারী ১৯৯৫ সাল)
অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজের আলোকবর্তিকারূপে আবির্ভূত হন প্রচার বিমুখ দেশপ্রেমিক, সৎ, যোগ্য, র্নিভীক একজন মহান মানব হিতৈষী সমাজ সংস্কারক দানবীর ডাক্তার রিয়াজউদ্দীন আহমদ । যার পেশা ছিল ডাক্তারী কিন্তু নেশা ছিল জনসেবা। তৎকালীন সমাজে তিনি রিয়াজ ডাক্তার নামে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের অতি আপনজন হিসাবে সমধিক পরিচিত ছিলেন।
দেশ, সমাজ ও জনগণের জন্য উৎসর্গকৃত মানবদরদী এ মানুষটির গৌরবময় বর্ণাঢ্য জীবনের পূর্বাপর কথা তথা জীবন গাঁথা প্রথমে আলোচনার প্রয়োজন। বাঙ্গালা সালতানাতের স্বাধীন শাসক সুলতান উসমান খান (১৫৫৬-১৬১২) ছিলেন তাঁর পূর্ব পুরুষ। তাঁর শরীরে রাজ রক্ত প্রবাহিত হওয়া সত্বেও তাঁর মধ্যে কোন বংশগৌরব, উচ্চাভিলাষ, অহংকার, লোভ, হিংসা, স্বার্থপরতা ছিল না। পূর্ব পুরুষদের মতো ব্যবহারে অমায়িক, আচরণে বিনয়ী, নির্ভীক দৃঢ়চেতা এ মানুষটি দেশের স্বাধীনতা অর্জন ও তা রক্ষার্থে, আগ্রাসী অপশক্তির অপকর্ম প্রতিরোধে, অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম নির্যাতনের মুলোৎপাটনে, আত্মনির্ভরশীল সুখী-সমৃদ্ধশালী সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে জনগণের সামনের কাতারে সামিল হয়ে সাধারণ মানুষের সাথে একাত্মা হয়ে গিয়েছিলেন। তৎকালীন সমাজে সত্য ও ন্যায়ের প্রতীক- ডাক্তার রিয়াজ উদ্দীন আহমদ সাধারণের মধ্যে মিশে গিয়েও আজও হয়ে আছেন সকলের চোখে অসাধারণ। এই অসাধারণ মানুষটির ঘটনাবহুল জীবনের কথা, কাজ-কর্ম, তাঁর সাধারণ জীবন যাপন, সাধারণ বাসস্থান, সাধারণ পোশাক তাঁর ব্যবহার্য সামগ্রী তাঁর বিভিন্ন লেখনি তাঁর ও তাঁর পূর্ব পুরুষদের জীবন কথা জনকল্যাণে নিবেদিত তাঁর বিস্ময়কর স্মৃতিকথা কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার পূর্বে যদি সংরক্ষণ করা যায় তবে তা হবে বাঙ্গালীর অতীত গৌরবের অন্যতম নিদর্শন, স্বাধীনতা প্রিয় সংগ্রামী বাঙ্গালীর গৌরবময় শৌর্য-বীর্যের ইতিহাস হবে আরো সমৃদ্ধ। তৎকালীন অন্ধকারাচ্ছন্ন সমাজকে আলোকিত করার ব্রত নিয়ে জনসেবায় নিজ জীবনকে উৎসর্গ করা কিংবদন্তী কালজয়ী এ রাজ পুরুষকে নিয়ে গবেষনা করলে মহা মূল্যবান ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যাবে। ডাক্তার রিয়াজ উদ্দীন আহমদ এবং তাঁর পূর্ব পুরুষদের বিশালাকারের গৌরবদীপ্ত জীবন কথা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে আংশিক ভাবে যতটুকু সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে ততটুকু তুলে ধরে আশা করছি- স্বাধীনতার জন্য, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য, হাসিমুখে জীবন উৎসর্গকারী এ বংশের বীরত্ব গাঁথায় অনুপ্রাণিত হয়ে দেশবাসী স্বদেশ প্রেমে আলোকিত হবে, সেই আলোয় নতুন প্রজন্ম তাদের পথ চিনে নিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে করবে সুরক্ষিত, দেশের প্রয়োজনে হাসিমুখে জীবন উৎসর্গের জন্য থাকবে সদা প্রস্তুত।
ডাক্তার রিয়াজউদ্দীন আহমদ ছিলেন বাংলাদেশের গৌরবদীপ্ত বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ব; চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানার মোড়ভাঙ্গা নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাঁশবাড়িয়া উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয় চুয়াডাঙ্গা ভি.জে উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয়, কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ, কলকাতা নীলরতন সরকারী মেডিক্যাল কলেজ এর কৃতি ছাত্র (প্রথম গ্রেডের মহসিন বৃত্তি প্রাপ্ত); স্বনামখ্যাত চিকিৎসক, বরেণ্য চিন্তাবিদ, বিদ্যোৎসাহী ও শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও রাজনীতিবিদ, প্রাদেশিক আইন পরিষদ সদস্য (এম,এল,এ, যুক্ত ফ্রন্ট-১৯৫৪) মেডিক্যাল অফিসার কুষ্টিয়া জেলা বোর্ড হাসপাতাল গাংনী, প্রেসিডেন্ট ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদ; হাট বোয়ালিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়; হাট বোয়ালিয়া দাতব্য চিকিৎসালয় বর্তমানে (উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপকেন্দ্র) হাট বোয়ালিয়া জামে মসজিদ; হাট বোয়ালিয়া কালাজ্বর চিকিৎসা কেন্দ্র (অধুনালুপ্ত) এবং বহু জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা; হাট বোয়ালিয়া কলেজ ও বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্বপ্নদ্রষ্টা; আলমডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠের রূপকার। শের-ই-বাংলা ,এ.কে. ফজলুল হক, মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী প্রমূখ দেশবরেণ্য নেতৃবৃন্দের ঘনিষ্ট সহকর্মী। ডাক্তার রিয়াজউদ্দীন আহমদ একজন চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, বিদ্যোৎসাহী, মানবব্রতী, জনদরদী সমাজসেবক, রাজনীতিবিদ হিসাবেই শুধু পরিচিত নন, নিজ অঞ্চল এবং বহুদূর বিস্তত এলাকার ছোট-বড় শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ধনী-নির্ধন এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমসাময়িক সমাজের র্সবস্তররে মানুষের উপর তাঁর অসামান্য প্রভাব তাঁকে সকলের মাঝে চিরকালীন করে বাঁচিয়ে রেখেছে।
ডাক্তার রিয়াজউদ্দীন আহমদ এর পূর্ব পুরুষ মোহাম্মদ শাহ্ মধ্য এশিয়ার খোয়ারিযম সাম্রাজ্যের অধিপতি ছিলেন। এই সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল সমরখন্দ নগরী। স্বয়ং চেঙ্গিজ খানের নেতৃত্বাধীন মোঙ্গল বাহিনীর হামলার মুখে রাজ্যহারা হয়ে মোহাম্মদ শাহের তিনপুত্র ১২২০ সালে সপরিবারে দিল্লীতে আশ্রয় গ্রহণ করেন। দিল্লীর তৎকালীন সুলতান শামসুদ্দীন ইলতুতমিশ তাঁদের সসম্মানে গ্রহণ করেন। বড় পুত্র জালালউদ্দীন পিতৃরাজ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন এবং গুপ্তঘাতকের হাতে কুর্দিস্থানে নিহত হন। দ্বিতীয় পুত্র শাকির উদ্দীন অসুখে ভুগে দিল্লীতে শেষ নিঃশাস ত্যাগ করেন। কনিষ্ঠ পুত্র মুয়িবউদ্দীন বাঙ্গালা মুলুকে চলে আসেন। দিল্লীর সুলতান ইলতুতমিশের পুত্র সুলতান নাসির উদ্দীন তখন বাংলার শাসক। শাহযাদা মুয়িবউদ্দীনের পুনর্বাসনের জন্য তিনি মালদহ এলাকাতে প্রচুর ভু-সম্পত্তি দান করেন। গিয়াস উদ্দীন আযম শাহ যখন বাংলার সুলতান তখন শাহযাদা মুয়িবউদ্দীনের উত্তর পুরুষগণ তৎকালীন রাজধানী সোনারগাঁও-এর কাছাকাছি বসবাসের জন্য মালদহ এলাকা পরিত্যাগ করে বর্তমানের টঙ্গী এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। ১২২০ থেকেই এই পরিবার বাংলা মুলুককে তাদের দেশ এবং বাংলা ভাষাকে তাদের মাতৃভাষা হিসাবে গ্রহণ করে। বাংলার সামাজিক জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হয়ে বাংলার সংস্কৃতির সাথে মিশে তৎকালীন ও বর্তমানের মানদন্ডে সত্যিকারের “বাঙালী” হয়ে ওঠে এই পরিবারের সকল প্রজন্মের সকল সদস্য। এভাবে প্রায় তিনশত বছর অতিবাহিত হয়। এ বংশের বিভিন্ন জন বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে দেশ সেবায় নিজেদেরকে নিয়োজিত করে। এ সময় এ বংশেরই রাজপুরুষ কতলু খান লোহানী বাঙ্গালা সালতানাতের অন্যতম প্রদেশ উড়িষ্যার শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করে শাসনকর্তা হিসাবে সু-শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর সন্তান বাঙ্গালা সালতানাতের স্বাধীন শাসক মহাবীর খাজা উসমান খান লোহানী ১৫৫৬ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। মুঘল সাম্রাজ্যের উত্থানের কালে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষাকল্পে যে কয়েকজন অকুতোভয় বাঙ্গালী বীর নিজেদের জীবন,সম্পদ সবকিছু উৎসর্গ করে দিয়ে দিল্লীকেন্দ্রিক মুঘল সাম্রাজ্যবাদী, আধিপত্যবাদী ও সম্প্রসারণবাদী সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে আজীবন আপসহীনভাবে যুদ্ধ করে গেছেন উসমান খান তাদের মধ্যে অগ্রগন্য। যুদ্ধ বিধস্ত বাংলার জনজীবনে সুখ ও শান্তি-শৃংখলা তিনি রক্ষা করেছেন কঠোরভাবে। দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদা এবং জনগণের নিরাপত্তা রক্ষার্থে তিনি শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে জীবন উৎসর্গ করেছেন। তিনি তাঁর দেহের তাজা রক্ত যুদ্ধক্ষেত্রে ঢেলে দিয়ে শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর তুলনা কিংবা দ্বিতীয় কোন নজির বাংলার ইতিহাসে নেই। আকবর যে বছর দিল্লীর সিংহাসনে আরোহন করেন, সেই বছর উসমান খানের জন্ম হয়।আকবরের পুত্র জাহাঙ্গীরের শাসন আমলের সপ্তম বর্ষে অর্থাৎ ১৬১২ সালে বাংলার মুঘল সুবেদার ইসলাম খানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কামানের গোলায় সরাসরি আঘাতে এই মহান বীর শাহাদাৎ বরণ করেন। উসমান খান বাঙ্গালা বিহার উড়িষ্যার অধিপতি কররানী রাজবংশের সুলতান দাউদ খান কররানীর কন্যা জুনায়েদ খানের ভগ্নি রাজকন্যা জায়িদার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
উসমান খানই শেষ বাঙালী শাসক যাঁর নামে জুমআ ও ঈদের নামাজে খুতবা পাঠ করা হয়েছে। জনগণ তাঁকে দেশের সুলতান হিসাবে ভাবতেই অভ্যস্থ ছিল এবং ভালবাসতো। তাঁর নামে খুতবা পড়া হলেও উসমান খান নিজেকে কোনো সময় “সুলতান” বলে ঘোষনা দেন নি কিংবা তেমন দাবীও করেন নি। তিনি নিজেকে নায়িব-ই-সুলতান বা সুলতানের সহকারী হিসাবে পরিচয় দিয়ে দেশ শাসন করতেন। আগ্রাসী মুঘল শক্তি উসমান খানকে মূর্তিমান বিভিষিকার মতো ভয় করতো। মুঘলদের অনুগ্রহে নব উত্থিত একটি ধনিক শ্রেণী তাকে দুশমন মনে করলেও ধর্ম-গোত্র-বর্ণ-শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে বাঙ্গালা, আসাম ও উড়িষ্যার সাধারণ মানুষ ভালবাসা, ভক্তি ও শ্রদ্ধার নিদর্শনস্বরূপ তাঁর নামের পূর্বে “খাঁজা” বা “সম্মানিত ব্যক্তি” বিশেষণটি যোগ করে তাঁকে “খাঁজা উসমান” নামে অভিহিত করতো। নিজে রাজরক্তের অধিকারী হওয়া স্বত্তেও তিনি আগ্রাসী অপশক্তির প্রতিরোধ এবং দেশের স্বাধীনতা রক্ষার্থে জনগণের কাতারে সামিল হয়ে সাধারণ মানুষের সাথে একাত্মা হয়ে গিয়েছিলেন। ব্যবহারে অমায়িক এবং আচরণে বিনয়ী হওয়া সত্বেও দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে ছিলেন ভয়ংকর জেদী, চরম একরোখা এবং সর্বাত্মকভাবে আপসহীন। দিল্লী কেন্দ্রিক সাম্রাজ্যবাদী, সম্প্রসারণবাদী ও আধিপত্যবাদী মুঘল সম্রাটগণ তৎকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও ধনী দেশ বাঙ্গালা সালতানাতকে করতলগত করার জন্য যে লোলুপ দৃষ্টি নিক্ষেপ করেছিল, সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ ও তাঁর পুত্র নুসরত শাহের মৃত্যুর পরে তা তীব্রতর হয়ে সামরিক আগ্রাসনে পরিণত হয়। বাংলা দখলের পরে দিল্লী থেকে একের পর এক অভিযান পরিচালনা করা হয়।
১৫৭৭ সালের ১২ই জুলাই তারিখে অনুষ্ঠিত রাজমহলের যুদ্ধে সুলতান সুলায়মান খান পরাজিত ও নিহত হওয়ার পরে মুঘলদের সামরিক বিজয় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠে। সুলায়মান খানের পুত্র বায়াজীদ খানও নিহত হন। তখন বাংলার সুলতান হন সুলায়মান খানের অপর পুত্র দাউদ খান। মুঘলদের বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে দাউদ খানও নিহত হন। ওই একই যুদ্ধে দাউদ খানের পুত্র জুনায়িদ খান আহত হন এবং তিনদিন পরে মৃত্যুবরণ করেন। আগ্রাসী মুঘল বাহিনীর বিজয় অভিযানের মুখে নেতৃত্বশূন্য আশাহীন উদভ্রান্ত পাগলপরা বাঙালী জাতিকে সর্বক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এসময়ে অসমসাহস ও আশার আলো নিয়ে এগিয়ে আসেন সুলতান জুনায়িদ খানের ভগ্নি শাহজাদী জায়িদার স্বামী অর্থাৎ সুলতান দাউদ খানের জামাতা বাঙ্গালী বীর উসমান খান। মুঘলদের বিরুদ্ধে নতুন করে শুরু হয় সর্বাত্মক প্রতিরোধ যুদ্ধ। জীবনের পরবর্তী ত্রিশ বছর অর্থাৎ ৫৬ বছরের জীবনের শেষ ত্রিশ বছরে উসমান খান তার সংগ্রাম অব্যাহত রাখেন। আগ্রাসী মুঘল বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে যেয়ে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পযর্ন্ত তাকে সৈন্য সামন্ত ও পরিবার পরিজন সহ ছুটতে হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় উসমান খান বর্তমানের চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙা উপজেলার ভাংবাড়িয়া ও হারদি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যবর্তী স্থানে একটি বিশ্রাম নিবাস ও প্রতিরক্ষা দুর্গ স্থাপন করেন। মাথাভাঙা নদীর বড়শীর মত বাঁকের তিনদিক নদী বেষ্টিত স্থানে ছিল সেই বিশ্রাম নিবাস ও প্রতিরক্ষা দুর্গ। ওই এলাকায় বহুল পরিচিত হাট বোয়ালিয়া গ্রামের পার্শ্বস্থ বড় বোয়ালিয়া গ্রামের পূর্বদিকে উত্তর-দক্ষিণে প্রলম্বিত স্থানীয় ভাষায় ‘মাটিপালা’ নামে পরিচিত প্রতিরক্ষা গড়ের নিশানা এখনও সেখানে আছে। উল্লখ্যে যে, হাট বোয়ালিয়া ও বড় বোয়ালিয়ার মধ্যবর্তী মাথাভাঙা নদীর অংশটুকু ঊনবিংশ শতকে খনন করা হয়। উসমান খানের সময়ে ওখানে নদী ছিলো না।
সেনাপতি কালাপাহাড়ের মৃত্যুর পরে মহাবীর উসমান খান সরাসরি এবং প্রত্যক্ষভাবে বাংলার সেনাবাহিনীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। সময়টি ছিলো দুর্যোগময়। মুঘলদের নৃশংস অত্যাচারের মুখে বাংলার সেনানায়কগণ বিচ্ছিন্নভাবে যে যার মতো বিভিন্ন দিকে পাহাড় ও জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছিল। উসমান খান তাদের সকলের সাথে যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে সবাইকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করেন। শুরু করেন দখলদার মুঘল বাহিনীর বরিুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ যুদ্ধ। বাংলার স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের সেই যুদ্ধে মুঘলবাহিনী পিছু হটতে থাকে। এই সময়ে মৃত্যু হয় মুঘল সেনাপতি খান জাহানের। সম্রাট আকবর সেনাপতি হিসাবে প্রেরণ করেন খান আজিম মির্জা । তাঁর স্থানে আসে শাহবাজ খান। মুঘলদের নয়া সেনাপতি শাহবাজ খানের নির্দেশে পরিচালিত হয় ব্যাপক গণহত্যা। সকল যুদ্ধ বন্দীকেও হত্যা করা হয়। উসমান খান তাঁর আক্রমনাত্মক ভূমিকা অব্যাহত রাখেন। বাঙ্গালা, আসাম এবং উড়িষ্যাতে তাঁর নামে খুতবা পাঠ চালু হয়। মুঘল দখলাধীন বিহারের কিছু অংশও তিনি দখল করে নেন। ইতোমধ্যে সম্রাট আকবরের মৃত্যু হয়। তাঁর পুত্র সম্রাট জাহাঙ্গীর বাংলার সুবাদার হিসাবে প্রেরণ করেন ইসলাম খানকে। উসমান খানকে দমন করা তাঁর মূল দায়িত্ব ছিল। কিন্তু মুঘল বাহিনী উসমান খানের হাতে পর্যুদন্ত হতে থাকে বছরের পর বছর ধরে। শেষ পর্যন্ত ১০২১ হিজরীর মুহররম মাসের ১০ তারিখে (১৬১২) মুঘলদের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়। সম্মুখ যুদ্ধে মুঘলবাহিনীর পরাজয়ের মুখে হঠাৎ কামানের গোলার সরাসরি আঘাতে উসমান খানের মৃত্যু হয়। উসমান খানের ৫৬ বছরের জীবন ছিল ঘটনাবহুল এবং বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার্থে উৎসর্গীকৃত।
মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসন আমলের সপ্তম বর্ষে ১৬১২ সালে বাংলার মুঘল সুবাদার ইসলাম খানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে উসমান খানের মৃত্যু হলে তাঁর ছোট ভাই ওয়ালী খান, পুত্র মোমরেজ খান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ওই বিশ্রাম নিবাসে আটক রাখা হয়। এই পরিবারের সকলের জন্য উচ্চ সামরিক পদবী ও মর্যাদাসূচক “খাঁন” পদবী ব্যবহার নিষিদ্ধ করে মুঘল শাসকবৃন্দ। উসমান খানের ভাই ওয়ালী খান নিজেও একজন যোদ্ধা ও সেনাপতি ছিলেন। যুদ্ধে যেকোনো সময় মৃত্যু হতে পারে- জীবনের এই অনিশ্চয়তাকে মেনে নিয়ে ওয়ালী খান সারা জীবন অবিবাহিত ছিলেন। মৃদুভাষী, সদালাপী কিন্তু অপরদিকে জেদী ও একরোখা উসমান খানের চাপা ক্রোধও ওয়ালী খানকে বিবাহ করতে রাজী করাতে পারেনি। “খান” পদবী ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়াতে এই পরিবার “মাহমুদ” পদবী গ্রহণ করে। মুঘলদের রোষানলে পড়ে এ বংশের মানুষেরা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে নিজেদের অস্তত্বি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করতে থাকে।
উসমান খানের মৃত্যুর দুই শতাব্দী পরে তাঁরই এক উত্তরসূরী, মোমরেজ খানের বংশধর-আরেক উসমান, উসমান মাহমুদ-নীল চাষীদের বিদ্রোহে নেতৃত্ব দিয়ে নিজ জীবন উৎসর্গ করেন। তখন ইংরেজ আমল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর রাজত্বকাল। ইতোমধ্যে যশোরের রূপদিয়ায় নীলকারখানা স্থাপিত হয়েছে। ঊনিশ শতকের প্রথম দশকেই নীলচাষ ব্যাপকতা লাভ করে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, যশোর, পাবনা, ফরিদপুর নদীয়া, বর্ধমান, মেদিনীপুর, হুগলী ও বীরভূম জেলায় এবং বাংলাদেশের নীল বিশ্ববাজারে অপ্রতিদ্বন্ধী হয়ে উঠে।
ইংরেজরা আবাদী প্রথা আর বারতী প্রথা এই দু’ভাবে নীলচাষ করতো। আবাদী প্রথায় নীলকরেরা দিনমজুর খাটিয়ে নিজেদের খরচে ও তত্তাবধানে চাষ করাতো। পুরুষ মজুরেরা পেতো তিন টাকা আর মহিলা ও শিশু মজুরেরা পেতো দু’টাকা। আর বরাতী প্রথায় নীলকরেরা পাইক বরকন্দাজ দিয়ে বাধ্য করতো সম্পন্ন কৃষকদের নীলচাষে। এটা ছিল বারতী প্রথা। এই প্রথায় চুক্তি অনুযায়ী জমির মালিককে দেয়া হতো অগ্রীম টাকা। এই পুরো প্রক্রিয়াটিই ছিলো ইংরেজদের ভাওতাবাজী। তারা যে দরে নীলের মূল্য দিতো তা ছিলো বাজার দরের থেকে অনেক কম। আর তাছাড়া কৃষক তার নিজ জমিতে নীল ছাড়া অন্য কোনো ফসল উৎপাদন করলে সেখানে ইংরেজরা নিজেদের লোক দিয়ে লাঙ্গল চালিয়ে তা নষ্ট করে নীলচাষ করাতো। নীলের বীজ বরাবরই সরবরাহ করতো নীলকর সাহেবরা। কৃষকরা কেবল আবাদী কিংবা বারতী প্রথা মেনে নীলচাষ করতো।
বছরের পর বছর বাংলাদেশের কৃষকেরা এভাবে নীলকরদের নিপীড়ন সহ্য করে গেছে। কিন্তু এ অবস্থা কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি উসমান মাহমুদ। তিনি নীলকরদের বিপক্ষে জনগণকে সংগঠিত করেন এবং বিদ্রোহ ঘোষনা করেন। বিদ্রোহী নেতা হিসাবে তাঁকে ইংরেজ শাসকরা ১৮২৩ সালে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুঁলিয়ে হত্যা করে। ইংরেজ শাসন ও শোষনের বিরুদ্ধাচরণ বন্ধের জন্যে ইংরেজ শাসকরা বিনা বিচারে তখন ওই পরিবারের আরো অনেক সদস্যকেও গাছের ডালে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করে। জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয় উসমান মাহমুদের ঐতিহাসিক বিশ্রাম নিবাসসহ সকল বসতবাড়ি। নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয় কয়েকটি গ্রাম। ওই স্থান এখন র্পযন্ত শুধু কৃষি জমি। কোন জনবসতি কিংবা ঘরবাড়ি এখন র্পযন্ত সেখানে গড়ে ওঠেনি। ইংরেজদের এই ধ্বংসকান্ডের পরে অবশিষ্ট জীবিত মানুষেরা মাথাভাঙা নদীর বড়শী বাঁকের পূর্বদিকে নতুন গ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন। তারা সেই গ্রামের নাম রাখেন উসমান পুর। এই গ্রাম এখনও সেখানে একই নামে নিজের অস্তত্বি রক্ষা করে চলেছে। উসমান মাহমুদের আত্মীয়-স্বজন ও পরিবারের সদস্য যাঁরা জীবিত ছিলেন, ইংরেজ শাসকদের অত্যাচার মুখে তাঁরা বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে নতুন ভাবে নতুন পরিচয়ে জীবন শুরুকরেন। উসমান মাহমুদের পুত্র আহসান উল্লাহ মাহমুদ তাঁদের মধ্যে একজন। ১৮০৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন আহসান উল্লাহ মাহমুদ। পিতা উসমান মাহমুদকে ইংরেজরা যখন ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়ে হত্যা করে তখন তিনি ১৮ বছরের তরতাজা টগবগে । খুব ছোটবেলা থেকেই পিতার সান্নিধ্যে নীল বিদ্রোহে দীক্ষিত হন আহসান উহ মাহমুদ। নীলকরদের বিরুদ্ধে লড়তে বিদ্রোহের নতুন কৌশল খুঁজে বের করেন তিনি। সাধারণ কৃষকদের সাথে মিশে ইংরেজ শাসক ও অত্যাচারী নীলকরদের বিরুদ্ধে জনগণকে সংগঠিত করার লক্ষে প্রথমেই ত্যাগ করেন পারিবারিক “মাহমুদ” পদবী। তখন তিনি শুধুই আহসানউল্লাহ। ১৮৩৮ সালে নীলকরদের অত্যাচার উত্তোরত্তর বেড়েই চলে। তাদের অত্যাচারে কৃষকরা নিরুপায়। এ সময় আহসানউল্লাহ কৃষকদের সাথে নিয়ে নীল চাষের বিরুদ্ধে নতুন কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি নীলকরদের দেয়া বীজ গোপনে ভেজে ফেলেন এবং অন্যদেরকেও ভেজে ফেলার পরামর্শ দেন। সেই ভাজা বীজ সকলে বপন করেন নিজ নিজ জমিতে। নির্দিষ্ট সময় পরে সংগত কারনেই ভাজা নীল বীজ দিয়ে নীলের চারা বের হয়না। নীলকরদের দালাল জগপাল আহসানউল্লাহর নেতৃত্বে নীল বীজ ভেজে ফেলার কথাটি তুলে দেয় নীলকর সাহেবদের কানে। এই সংবাদ জেনে নীলকরদের পাইক-বরকন্দাজ আহসানউল্লাহকে ধরবার জন্য তার বাড়িতে আসে এবং তাকে নীলকুঠিতে ধরে নিয়ে যেয়ে অমানবিক নির্যাতন করেন। অনেক খোঁজ করেও আহসানউল্লাহর আর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। উপরন্তু নীলকররা আহসানউল্লাহর পরিবার-পরিজনের উপর পাইক-বরকন্দাজ দিয়ে নানাভাবে অত্যাচার শুরু করে। নীলকুঠির লাঠিয়ালরা গ্রামবাসীদের ওপরও নির্যাতন চালাতে থাকে। তারা গ্রামবাসাীদের জিনিসপত্র ও গরু বাছুর লুট করে, আহসানউল্লাহসহ আরো কয়েকজন গ্রামবাসীর ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। আহসানউল্লাহর সাথে সখ্যতা ছিলো এমন কয়েকজনকে কয়েদ করে নিয়ে গিয়ে নীলকরেরা ‘শ্যামচাঁদ’ (চামড়া দিয়ে তৈরী চাবুক বিশেষ) দিয়ে প্রহার করে। এমতাবস্থায় নিরূপায় হয়ে আহসানউল্লাহর স্ত্রী তার দুই সন্তান রহমতউল্লাহ (জন্ম ১৮২৭) এবং কেরামতউল্লাহ (জন্ম ১৮৩৩)-কে নিয়ে মাথাভাঙা নদী পার হয়ে উসমানপুর থেকে নিজ ভায়ের বসতবাড়ি নগর বোয়ালিয়াতে এসে আশ্রয় নেন। এটা ছিলো নগর বোয়ালিয়ার যে স্থানটা এখন বাগান মাঠ বা বড় বাগান হিসাবে পরিচিত সেই স্থানে। মাঠে ঈদগাহের (মোল্লাদের ঈদগাহ নামে পরিচিত) উত্তর-পশ্চিম কোণে ছিলো মূল ভিটা। এই বসতবাড়ির পশ্চিমে ছিলো বির্স্তীণ বিল (বর্তমানে দোপের মাঠ হিসাবে পরিচিত) এবং পূর্বে ছিলো সোনাদহ ঝিল (বর্তমানে সোনাদহের মাঠ হিসাবে পরিচিত)।
আহসানউল্লাহর বড় ছেলে রহমতউল্লাহর বয়স তখন এগারো আর ছোট ছেলে কেরামতউল্লাহর বয়স মাত্র পাঁচ। রহমতউল্লাহ তখন বেশ খানিকটা বুঝতে শিখেছেন। তিনি ইংরেজদের নির্যাতনে পিতার তিরোধান সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি। বেশিরভাগ সময়ই খুব বেশি চুপচাপ থাকতেন আর নিজ মনে কী যেন ভাবতেন। রহমতউল্লাহর বয়স যখন ২২ তখন থেকেই মা তাঁকে পীড়াপিড়ি শুরু করেন বিয়ে করার জন্য। রাজী হননা রহমতউল্লাহ। ২৪ বছর বয়সে ১৮৫১ সালে ঘর ছাড়েন তিনি। পিতার অসমাপ্ত কাজ তাঁকেই সমাপ্ত করতে হবে এমন একটি অঙ্গিকার যেন পেয়ে বসে তাঁকে। ঘর ছেড়ে তিনি সোজা চলে যান মহেশচন্দ্র চট্টোপধ্যায়ের কাছে। ঝিনাইদহের মহেশচন্দ্র চট্টোপধ্যায় ছিলেন নীল বিদ্রোহের একজন নেতা। ইংরেজদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে নীলচাষীদের সংগঠিত করতে থাকেন রহমতউল্লাহ। এই কাজে তাকে সহযোগিতা করেন বাঁশবাড়িয়ার বৈধ্যনাথ সর্দার ও বিশ্বনাথ সর্দার। এরই মধ্যে কখনো কখনো হঠাৎ নগর বোয়ালিয়ায় মামার বাড়িতে মায়ের কাছে এসে উপস্থিত হতেন রহমতউল্লাহ। মা পড়েছিলেন উভয় সংকটে। স্বামীর প্রতি ইংরেজদের নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে তাঁর সন্তানকে উৎসর্গ করছেন এমনটা ভেবে গর্ব বোধ করতেন। আবার একই সাথে সন্তানের যদি কোন অমঙ্গল হয় এমন আশংকায় আকড়ে ধরতেন স্নেহের ধন পুত্রকে। কোনো বাঁধনই আটকাতে পারেনি রহমতউল্লাহকে। ঘর ছেড়ে চলে গেছেন আবার গ্রামের সাধারণ নীলচাষী কৃষকদের মাঝে। তাদের সংগঠিত করেছেন ইংরেজদের বরিুদ্ধে। এসময় বিরোধ বেধে যায় নীলচাষীদের সাথে নীলকরদের। ১৮৫৫ সালে আলমডাঙায় এক সংঘর্ষে মহেশচন্দ্র চট্টোপধ্যায়ের সাথে নীলকরদের বিরুদ্ধে বীরত্বের সাথে লড়াই করে জীবন দান করেন রহমতউল্লাহ।
এক সন্তানকে হারিয়ে মা বিহবল হয়ে পড়েন খানিকটা। ইতোমধ্যে তিনি তাঁর ছোট ছেলে কেরামতউল্লাহর বিয়ে দিয়ে তাকে সংসারী করেছেন। ভায়ের সাহায্যে উসমানপুরের জমিজমা বিক্রি করে নগর বোয়ালিয়া ও আশেপাশে বেশ কিছু আবাদী জমি কেনেন তিনি। মায়ের আদেশে জমিজমা দেখাশোনায় মনোনিবেশ করেন কেরামতউল্লাহ।
ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে ভূমি রাজস্ব নীতি, মহাজনী শোষণ, দুর্ভিক্ষ, ইত্যাদির ফলে তৎকালীন ভারতে গ্রামীন জীবনে অস্থিরতা ও বিক্ষোভ দেখা দেয়। কৃষকদের পক্ষে খাজনার বোঝা বহন করা কষ্টকর হয়ে ওঠে। স্বভাবতই তখন বিভিন্ন স্থানে কৃষকেরা বিদ্রোহ করে। কেরামতউল্লাহর একমাত্র ছেলে বিশারতউল্লাহ (জন্ম ১৮৫৬) এরকমই এক কৃষক বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। বিট্রিশ শাসকরা তখন এইসব কৃষক বিদ্রোহকে ‘দাঙ্গা-হাঙ্গামা’ বলে উলেখ করে। ইংরেজরা বিশারতউল্লাহকে গণ মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য তার বিরুদ্ধে নানা প্রকার অপপ্রচার চালাতে থাকে। কিন্তু এ পথে সফল না হতে পেরে বিশারতউল্লাহকে দমন করার জন্য বিট্রিশরা তাঁর এবং আশেপাশের সকল বসতবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। ‘ভিটায় ঘুঘু চরানো’ বলে যে প্রবাদ বাক্য প্রচলিত আছে তা তখন বাস্তবে প্রয়োগ করে ইংরেজ শাসকগোষ্ঠী। ওই এলাকাতে বসতবাড়ি নির্মাণ এবং চাষাবাদ নিষিদ্ধ করে প্রশাসন। শুধুমাত্র এই কারণেই ওখানে বাগান এবং ঈদগাহ গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে বর্তমান নগর বোয়ালিয়ার ভিটাতে বসতবাড়ি নির্মাণ করেন বিশারতউল্লাহ। প্রতিবেশী খন্দকার পরিবার (মোল্লা গোষ্ঠী) ইংরেজদের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে বিশারতউল্লাহর দুর্দিনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।
বিশারতউল্লাহর পুত্র ইজ্জতুল্লাহ জন্ম গ্রহণ করেন ১৮৮০ সালে। তিনি ছিলেন স্বাধীনচেতা ও স্পষ্টবক্তা। ইংরেজ বিরোধী স্বদেশী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন তিনি। তখন জমিদার ছাড়া অন্য কারো ইটের পাকা দালান তোলা জমিদার কর্তৃক নিষেধ ছিলো। শুধুমাত্র জমিদারের সাথে চ্যালেঞ্জ করে এবং জমিদার কর্তৃক নিযুক্ত ইজারাদারের কাছে নিজ শক্তি প্রমাণে ইজ্জতুল্লাহ গ্রামে প্রথম পাকা দালান তোলেন নগর বোয়ালিয়াতে। (পরবর্তীতে ইজ্জতুল্লাহর মেজ পুত্র মোবারক বিশ্বাস সেই ঘরে বাস করেছেন। ওই ঘরের পূর্ব দিকে বিশাল আটচালা ঘরে থাকতো পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা)। এসময় ইজ্জতুল্লাহ ইংরেজদের বিরুদ্ধে স্বদেশী আন্দোলন জোরদার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্বদেশী আন্দোলনে কোনো সুস্পষ্ট কৃষিভিত্তিক কর্মসূচী না থাকায় গ্রামের হিন্দু ও মুসলিম কৃষক শ্রেণীকে ব্যাপকভাবে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। উপরন্তু স্বদেশী আন্দোলনকে দমন এবং তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য এই সময়ে হাট বোয়ালিয়াতে ইংরেজ শাসকগোষ্ঠী স্থাপন করে পুলিশের ফাঁড়ি। মাথাভাঙ্গা নদীর পাড়ে বর্তমান ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে পশ্চিম পাশে ছিল সেই ফাঁড়ি। তার পরেও স্বদেশী আন্দোলন থেমে থাকেনি। ইংরেজ শাসক গোষ্ঠীর রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে ইজ্জতুল্লাহ জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ইংরেজ শাসন ও শোষনের বিরুদ্ধে এবং দেশের স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন সোচ্চার ও আপোষহীন। ইজ্জতুল্লাহর মৃত্যুর পর তাঁর নিজ বসতবাড়ির দক্ষিণে মসজিদের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়। চুন সুড়কী আর ইটের তৈরী ইজ্জতুল্লাহর সেই সমাধীক্ষেত্র এখন কেবল নগর বোয়ালিয়ার নয়, সারা বাংলাদেশের স্বদেশী আন্দোলন তথা স্বাধীনতার এক মূর্ত প্রতীক।
ইজ্জতুল্লাহর তিন ছেলে। আজহার বিশ্বাস (জন্ম ১৯০০), মোবারক বিশ্বাস (জন্ম ১৯০৩) এবং ডাঃ রিয়াজউদ্দিন আহমদ (জন্ম ১৯০৫) ইজ্জতুল্লাহর এই তিন সন্তানই ছিলেন অত্র অঞ্চলের নিপীড়িত, নির্যাতিত মানুষের সুখ দুঃখের অকৃত্রিম সাথী এবং তাদের বাড়ীর খানকাহ্ ছিল সমাজের সর্ব শ্রেণীর মানুষের গ্রাম্য বিচার-আচার ও সামাজিক কর্মকান্ডের মিলনস্থল।
ডাক্তার রিয়াজউদ্দীন আহমদ ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ১৯০৫ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানার নগর বোয়ালিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা বৃটিশ বিরোধী স্বদেশী আন্দোলনের নেতা ইজ্জতুল্লাহ, মাতা জয়তুননেছা বিবি। তাঁর নানা মেহেরপুর জেলার গাংনী থানার ষোলটাকা গ্রামের মিছু বিশ্বাস ছিলেন বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা। মিছু বিশ্বাসের পিতা আবু বকর বিশ্বাস ওরফে বারাকাজ বিশ্বাস ছিলেন অত্র অঞ্চলের দখলদার বৃটিশ নীল কুঠিয়ালদের আতঙ্ক এবং কৃষকদের ভরসাস্থল। বৃটিশরা তাঁকে নানা প্রলোভনে বশ্যতা স্বীকার করানোর চেষ্টা করে এমনকি তাঁকে বায়ান্নটি কুঠির দায়িত্ব দেয়ার প্রলোভন দেখায়, তাতেও তাঁকে রাজী করাতে না পেরে তাঁর বিরুদ্ধে বৃটিশ সেনাবাহিনী যুদ্ধ পরিচালনা করে তাঁর ঘরবাড়ী সমস্ত কিছু জ্বালিয়ে দেয় এবং তাঁর সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। ডাঃ রিয়াজউদ্দীন আহমেদ চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানার বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী সদরউদ্দিন মিঞা ও উত্তমনেছা বিবির বড় কন্যা খোদেজা বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
ডাক্তার রিয়াজউদ্দিন আহমদের বাল্যশিক্ষা শুরু হয় বাড়ীর মক্তবে, পরে মোড়ভাঙ্গা নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এই বিদ্যালয় থেকে নিম্ন প্রাথমিক বৃত্তি লাভ করে তিনি বাঁশবাড়িয়া উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে প্রথম গ্রেডের বৃত্তিসহ উচ্চ প্রাথমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চুয়াডাঙ্গা ভি.জে. উচ্চ ইংরাজী বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এই বিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯২৭ সালে প্রথম বিভাগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাট্টিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং প্রথম গ্রেডের মহসীন বৃত্তি লাভ করেন। এতদাঞ্চলের মুসলমানদের মধ্যে তিনি প্রথম ম্যাট্টিকুলেট। ম্যাট্টিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবার পর তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য তদানীন্তন ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে আই-এস-সি শ্রেণীতে ভর্তি হন এবং অত্যন্ত সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হবার পর গ্রামে এসে মহামারীতে আক্রান্ত বিপন্ন মানুষদের একরকম বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করতে দেখে তিনি বিচলিত হন। গ্রামের মানুষের চিকিৎসা-সুযোগের অভাব এবং সে কারণে মানুষের দুঃখ, দুর্দশা, কষ্ট ও অকালমৃত্যু স্বচক্ষে দেখে তাঁর মানবদরদী হৃদয় ব্যথাদীর্ণ হয়ে ওঠে। এই উপলব্ধি থেকে অসহায় মানুষের চিকিৎসা ও সেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে এরপর তিনি কলিকাতা নীলরতন সরকারী মেডিক্যাল কলেজে (ক্যাম্বেল মেডিক্যাল) ভর্তি হন। এখান থেকে চিকিৎসাবিদ্যা সমাপান্তে তিনি গ্রামে ফিরে এসেই চিকিৎসা সেবা ও জনসেবায় আত্মনিয়োগ করেন। বলা যায় তখন থেকেই শুরু হয় তাঁর ঘটনাবহুল জীবনের সংগ্রাম। সেদিনকার সমাজে নির্লোভ ও নিঃস্বার্থ মানবসেবার সহজ পরিবেশ ও পরিস্থিতি ছিল না। কিন্তু তিনি ছিলেন বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ববান, স্বাধীনচেতা, নির্ভীক, উদার ও অসাম্প্রদায়িক। সব রকমের বাধার মুখে সামনে এগিয়ে চলার সাহস ও প্রেরণা তিনি নিজের ভিতর থেকেই আহরণ করতেন। তাই মহৎ উদ্যোগ গ্রহণে তিনি কখনই হতোদ্যম হননি। সমস্ত প্রতিকুলতা কাটিয়ে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত মানুষের সহযোগিতায় তিনি কাংখিত কাজ সুচারুরূপে সম্পন্ন করেছেন। তিনি ছিলেন মানুষের মাঝে, মানুষের পাশে সব সময়ই। তাই চিকিৎসার ক্ষেত্রে ধনী-নির্ধন, উচ্চ-নীচ সকলকেই সমান আন্তরিকতায় সেবা করেছেন তিনি। দরিদ্রের পর্ণকুটীর থেকে ধনীর প্রাসাদ-সর্বত্রই ছিল তাঁর চিকিৎসা ও সেবার কর্মক্ষেত্র। অচিরেই একজন সফল চিকিৎসক ও জনসেবক হিসাবে তাঁর খ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বহু দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য বহু মানুষ তাঁর কাছে আসতে থাকেন। সকালে নিজ ডিস্পেন্সারীতে চিকিৎসা শেষে তিনি ঘোড়ায় চেপে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে যেয়ে দুঃস্থ মানুষের চিকিৎসা করতেন আর এই কার্যক্রম চলতো গভীর রাত্রি পর্যন্ত। এই সময় তিনি চিকিৎসক এবং মানবহিতৈষী হিসাবে জন-প্রিয়তার শীর্ষে আরোহন করেন। প্রবীনদের কাছে শোনা যায়, সে সময় এমন কথা প্রচলিত হয় যে, “রিয়াজ ডাক্তার যে-কোন রোগীর দিকে তাকালে এবং ছুঁলে রোগীর রোগ ভাল হয়ে যায়”। ক্রমান্বয়ে তিনি মানুষের কাছে হয়ে উঠেন এক কিংবদন্তী পুরুষ। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করলে অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে, মানুষের সেবার জন্য তিনি চিকিৎসক হয়েছিলেন, অর্থ উপার্জনের জন্য নয়। তাই চিকিৎসা-সেবার বিনিময়ে তিনি কোন অর্থ গ্রহণ করেননি। বরং গরীব রুগীদের ঔষধ পর্যন্ত ক্রয় করে দিয়েছেন। তার পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত অগাধ ধন-সম্পদ বিক্রি করে তিনি এসমস্ত জনহিতকর কার্য করেছেন। অর্থের প্রতি কোন লোভ না থাকায় এবং মানুষের প্রতি তাঁর অকুণ্ঠ ভালবাসার কারণেই সবাই তাকে আপন করে নিয়েছিলেন, তিনিও সবাইকে অত্যন্ত আপন ভাবতে অভ্যস্ত ছিলেন; যেমন অভ্যস্ত ছিলেন সহজ, সরল, সাধারণ জীবন যাপনে। জীবনের প্রথম থেকে শেষদিন পর্যন্ত তিনি অত্যন্ত সাদাসিদে-সাধারণ জীবন যাপন করেছেন- কোনরূপ বিলাসিতা তাঁর কাছে ঘেষতে পারেনি।
অসুখ-বিসুখ, রোগ-বালাই-এর কাছে মানুষের অসহায়ত্বের পাশাপাশি শিক্ষার অভাব সম্পর্কেও তিনি সচেতন হয়ে ওঠেন। স্থানীয় অধিবাসীদের, বিশেষ করে মুসলমান সমাজের মানুষের অশিক্ষা, কুশিক্ষা, মূঢ়তা, অজ্ঞানতা, কুসংস্কারাচ্ছন্নতা তাঁকে পীড়িত করে। তিনি বুঝতে পারেন প্রকৃত এবং পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাই মাত্র পারে মানুষকে সচেতন করতে, দুর্ভাগ্যের বন্দীদশা থেকে মুক্ত করতে। এজন্য শিক্ষার আলো প্রজ্জ্বলিত করে তা সর্বত্র ছড়িয়ে দেবার মানসে তিনি হাট বোয়ালিয়াতে উচ্চ ইংরজেী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণপূর্বক প্রচেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু প্রথমেই প্রবল বাধা আসে মুসলমান সমাজ থেকেই। ‘মুসলমানদের ইংরজেী শেখা হারাম’- এই ভিত্তিহীন অযৌক্তিক অন্ধবিশ্বাসে পিছিয়ে থাকা মুসলিম সমাজ উচ্চ ইংরজেী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় প্রবল প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। কিন্তু সংকল্পে তিনি ছিলেন অটল। তাই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেই অবশেষে তিনি বিচারপতি ড. রাধাবিনোদ পাল (কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি, পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য) মহোদয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং স্থানীয় কতিপয় উদার ও উদ্যোগী হিন্দু-মুসলিম ব্যক্তির সহযোগিতায় হাট বোয়ালিয়া উচ্চ ইংরজেী বিদ্যালয় (বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ) স্থাপন করেন। প্রথমে হাট বোয়ালিয়া বাজারে তাঁর নিজস্ব জায়গায় (বর্তমানে হুদা ফার্মেসী ও তৎসংলগ্ন অন্যান্য ব্যবসায়ী ঘর সমূহের অবস্থানে) ৪০ হাত এবং ৩২ হাত লম্বা দু’টি খড়ের চালাঘরে স্কুলের কার্যক্রম শুরু করেন। পরবর্তীতে এখানে বিশাল এক আটচালা খড়ের ঘর নির্মিত হয়। উল্লেখ্য, এখানেই তাঁর ডিসপেনসারী ছিল। এই সময় তাঁর প্রচেষ্টায় মিশন নামীয় জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হলে, তার কার্যালয়ও এখানে স্থাপন করা হয়। সামনের রাস্তার নামও তিনি দিয়েছিলেন ‘মিশন রোড’।
প্রতিষ্ঠার প্রথম লগ্ন থেকেই তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম ও ধৈর্যসহকারে জীবনের মূল্যবান সময় ও সম্পদ ব্যয় করে স্কুলের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি ছিলেন সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িকতার উর্ধ্বে। তাঁর অসাম্প্রদায়িক মানসিকতা ও আদর্শ, সৃষ্টি ধর্মী প্রতিভা, অদম্য সাংগঠনিক দক্ষতা, সৃজনশীল উদ্যোগের কারণে তিনি সহজেই সুধীজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এসব কারণেই তিনি স্থানীয় ও অদূরবর্তী সহৃদয় শিক্ষিতও শিক্ষানুরাগী হিন্দু মুসলিম প্রভাবশালী নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সাহচর্য ও সহযোগিতা লাভ করেন এবং সকল ধরণের সামাজিক অবক্ষয়ের হাত থেকে অত্র অঞ্চলকে রক্ষা করে একটি সুষ্ঠ সুশৃঙ্খল শিক্ষিত নিরোগ ও ক্ষুধা, দারিদ্র, দূর্ণীতিমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধশালী নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলার প্রয়াস পান।। তাঁর তেজোদৃপ্ত ও সংকল্পে অটল উদ্যম, মেধা ও প্রজ্ঞায় আকৃষ্ট হয়েই উদ্যোগী, বর্ষীয়ান ও তারূণ্যের উচ্ছল যুবক কর্মীগণ হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে তাঁকে সাহায্য ও সহযোগিতা দিতে এগিয়ে আসেন। সবার আকুন্ঠ সমর্থনে ও সহযোগিতায় উদীপ্ত হয়ে শিক্ষার আলো বিস্তারে তাঁর মহৎ প্রচেষ্টাকে সম্প্রসারিত করার উদ্দেশ্যে ১৯৪৩ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারী তারিখে অনুষ্ঠিত স্থানীয় এম-ই স্কুল (মাইনর ইংলিশ স্কুল-১৯২৫ সালে স্থাপিত) ও এইচই স্কুল (হাই ইংলিশ স্কুল)- এর পরিচালনা পরিষদের যুক্ত অধিবেশনে উভয় স্কুল একত্রীভূতকরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মাইনর স্কুলের পৃষ্ঠপোষক ড. রাধাবিনোদ পাল ও পরিচালক বাবু কৃষ্ণবন্ধু পাল এবং হাই স্কুলের পরিচালক ডাক্তার রিয়াজউদ্দীন আহমদ উক্ত একত্রীভূত পূর্ণাঙ্গ হাই স্কুলের পরিচালক হিসাবে গৃহীত সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করেন। এই পূর্ণাঙ্গ হাই স্কুলের প্রথম ব্যাচের ছাত্রগণ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১৯৪৫ সালের ম্যাট্টিকুলেশন পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হওয়ায় স্কুলের সুনাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আর ১৯৪৭ সালের পরীক্ষায় তৃতীয় ব্যাচের মেধাবী ছাত্র বর্তমানে কলিকাতা মেঘনাদ সাহা ইনষ্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার ফিজিক্স এর পরিচালক ডঃ মনোজ কুমার পাল ৬৪০০০ হাজার পরীক্ষার্থীর মধ্যে মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থান অধিকার করে স্কুলের মর্যাদা ও গৌরব বৃদ্ধি করেন। এখান থেকে স্কুলের যে জয়যাত্রা শুরু হয় অদ্যাবধি তা অব্যাহত রয়েছে। বিশাল খেলার মাঠসহ সুপরিসর ব্যপ্তি নিয়ে গড়ে উঠা আজকের হাট বোয়ালিয়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ডাক্তার রিয়াজউদ্দীন আহমদ-এর পরিকল্পনা, প্রচেষ্টা, পরিশ্রম, উদ্যোগ, উদ্যম, মেধা, প্রতিভা ও প্রজ্ঞা এবং সর্বোপরি জাতি মানুষ ও শিক্ষার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বিশ্বাস আর অপরিসীম শ্রদ্ধার ফসল- তাঁর স্বপ্নের বাস্তবায়িত এক বিশাল জগৎ।
চিকিৎসা সেবা প্রদান ও শিক্ষার আলো প্রজ্জ্বলনের সাথেই তিনি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য স্কুলের পশ্চিমদিকে মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রথমে খড়ের চালের ছাউনী দেওয়া বেড়ার ঘর মসজিদ হিসাবে ব্যবহৃত হলেও সকলের সমবেত চেষ্টায় তা বর্তমানে দ্বিতল পাকা দালানে রূপান্তরিত হয়েছে। তিনি নিজে ধর্মপ্রাণ ছিলেন কিন্তু ধর্মীয় গোড়ামী তার মধ্যে ছিল না। সকল ধর্ম বর্ণের মানুষের সুখ দুঃখের সাথী অসাম্প্রদায়িক এ মানুষটি এখনো সকলের হৃদয়ে বেঁচে আছেন অতি আপনজন হিসাবে।
সুখী সমাজ গঠনে অক্লান্ত পরিশ্রম, সমাজ ও দেশ বিরোধী অপশক্তির সাথে প্রতিনিয়ত দ্বন্ধ, নানাবিধ চিন্তা-ভাবনার কারণে চল্লশি দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি মারাত্মকভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়ায় বাধ্য হয়ে তাঁকে প্রাকটিস থেকে সরে আসতে হয়। কিন্তু নিয়তি তাঁকে বসে থাকতে দেয়নি। সাতচল্লশি সালের আগষ্টে ভারত বিভাগের পর এলাকায় যে ২/৩ জন হিন্দু চিকিৎসক ও কবিরাজ ছিলেন তাঁরা ভারতে চলে যাওয়ায় রোগে চিকিৎসার অভাবে আবার মানুষের দুর্দশা শুরু হয়। এ সময় তিনি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা ও খরচে হাট বোয়ালিয়া দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন এবং অভিজ্ঞ মেডিক্যাল অফিসার ও কম্পাউন্ডার নিয়োগ করেন। এই চিকিৎসালয় স্থাপনের জন্য স্থানীয় মাড়োয়ারী ব্যবসায়ী বাবু বিশ্বনাথ রংটা জমি দান করেছিলেন। এখানে বিনা-মূল্যে এবং পাশ্ববর্তী ২/৩টি ইউনিয়ন পরিষদের যৎকিঞ্চিত অনুদান ও তাঁর নিজস্ব অর্থে চিকিৎসার কার্যক্রম চালু রাখা হয়। বর্তমানে উক্ত দাতব্য চিকিৎসালয় আলমডাঙ্গা থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি উপকেন্দ্র। ইতিপূর্বে তিনি ১৯৩৬ সালে হাট বোয়ালিয়াতে কালাজ্বর চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করেন যা ১৯৪৬ সাল র্পযন্ত চালু ছিল।
ডাক্তার রিয়াজউদ্দীন আহমদ ছিলেন স্বাপ্নিক পুরুষ। সমাজের চাহিদা মোতাবেক তিনি বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। তার কোনটা বাস্তবায়িত হয়েছে, কোনটা হয়নি। যে সময়ে জেলা শহরের বাইরে কলেজ স্থাপনের কথা কেউ ভাবতে পারেননি, সে সময় তিনি হাট বোয়ালিয়াতে কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। ডাক্তার রিয়াজউদ্দীন আহমদের জীবনের ব্রত ছিল অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, উৎপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা এবং মজলুমদের অকাতরে নির্ভীকভাবে সাহায্য সহযোগিতা করা। তিনি সর্বদাই দুর্বল ও অসহায় মানুষের পক্ষ নিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রেই সরকারী প্রশাসনের অন্যায় আদেশ ও সিদ্ধান্তরে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তীব্রভাবে। এজন্য অনেক সময় তাঁকে সুবিধাবাদী মহলের রোষানলে পড়তে হয়েছে। অসম সাহসের অধিকারী তিনি মানুষকে নির্যাতন ও নিপীড়নকারী গ্রামের ডাকাতদের গ্রামবাসীর সহায়তায় গ্রাম থেকে সমূলে উচ্ছেদ করেছিলেন। এজন্য তাঁকে কোন পুলিশি সহায়তা নিতে হয়নি।
প্রথম থেকেই ডাক্তার রিয়াজউদ্দীন আহমদ রাজনীতি সচেতন ছিলেন। সেদিনের বিক্ষুদ্ধ পরাধীন ভারতে স্বাধীন দেশ ও মুক্ত পরিবেশের কামনায় রাজনীতিতে তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেন। তিনি প্রথমদিকে কংগ্রেস রাজনীতির সাথে জড়িত থেকে ব্রিটিশ বিরোধী বিভিন্ন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন, পরে পাকিস্তানী আন্দোলনে অংশ নেন, দীর্ঘ আন্দোলনে অর্জিত হয় পাকিস্তান কিন্তু জনগণের স্বাধীনতার তৃষ্ণা অপূর্ণই থেকে যায়, একই সাথে অপূর্ণ থাকে স্বাধীনতাকামী ডাক্তার রিয়াজউদ্দীন আহমদের কাংখিত পরিপূর্ণ স্বাধীন দেশের স্বপ্ন। তাই পরিপূর্ণ স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষ্যে ও জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে বাঙ্গালীর স্বাধীনতা ও দাবী আদায়ের সংগ্রামে ডাক্তার রিয়াজউদ্দীন আহমদ অন্যতম গুরূত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে প্রাদেশিক আইনসভার (পরবর্তীতে প্রাদেশিক পরিষদ) সদস্য (এম-এল-এ; পরে পদবী হয় এম-পি-এ) নির্বাচিত হন। আইয়ুব খান কর্তৃক সমগ্র পাকিস্তানের সামরিক শাসন ও আইন জারী এবং পরিষদ ভেঙ্গে দেওয়া র্পযন্ত তিনি এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯ এর গণ অভ্যূত্থান, বাঙ্গালীর স্বাধীকার আন্দোলন সহ বাঙ্গালীর প্রতিটি ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন সংগ্রামে সর্বোপরি মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে ডাক্তার রিয়াজউদ্দীন আহমদ ছিলেন অগ্রসৈনিক। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি ছিলেন অত্র অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রধান সংগঠক ও প্রেরণার উৎসস্থল। তিনি তরূন মুক্তিযোদ্ধাদের মনে সাহস ও দিক নির্দেশনা দিয়ে প্রেরণা জুগিয়েছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে গুরূত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে পাকিস্তানী সৈন্যদের অনুসন্ধানের মুখে বাধ্য হয়ে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অবস্থানে থেকে স্বাধীনতাকামী জনগণকে সাথে নিয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জণের জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকেন। পাক সেনা ও তার দোসররা কুষ্টিয়া শহরের কলেজ মোড়ে তাঁর প্রতিষ্ঠিত “হুদা ক্লিনিকে” ব্যাপক লুটতরাজ করে তা ধ্বংস করে দেয়। তাই বলে তিনি নিজেকে গুটিয়ে নেননি, বরং অসম সাহসিকতার সাথে এই বীর বাঙ্গালী অত্র অঞ্চলে পাক হানাদার বাহিনীর বিরদ্ধে সকল প্রকার পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাংলার স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত করেন। তিনি পাকিস্তানী দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করার দেশপ্রেমের মন্ত্র অত্র অঞ্চলের জনসাধারনের মধ্যে প্রজ্জ্বলিত করে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার আহবান জানালে তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা পাক হানাদার বাহিনীকে প্রতিহত করার জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে। প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে অত্র অঞ্চলের গেরিলা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম দলটি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ মনিরুজ্জামান ভুলুর নেতৃত্বে প্রচুর অস্ত্র-শস্ত্র, গ্রেনেড মাইন ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ-সহ পাক সেনাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে সর্ব প্রথম অত্র অঞ্চলের স্বাধীনতার প্রধান সংগঠক ডাক্তার রিয়াজউদ্দীন আহমদ এর নিকট উপস্থিত হয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ মনিরুজ্জামান ভুলু তাদের পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য তাঁর নির্দেশনা কামনা করে তাঁর হাতে রাইফেল তুলে দেন, ছাত্র জীবনে ক্যাডেট কোরের ট্রেনিং প্রাপ্ত ডাক্তার রিয়াজউদ্দীন আহমদ রাইফেল উঁচিয়ে ফায়ার করে অত্র অঞ্চলের স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা করেন এবং গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা দল তাঁর নির্দেশনা মোতাবেক পাক হানাদার বাহিনী ও তার দোসরদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক মরণপণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে অত্র অঞ্চলকে শত্রুমুক্ত করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিজয় পতাকা উড়িয়ে দেয়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করতে হবে এ সংকল্পে ডাক্তার রিয়াজউদ্দীন আহমদ ছিলেন অবিচল। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ অর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁর সে সংকল্প পূর্ণতা পেয়েছে। তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ সগৌরবে পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান করে নিয়েছে।
জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য ভূবনে তাঁর ছিল অগাধ বিচরণ। তিনি ছিলেন অসাধারণ পান্ডিত্যের অধিকারী। একজন চিকিৎসক এবং নানা কাজে সদাব্যস্ত মানুষ হওয়া সত্তেও সাহিত্য, জ্ঞানবিজ্ঞান ও ধর্মীয় গ্রন্থাদির অনুরক্ত পাঠক ছিলেন তিনি। অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তিনি যেমন ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলেছেন, তেমনি অন্যান্য বিষয়ে জ্ঞানানুসন্ধানে ছিলেন সদা তৎপর। অখন্ড অবসর তাঁর জীবনে ছিল না, কিন্তু সামান্য অবসরেও জ্ঞান বিজ্ঞানের নানান বিষয় পাঠে তিনি ছিলেন নিরলস। বহু ভাষা জ্ঞানের অধিকারী ডাঃ রিয়াজ উদ্দীন আহমদ বাংলা, ইংরেজী, ফারসী, আরবী, উর্দু, হিন্দী সাহিত্যের খ্যাতিমান কবি সাহিত্যিক লেখকদের লেখার সাথে নিবিড়ভাবে পরিচিত ছিলেন। সময়ে সময়ে তিনি নিজেও বাংলায় ও ইংরেজীতে গল্প কবিতা ও অন্যান্য বিষয়ে লিখতেন। তাঁর ছিল কবি প্রাণ, তিনি ছিলেন স্বপ্নদ্রষ্টা। তাঁর চিন্তা -চেতনা-লেখা থেকে বুঝা যায়, একটি উন্নত, কল্যাণকর, সুখী ও সমৃদ্ধ সমাজ, স্বাধীন জাতি ও স্বাধীন দেশের স্বপ্ন দেখতেন তিনি, যেখানে মানুষ তার সমস্ত অধিকার নিয়ে সুখীজীবন যাপন করতে পারবে।
উল্লখ্যে, শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, ব্যরিষ্টার আশরাফ আলী প্রমুখ নেতৃবর্গের সাথে তিনি অন্তরঙ্গভাবে পরিচিত ছিলেন এবং মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, আতাউর রহমান খান, মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশ, দিলদার আহমেদ প্রমূখ নেতৃবৃন্দেও বশ্বিস্ত সহকর্মী ছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিচারক বিচারপতি ড. রাধাবিনোদ পালের শুভেচ্ছা ও সহযোগিতার কথা তিনি আজীবন মনে রেখেছিলেন।
এই অসাধারণ মানুষ জীবনের শেষপ্রান্তে এসে পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়ে বেশ কিছুকাল শয্যাশায়ী ছিলেন। কিন্তু মানসিকভাবে তিনি কখনই দুর্বল হয়ে পড়েননি। এসময় তাঁর পাশে ছিলেন তাঁর সার্বক্ষণিক সাথী তাঁর বিদুষী স্ত্রী খোদেজা বেগম। ১৯৯৫ সালের ১লা জানুয়ারী সকালে হাট বোয়ালিয়াস্থিত তাঁর নিজ বাসভবন বাংলাদেশ হাউজে তিনি শেষ নিঃশাস ত্যাগ করেন। তাঁর ইচ্ছানুাযায়ী তাঁকে নগর বোয়ালিয়া গোরস্থানে সমাহিত করা হয়। তাঁর কঠোর নির্দেশে তাঁর কবরের উপরে কোন স্মৃতিসৌধ নির্মাণ তো দূরের কথা কবর পাকা করে বাঁধানোও হয়নি। জীবনে তিনি সর্ব সাধারণের মধ্যে সাধারণ হয়ে ছিলেন, মরণেও তাই-ই হয়ে রয়েছেন। সমাজের প্রতি তাঁর উৎসর্গীত জীবনের আকাঙ্খা কবি
ভাষায় অনেকটা এরকম-
এই হোক মোর শেষ পরিচয়
আমি তোমাদেরই লোক।
ডাক্তার রিয়াজউদ্দীন আহমদ এর মৃত্যুর পর তাঁর আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসী শুভানুধ্যায়ীদের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে রিয়াজ ডাক্তার ফাউন্ডেশন। ডাক্তার রিয়াজউদ্দীন আহমেদ -এর আদর্শের অনুপ্রেরণায় জনগণকে শিক্ষাগ্রহণে উদ্বদ্ধকরণ, শিক্ষা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন, সর্বস্তরের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, দারিদ্র বিমোচন প্রচেষ্টায় সহায়তা ও সহযোগিতাকারী মানবকল্যাণব্রতী প্রতিষ্ঠান হলো- রিয়াজ ডাক্তার ফাউন্ডেশন।
ডিউক হুদা: মোহাম্মদ নূরুল হুদা ডিউক ( ডিউক হুদা) হলেন বাঙালা সালতানাতের স্বাধীন সুলতান মহাবীর খাজা উসমান খান লোহানী’র বংশধর ও দেশবরেণ্য রাজনীতিবিদ মানব হিতৈষী সমাজ সংস্কারক প্রখ্যাত চিকিৎসক ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন মহান ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠনক ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত প্রাদেশিক আইন পরিষদ সদস্য (এমএলএ) আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বিপ্লবী জননেতা ডাক্তার রিয়াজউদ্দীন আহমদ এর কনিষ্ঠ পুত্র। বহুগুণে গুণান্বিত এই জনদরদী সমাজসেবক, লেখক, গবেষক, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক-ক্রীড়া সংগঠক, পর্যটক, বীমাবিদ, কবি, ছড়াকার, গীতিকার, আশির দশকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রনেতা চব্বিশের জুলাই-আগষ্ট বিপ্লবের মৃত্যুঞ্জয়ী বীর যোদ্ধা প্রবীণ তারুণ্য মোহাম্মদ নূরুল হুদা ডিউকের (ডিউক হুদা) জন্ম চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাট বোয়ালিয়া গ্রামের ঐতিহাসিক “বাংলাদেশ হাউজ” এ।
স্কুল ও কলেজে পড়েছেন হাট বোয়ালিয়া, কুমিল্লা ও কুষ্টিয়ায়। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে বি.এ অনার্স এম.এ ডিগ্রী অর্জন করেন।
মোহাম্মদ নূরুল হুদা ডিউক সাপ্তাহিক দায়িত্ব পত্রিকার সম্পাদক। তিনি বাংলাদেশ নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স ইনচার্জ এসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রভাতী এক্সিকিউটিভস ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট , বাংলাদেশ এক্স-ক্যাডেটস্ এসোসিয়েশন বেকা- এর উপদেষ্টা , বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ম্যানেজার্স ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অফিসার্স ফোরামের আহবায়ক, জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কর্মকর্তা কল্যাণ পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক, এসোসিয়েশন অব ইন্স্যুরেন্স এক্সিকিউটিভস এর জীবন সদস্য, বন্ধু ‘৮৫ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর যুগ্ম মহাসচিব, প্রেসিডিয়াম সদস্য কেন্দ্রীয় সুপ্রীম কাউন্সিল বাংলাদেশ পোয়েটস ক্লাব, সিনিয়র উপদেষ্টা রক্তের বিনিময়ে আমাদের বাংলাদেশ সাহিত্য পরিষদ, সভাপতি “এসো দেশ গড়ি “,প্রধান উপদেষ্টা জুলাই অনলাইন এক্টিভিস্টস ফোরাম জোয়াফ, যুগ্ম আহবায়ক ঐক্যবদ্ধ জুলাই শক্তি, উপদেষ্টা মঞ্চ২৪, উপদেষ্টা জনজোট বিপ্লবী মঞ্চ, সংগঠক জুলাই ঐক্য।
ডিউক হুদা বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতি, আ্হসানিয়া মিশন সাপোর্ট ফোরাম, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগ এলামনাই এসোসিয়েশন, কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ঢাকা, সহ-সভাপতি বৃহত্তর কুষ্টিয়া অফিসার্স কল্যাণ ফোরাম ঢাকা, চুয়াডাঙ্গা জেলা সমিতি ঢাকা, অংশু ফাউন্ডেশন, হিস্ট্রি ক্লাব ‘৮৫ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রেজিষ্টার্ড গ্রাজুয়েট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও দেশকল্যাণমূলক সংগঠনের জীবন সদস্য।
বর্ণাঢ্য,বৈচিত্রময় ও সংগ্রামী জীবনের অধিকারী মোহাম্মদ নূরুল হুদা ডিউক ওরফে ডিউক হুদা চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাট বোয়ালিয়া গ্রামে মাথাভাঙ্গা নদীর তীরে পৈতৃক বাসভবন ঐতিহাসিক বাংলাদেশ হাউজে ১৯৬৩ সালের ২৪ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন, তার পিতা ডাক্তার রিয়াজউদ্দীন আহমদ ছিলেন প্রখ্যাত চিকিৎসক, দেশবরেণ্য জননেতা,বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন, মহান ভাষা আন্দোলন,মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত প্রাদেশিক আইন পরিষদের সদস্য (এম.এল.এ.)। তাঁর পেশা ছিলো ডাক্তারী নেশা ছিলো নিঃস্বার্থ জনসেবা, ডিউক হুদার মমতাময়ী মা খোদেজা বেগম ছিলেন সুগৃহিনী ও মহিয়ষী নারী।
ডিউক হুদা হাট বোয়ালিয়া প্রাইমারী স্কুল, কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, কুষ্টিয়া জেলা স্কুল, কুষ্টিয়া মুসলিম হাই স্কুল, হাট বোয়লিয়া হাই স্কুল, কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণ ও সমাপন করেছেন।
ছেলে বেলা থেকেই ডিউক হুদা সামাজিক, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক, খেলাধূলা ও সেবামূলক কার্যক্রমে সদা নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। ইনডোর আউটডোর সব খেলাতে নিজে সম্পৃক্ত থেকেছেন, বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলায় সাঁতার প্রতিযোগিতায় তিনি ব্যক্তিগত চ্যাম্পিয়নশীপের মর্যাদা অর্জন করে পুরস্কৃত হয়েছেন, এছাড়া তিনি উদয়ন তরুন সংঘ, কুষ্টিয়া জিমনাষ্টিক ক্লাব, কাব-স্কাউট, বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দল, লোক নাট্য দল,বিবর্তনসহ বিভিন্ন সমাজ ও মানব উন্নয়নমূলক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন ও আছেন।
বর্তমানে ডিউক হুদা প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ডিউক হুদার বড় বোন ফিরোজা বেগম কোহিনূর, বড় ভাই প্রফেসর মোহাম্মদ কামরুল হুদা শিক্ষাবিদ ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, মেজ ভাই মো: নাজমুল হুদা সরকারী কর্মকর্তা ডিএস ও স্পোর্টস কাউন্সিলের ডাইরেক্টর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেজভাই জাতীয় বীর জাতীয় সংসদ সদস্য মেধাবী ডিপ্লোম্যাট মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল ওসমানীর পিএস আগষ্ট বিপ্লবের মহান নায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা বিপ্লবী জননেতা শহীদ মেজর বজলুল হুদা, মেজ বোন আফরোজা য়্যানী, সেজ বোন মাহফুজা পাশা লিজি, ছোট বোন মাহমুদা ফেরদৌস হেলেন, ভাই বোনের মধ্যে ডিউক হুদা সর্ব কনিষ্ঠ।
ডিউক হুদা পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী, মানুষ জনকে ভালবাসেন নিজের চেয়েও বেশী, তারচেয়ে ভালবাসেন নিজের দেশকে। পিতার মতোই তারও নেশা নিঃস্বার্থ জনসেবা। ডিউক হুদা দেশের প্রয়োজনে প্রতিটি ন্যায্য আন্দোলন সংগ্রামে, ছাত্র আন্দোলন সংগ্রামে সামনের কাতারে থেকে অত্যন্ত সাহসীকতার সাথে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
মানুষকে স্বাবলম্বী ও দেশের অর্থনীতেকে আরো মজবুত করার জন্য ডিউক হুদা উদ্যোক্তা হয়ে গড়ে তুলেছেন খুলনা বিভাগে প্রথম সমতল ভূমিতে কফি চাষ প্রকল্প “হাট বোয়ালিয়া কফি বাগান”, এই হাট বোয়ালিয়া কফি বাগান এলাকার কফি চাষে আগ্রহী উদ্যোক্তা ও কফি চাষীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎসস্থল।
ডিউক হুদা মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার ধানখোলা মিয়া বাড়ীর (জমিদার বাড়ী) মো: ওমর আলী মিয়ার বড় মেয়ে নাজনীন সুলতানা বিথীর সাথে ১৯৮৬ সালের ১১ই আগষ্ট বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁরা দুই কন্যা সন্তানের জনক জননী।
লেখালেখি ডিউক হুদার পেশা নয়, মনের ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ। দেশের প্রতি, মানুষের প্রতি, সমাজের প্রতি ভালসাবাসা তার লেখার প্রাণশক্তি। ডিউক হুদার মধ্যে দেশপ্রেমের মানবপ্রেমের যে অগ্নিশিখা জাজ্বল্যমান তা পাঠকের মনের মধ্যেও জ্বলে উঠবে এই আশা নিয়েই তার এই লেখা এবং এর প্রকাশ।
বিশ্বখ্যাত খোয়ারিজম সাম্রাজ্যের সম্রাট সুলতান জালালউদ্দিন শাহ মানগুবেরদী ও বাংলা সালতানাতের স্বাধীন সুলতান মহাবীর খাজা উসমান খান লোহানীর বংশধারা মোহাম্মদ নূরুল হুদা ডিউকের স্বপ্ন দুর্নীতিমুক্ত সুখী সমৃদ্ধশালী নিরাপদ বাংলাদেশ।
ডিউক হুদার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ “এদেশ তোমার আমার” “নানা-নাতনী সংলাপ” ও ডিউক হুদার লেখায় সমৃদ্ধ যৌথ কাব্যগ্রন্থ “কাঙ্ক্ষিত প্রহর”, “পথশিশুর আর্তনাদ”, “বাংলার বরেণ্য কবি”,“অভিশপ্ত করোনা”,”স্বপ্নের বনানী বাংলা” এবং প্রকাশিতব্য “কবিতার দেশ”, “কথামালা”, “চার লাইনে প্রকাশ”,
“ঐতিহাসিক জুলাই-আগষ্ট বিপ্লব”, দেশপ্রেম ও মানব প্রেম এবং বিপ্লবের অনবদ্য দলিল।
ডিউক হুদা পুরস্কার ও সম্মানস্বরূপ পেয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন পরিষদ কর্তৃক “স্বাধীনতা স্মৃতি পদক-২০২৩”, বিশ্ববীণা কবিতা ও সাংস্কৃতিক মঞ্চ কর্তৃক “অমর একুশে স্মৃতি পদক-২০২৩”, স্বদেশ সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক “কবি নজরুল স্মৃতি পদক-২০২৩”, বাংলাদেশ এক্স ক্যাডেটস এসোসিয়েশন কর্তৃক “এক্স ক্যাডেটস সম্মাননা পদক-২০২৩”, বাংলাদেশ মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা কর্তৃক “ইন্টারন্যাশনাল পীস এ্যাওয়ার্ড-২০২৩”, বাংলাদেশ পোয়েটস ক্লাব আয়োজিত সাহিত্য পর্যটন মিশন কর্তৃক “ইবনে বতুতা পর্যটন এ্যাওয়ার্ড- ২০২৩”, মানবতাবাদী সংগঠন “শেষ আশ্রয়” কর্তৃক “সম্মাননা স্মারক-২০২৩, সামাজিক পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা কর্তৃক ” বঙ্গবীর জেনারেল এম এ জি ওসমানী স্মৃতি পদক- ২০২৪, “নেপাল ইন্টারন্যাশনাল গোল্ডেন এওয়ার্ড- ২০২৪”, আন্তর্জাতিক উত্তরবঙ্গ সাহিত্য সভা উত্তরবঙ্গ সাহিত্য একাডেমী শিলিগুড়ি কর্তৃক “উত্তরবঙ্গ সাহিত্য সম্মান-২০২৪”।
এছাড়া বাংলাদেশের বীমা শিল্পের উন্নয়নে বিশেষ অবদান ও নেতৃত্ব দানের স্বীকৃতি স্বরূপ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন পরিষদ কর্তৃক ডিউক হুদাকে “বীমা নক্ষত্র” খেতাবে ভূষিত করা হয়।
উল্লেখ্য যে ডিউক হুদা প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড কর্তৃক একাধিকবার “ম্যান অব দ্যা ইয়ার” ও “ব্রাঞ্চ অব দ্যা ইয়ার” সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
ডিউক হুদা পেশাগত ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে আমেরিকা, রাশিয়া, সৌদি-আরব, লিবিয়া, যুগোস্লাভিয়া, ইটালি, থাইল্যান্ড, নেপাল, মালেশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভারতসহ দেশ-বিদেশের নানান জায়গা ভ্রমণ করেছেন।
ডিউক হুদার একটি জনপ্রিয় কবিতার লাইন-
ভালবেসে গড়বো স্বদেশ
মরণে কিবা আসে যায়
হয় জীবন না হয় মরণ
মাঝখানে আর কিছু নাই।

