সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের কৃষি
মিনহাজ উদ্দীন আত্তার
অর্থনৈতিক অগ্রগতির পরিমাপক হিসেবে ‘পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স’ বা “PMI” বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এই সূচকে যখন কোনো খাত ৫০-এর উপরে অবস্থান করে, তখন ধরে নেওয়া হয় সেই খাতটি সম্প্রসারিত বা গতিশীল হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে স্বস্তির খবরটি এসেছে আমাদের চিরচেনা কৃষি খাত থেকে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের কৃষি খাত টানা আট মাস ধরে কেবল সম্প্রসারণই (Expansion) হচ্ছে না, বরং এই প্রসারণের গতি আগের তুলনায় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূচকের ভাষায় কৃষির ইতিবাচক রূপান্তর
পিএমআই সূচক ১০০ নম্বরের মধ্যে পরিমাপ করা হয়। এই সূচকের ৫০ পয়েন্ট হলো একটি নিরপেক্ষ রেখা। যখন এই পয়েন্ট ৫০ অতিক্রম করে, তখন সেটি অর্থনীতির সক্ষমতা ও প্রবৃদ্ধির প্রমাণ দেয়।
কৃষি খাতে টানা আট মাস এই ৫০-এর উপরে অবস্থান করা প্রমাণ করে যে, প্রতিকূল আবহাওয়া বা বৈশ্বিক সংকটেও আমাদের কৃষকরা এবং কৃষি-সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা উৎপাদনে অবিচল রয়েছেন।
প্রসারণের গতি বাড়ার মূল কারণসমূহ
কৃষি খাতের এই দ্রুত সম্প্রসারণের পেছনে বেশ কিছু প্রভাবক কাজ করছে:
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার: সনাতন পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে কৃষিতে এখন আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ছে।
উদ্যোক্তা সংস্কৃতির বিকাশ: দেশের শিক্ষিত তরুণ সমাজ এখন কৃষিকে কেবল পেশা নয়, বরং ‘বিজনেস মডেল’ হিসেবে গ্রহণ করছে। নতুন নতুন এগ্রি-স্টার্টআপ এবং সরাসরি সরবরাহ ব্যবস্থা (Supply Chain) এই খাতকে গতিশীল করছে।
চাহিদার ধারাবাহিকতা: খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশীয় পণ্যের চাহিদাও বাজারে ঊর্ধ্বমুখী, যা উৎপাদনকারীদের উৎসাহিত করছে।
অর্থনীতির জন্য এর গুরুত্ব
কৃষি খাতের এই নিরবচ্ছিন্ন সম্প্রসারণ সামগ্রিক জিডিপিতে শক্তিশালী অবদান রাখছে। যখন শিল্প বা সেবা খাত বৈশ্বিক কারণে কিছুটা চাপে থাকে, তখন কৃষি খাতই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ভারসাম্য বজায় রাখে। এই আট মাসের সাফল্য প্রমাণ করে যে, সঠিক নীতি সহায়তা এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগ থাকলে বাংলাদেশের কৃষি আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে সক্ষম।
আগামীর প্রত্যাশা
কৃষি খাতের এই অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখতে হলে আমাদের উদ্ভাবন এবং নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে যারা মধ্যস্বত্বভোগী এড়িয়ে সরাসরি বাজারজাতকরণে কাজ করছেন, তাদের জন্য এই সম্প্রসারণ এক বিশাল সুযোগ।
পরিশেষে, এমসিসিআই এবং পিইবির এই প্রতিবেদন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মাটি ও মানুষের ঘামেই মিশে আছে বাংলাদেশের প্রকৃত সমৃদ্ধি।
পিএমআই-এর এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ কেবল পরিসংখ্যান নয়, এটি আমাদের কৃষকের জয়গান এবং আগামীর শক্তিশালী অর্থনীতির আত্মবিশ্বাস।
লেখক : আলেম। কৃষি উদ্যোক্তা।
উত্তরা-ঢাকা-১১৩০

