কবি ও সাধারণ
সুরমা খন্দকার।
সাধারণ চোখে দেখা দুঃখ,
কবির চোখে জোছনার রেখা।
একটি অশ্রুতে সাগর বাজে,
একটি হাসিতে প্রভাত দেখা।
বুকের ভেতর ঢেউ তোলে কথা,
যা ভাষা খুঁজে পায় না সবাই,
কবির কলমে সেই নিঃশ্বাস
রূপ নেয় গানে-মানব সানাই।
তুমি দেখ পথের ধুলো,
কবি শোনে রৌদ্রের গান
তুমি ভাবো মেঘ মানে ছায়া,
কবি দেখে তাতেই প্রাণ।
একটি পাতার কম্পনে কবি
লিখে জীবনের ছন্দ,
তুমি বলো-কী এমন ব্যাপার!
কবি বলে-এ তো অনন্ত আনন্দ।
তুমি চুপে চুপে ভালোবাসো
কবি লেখে আকাশে নাম
তুমি লুকাও চোখের ভেতর,
কবি গড়ে কাব্যের ধাম।
আমাদের অনুভব এক,
তবু প্রকাশে ফারাক ঘন,
তুমি নীরব হৃদয় বনে,
কবি ভাষায় ছোঁয় সেই জন।
তুমি দেখ নদী বয়ে যায়,
কবি শোনে তার গোপন সুর
তুমি ভাবো-এ শুধু জলধারা,
কবি দেখে সময়ের নূর।
তুমি থেমে যাও বাস্তব সীমায়
কবি উড়ে তার ওপারে;
স্বপ্ন ও সত্য মিলে সেখানে
জাগে কবিতারা অন্ধকারে।
তুমি খবর পড় সকালের পত্রে,
কবি শুনে কান্নার ধ্বনি,
তুমি বলো-এ তো রাজনীতি!
কবি দেখে মানবজনিনী।
অন্যায়ের রোদে পোড়া মুখে
কবি খুঁজে মুক্তির গান,
কবির চোখে সমাজ মানে-
প্রতিটি রক্তবিন্দুর আহ্বান।
কবির কাছে নেই ভেদরেখা
ভ্রাতা, সহোদর, প্রতিবেশী-
সবাই এক, একই হৃদয়ের প্রতিধ্বনি।
কেউ দূরে নয়, কেউ আলাদা নয়,
সব মিশে আছে এক মানবতায়।
যে হাত ভিক্ষা চায়,
আর যে হাত দান করে-
দুটোই সমান শ্রদ্ধার প্রতিতী।
কবির কাছে ভালোবাসাই ধর্ম,
আর মানুষই একমাত্র জাতি।
তুমি বাঁচো জীবনের ভেতর,
কবি খোঁজে তার মানে,
তোমার নীরব বাস্তবতায়
জন্ম নেয় কবিতার গানে।
কবি ও সাধারণের ব্যবধান-
অল্প নয়, গভীর এক পথচলা,
তুমি যেখানে থেমে যাও চুপে,
কবি সেখানে লেখে অনন্ত বলা।

