সাংবাদিক ও ‘তথাকথিত’ সাংবাদিক –গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির

by protibimbo
0 মন্তব্য 4 বার পড়া হয়েছে

সাংবাদিক ও ‘তথাকথিত’ সাংবাদিক
— গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির

প্রত্যেক পেশা ও কাজের যথাযথ বিধি- বিধান বা নীতিমালা আছে, তেমনি সাংবাদিক ও সংবাদ পত্রের ও আছে। কিন্তু, দু:খজনক হলেও সত্য সাংবাদিকতা পেশায় অপ-সাংবাদিকতা আমার মনে হয় একটু বেশি।
আইনজীবী হিসেবে আদালতে প্র্যাকটিস শুরু করতে হলে বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সনদ নিতে হয়। এর আগে কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নিতে হয়। কিন্তু সাংবাদিকতা পেশায় এ ধরনের কোনো সনদের প্রয়োজন হয় না। তবে মূলধারার গণমাধ্যমে কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া সাধারণত গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা প্রার্থীকেই নিয়োগের জন্য বিবেচনা করা হয়ে থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বেশ কয়েকটি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স কোর্স চালু আছে। প্রতি বছর দেড় হাজারের মতো শিক্ষার্থী এসব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় অনার্স-মাস্টার্স পাস করে বের হচ্ছেন। সাংবাদিকতায় পাস করে অনেকে বিসিএস দিয়ে লোভনীয় চাকরিতে চলে যাচ্ছেন। তথ্য ক্যাডারের পাশাপাশি প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র ক্যাডারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর সামলাচ্ছেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধীনে সাংবাদিকতায় পাস করা স্বল্পসংখ্যক মেধাবী। কেউ কেউ আবার নামিদামি প্রতিষ্ঠানের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) হচ্ছেন। তবে অনেকের ধারণা, সাংবাদিকতায় যখন পড়েছি তখন কলমকে সঙ্গী করেই বেঁচে থাকি। তারুণ্যভরা যৌবনে সাংবাদিকতাকে আঁকড়ে ধরা এসব তরুণের অনেকের জীবনেই বর্তমান বাস্তবতায় নেমে এসেছে কালো মেঘ। এ পেশায় অন্তর্ভুক্ত হতে হলে সাংবাদিকতায় অনার্স পাস হতে হবে- এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বরং অন্য বিভাগ থেকে পাস করে এসে যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে অনেকেই তাদের ক্যারিয়ারের স্বর্ণশিখরে পৌঁছে যাচ্ছেন। আবার সাংবাদিকতার অনেক শিক্ষার্থী হারিয়ে যাচ্ছেন।

মূলধারার গণমাধ্যমের পাশাপাশি ব্যাঙের ছাতার মতো অসংখ্য গণমাধ্যমের ছড়াছড়িতে বিতর্কিত হচ্ছে মহান এই পেশা। এসব তথাকথিত গণমাধ্যমের কার্ডধারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। ফলে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে স্বাধীন সাংবাদিকতা। এদের একটি অংশ অফিস-আদালত, শিল্প-কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অপরাধবিষয়ক সংবাদ করার হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজি করছে। তাদের অনেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। অথচ সচিবালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরে তদবির বাণিজ্য করে বেশ রাজার হালতে আছেন এসব তথাকথিত সাংবাদিক। সাংবাদিকতার চলমান সংকট অবিলম্বে নিরসন করা না গেলে মেধাবীরা এ পেশা থেকে আরও বেশি মুখ ফিরিয়ে নেবেন। সুতরাং, এ পেশার মান ও সম্মান ধরে রাখতে হলে সবার আগে দরকার নীতিমালার আলোকে ঢেলে সাজানো এবং হলুদ সাংবাদিকতা দমন করা। সৎ ও মেধাবী তরুণদের এগিয়ে দেওয়া। আমার দেখা অনেক নামধারী কথিত সাংবাদিক দেখেছি- যোগ্যতা থেকে, ক্ষমতা দেখাচ্ছে অনেক বেশি। আবার কেউ যেনতেন একটা পত্রিকার কার্ড হাতে পেলেই হল, আর কি? এসব থামাতে হবে, তবেই প্রকৃত সাংবাদিক ও সংবাদপত্র মাথা উচু করে দাঁড়াবে সকল ক্ষেত্রে। হলুদ বা অপ-সাংবাদিকতা আর নয়, পেশাধারী, প্রকৃত সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা এগিয়ে যাক, এ প্রত্যাশা রাখি, ইনশাআল্লাহ।

লেখক: গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির, সাংবাদিক, কলামিষ্ট ও সিনিয়র সহ সভাপতি বুড়িচং প্রেস ক্লাব, কুমিল্লা।

Banner

সম্পর্কিত খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আবুল খায়ের 

নির্বাহী সম্পাদক: 
বার্তা প্রধান:

অফিস: বাড়ি ২৫ (দ্বিতীয় তলা), সড়ক ৫, সেক্টর ৬, উত্তরা, ঢাকা।

যোগাযোগ: ০১৭১৫৩৬৩০৭৯

বিজ্ঞাপন: ০১৮২৬৩৯৫৫৪৯

Email: khair.hrm@gmail.com

info@dainikprotibimbo.com

protibimboprokash.com

ফেসবুকে আমরা

©2025 Dainik Protibimbo – All Right Reserved. Designed and Developed by Bangla Webs