স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার ঋণে জর্জরিত থাকার খবর নতুন নয়। জোসেপ মারিয়া বার্তোমেউ যুগের (যা ২০২০ সালে শেষ হয়) বিপুল ঋণ, রেকর্ড পরিমাণ ব্যয়, কোভিড-১৯ এর ধাক্কা- সব মিলিয়ে অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বার্সেলোনা। ঋণের দায়ে জর্জরিত বার্সা লা লিগার কঠোর বেতন সীমা নীতিতে বারবার নাকানি-চুবানি খেয়েছে। খেলোয়াড় নিবন্ধন নিয়ে প্রায় প্রতি মৌসুমেই জটিলতার মুখে পড়ছে কাতালান ক্লাবটি।
সে কারণে দলটির ইতিহাসে সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসিকেও ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে বার্সা। সেটার অবশ্য কয়েকবছর হয়ে গেছে। এখন যে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে, এমন নয়। এখনো ক্লাবটির নামের পাশে ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৫০ কোটি ইউরো!
বিশাল এই ঋণের বোঝা দূর করে একবারেই অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ এসেছে বার্সার সামনে। স্প্যানিশ এ ক্লাবটিকে কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। আর ক্লাবটিকে কিনতে যে অর্থ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন সালমান, সেটা রীতিমতো চোখ কপালে তোলার মতো। বার্সেলোনাকে কিনতে ১০০০ কোটি ইউরোর প্রস্তাব দেওয়ার কথা ভাবছেন সৌদি যুবরাজ। বাংলাদেশি অর্থ মূল্যে যা প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩১০ কোটি কোটি টাকা!
স্পেনের জনপ্রিয় টেলিভিশন শো ‘এল চিরিংগিতো’- এ ফ্রাঁসোয়া গার্লেদো দাবি করেছেন, বার্সেলোনার অংশীদারিত্ব কিনতে সৌদি যুবরাজ ১০০০ কোটি ইউরোর প্রস্তাব দেওয়ার কথা ভাবছেন। স্প্যানিশ সংবাদ মাধ্যমেও এই খবর ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে।
তা হঠাৎ সৌদি যুবরাজের বার্সাকে কেনার গুঞ্জন এত ছড়ালো কেন? বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে সৌদি আরবের বিনিয়োগ ক্রমে বেড়েই চলছে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো তারকাকে সৌদি প্রো লিগে নিয়ে গিয়ে লিগটির পরিচিতি তথা ব্র্যান্ডিং বাড়িয়েছে সৌদি। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্লাবের অংশীদারিত্ব কেনা, নতুন ক্লাবের মালিকানা গ্রহণ- সব ক্ষেত্রেই দেশটি বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্টে নিজেদের প্রভাব রাখতে চাচ্ছে। ২০৩৪ ফুটবল বিশ্বকাপও আয়োজিত হবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে।
সে কারণে বার্সাকে কিনতে সৌদি যুবরাজের আগ্রহ অবাক করার মতো না হলেও, ১০০০ কোটি ইউরোর প্রস্তাবটা নিয়ে আলোচনা চলছে। আর বিশাল এ বিনিয়োগটা সরাসরি অথবা দেশটির পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) এর মাধ্যমে হতে পারে।
আর এই দামে যদি বার্সাকে সৌদি যুবরাজ কিনে নেন, এতে বার্সার ২৫০ কোটি ইউরো ঋণ একদিকে যেমন পরিশোধ হবে, অন্যদিকে ক্লাবটি নতুন প্রকল্পও হাতে নিতে পারবে। এমন সব দুর্দান্ত সুযোগ থাকলেও বার্সার একক মালিকানা কিনতে পারবেন না সৌদি যুবরাজ, এমনটাই উল্লেখ করেছে ফুটবল বিষয়ক সংবাদমাধ্যম গোল।
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আইনগতভাবে বার্সাকে সরাসরি কেনা সম্ভব নয়। কারণ দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক মালিকানা কাঠামোর কারণে ক্লাবটির মালিকানা এর সদস্যদের (সোসিও) হাতে। বোর্ড সভাপতি নির্বাচন, ক্লাব পরিচালনা তাদের নিয়ন্ত্রণে।
এছাড়া বাজেটের অনুমোদন, ক্লাবের শেয়ার বিক্রিসহ কৌশলগত প্রায় সকল সিদ্ধান্তে তাঁরা ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। তাদের অনেকের কাছেই, ক্লাবের মালিকানা বিক্রি করা সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে ক্লাবের ঐতিহ্য বিসর্জন দেওয়ার শামিল।
তাই বাস্তবতা বিবেচনায় এককভাবে দেশি বা বিদেশি কোনো ব্যক্তি ক্লাবটিকে কিনতে পারবেন না। তবে সৌদি পিআইএফ চাইলে ক্লাবের আলাদা কোনো শাখায় বিনিয়োগ করতে পারবে, কিন্তু ক্লাবের পূর্ণ অধিগ্রহণ কোনোভাবে সম্ভব নয় বললেই চলে।
ফলে টাকার অঙ্ক চোখ কপালে তুললেও কিংবা ক্রীড়াঙ্গনে এ খবর ব্যাপক আকারে ছড়ালেও এটি বাস্তবে রূপ নেওয়ার আশা খুবই সীমিত!

