শিল্পকলা একাডেমি ও সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় আয়োজিত রুনা লায়লা সংগীত সন্ধ্যা-২০২৬: রেজাউল করিম মুকুল

by protibimbo
0 মন্তব্য 82 বার পড়া হয়েছে
রুনা লায়লা কনসার্ট, ২৬
৬২ বছরের পেশাদার সংগীতজীবনে শিল্পকলা একাডেমিতে রুনা লায়লা একক গানের অনুষ্ঠান ছিলো গত রাতে, ২৪ জুলাই, ২০২৬খ্রি. এবারই প্রথম বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে একক সংগীতানুষ্ঠানে গাইলেন তিনি তাঁর গৌরবময় সংগীতজীবনের শ্রোতাপ্রিয় ১০টি গান।
শুধু গান পরিবেশনই নয়, একই অনুষ্ঠানে রুনা লায়লাকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ সম্মাননা। এই আয়োজনের টিকিট বিক্রির অর্থ বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় ব্যয় করা হবে। শিল্পকলা একাডেমি জানিয়েছে, টিকিট বিক্রি থেকে পাওয়া পুরো অর্থ বন্যার্তদের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়া হবে।
এর আগে শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও সৈয়দ আব্দুল হাদীকে নিয়ে এ রকম অনুষ্ঠান করেছে শিল্পকলা একাডেমি। এই অনুষ্ঠান শেষ করেই আন্তর্জাতিক ব্যস্ততায় ফিরবেন এই গুণী শিল্পী। জানা গেছে, চলতি মাসেই তিনি অস্ট্রেলিয়া যাবেন। সেখানে একাধিক সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রবাসী বাংলা ভাষাভাষী শ্রোতাদের জন্য গান পরিবেশন করবেন।
আগামি ১৭ নভেম্বর ২০২৬খ্রি. রুনা লায়লার বয়স ৭৪ বছর পূর্ন হবে। সেদিন তিনি পচাত্তরে পা দিবেন। জন্ম সিলেটে, তাই বলে তিনি সিলোটি নন। বাংলাদেশের সিনেমা নায়ক আলমগীর রুনা লায়লার স্বামী। ভারতীয় সংগীত শিল্পি সুবীর সেন আসামের ডিব্রুগড়ে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা শৈলেশচন্দ্র সেন ছিলেন পেশায় একজন ডাক্তার এবং মাতা লিলি সেন। তার অন্য ভাইবোনেরা হলেন পৃথ্বীশ সেন, গৌরী সেন, সুনীল সেন, অরুণ সেন, এবং অনিতা সেন। এই অনিতা সেন পরে আমেনা লায়লা, রুনা লায়লার মা এবং সুবীরের ছোট বোন অর্থাৎ রুনা লায়লা’র মামা ছিলেন। কাকতালীয়ভাবে এই ২৪ জুলাই ছিলো সুবির সেনের জন্মদিন। নিচের গানটি সুবির সেনের গাওয়া।
এত সুর আর এত গান যদি কোনদিন থেমে যায়
সেইদিন তুমিও তো ওগো জানি ভুলে যাবে যে আমায়।
কতদিন আর এ জীবন কত আর এ মধু লগন…
তবুও তো পেয়েছি তোমায় জানি ভুলে যাবে যে আমায়।
আমি তো গেয়েছি সেই গান যে গানে দিয়েছিলে প্রাণ…
ক্ষতি নেই আজ কিছু আর ভুলেছি যত কিছু তার…
এ জীবনে সবই যে হারায় জানি ভুলে যাবে যে আমায়।.
আমেনা লায়লা একজন গুণী গৃহিণী ছাড়াও একজন সংগীত শিল্পী ছিলেন। রুনা লায়লার শিল্পীজীবনে মায়ের উৎসাহ ও স্নেহ ছিল অনন্য প্রেরণার উৎস। রুনা লায়লার মা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১২ সালের ২৯শে জানুয়ারি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৮৭ বছর। তাঁকে বনানী কব’রস্থানে দা’ফন করা হয়। মায়ের মৃত্যু রুনা লায়লার জীবনে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করলেও তাঁর স্মৃতি ও প্রেরণা আজও কিংবদন্তি এই শিল্পীর পথচলার আলোকবর্তিকা হয়ে আছে।
রুনার বাবা এমদাদ আলী সাহেব ছিলেন পাকিস্তান রাজস্ব বোর্ডের অধীন শুল্ক বিভাগীয় পদস্থ কর্মকর্তা। রুনা লায়লা ৬ বছর বয়েসে করাচিতে গান গাঁইতে শুরু করে দীর্ঘ ৫০ বছরে ১৮টি ভাষায় ১০ হাজার গান রেকর্ড করেন, ভারত বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ৩০০টি রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পুরষ্কার লাভ করেন। তিন দিনে ৩০টি গান রেকর্ড করে তিনি গ্রিনিজ বুকে নিজের নাম অন্তর্ভূক্ত করতে সক্ষম হন। তিনি বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের সিনেমাতে বিখ্যাত ও জনশ্রুতিমধুর অনেকগুলো গান গেয়েছেন। ভারতের কল্যানজী- আনন্দজী এর সুরে রুনা “Ek Se Badhkar Ek” সিনেমাসহ অনেক সিনেমায় গান করেন। “O Mera Babu Chail Chabila” এবং “Dama Dam Mast Qalandar.” সহ অসংখ্য গান জনপ্রিয় হয়ে সারা পাকিস্তানে আনাচে কানাচে ছড়িয়ে আছে। হামে খোঁ কর বহুত পস্তাও গে, যব হাম নেহি হোংগে। রুনার এ রকম অনেক গানে ঠোট মিলিয়েছেন শবনম।
শুরুতে তিনি ছিলেন একজন শিশু নৃত্যশিল্পি। ওনার বড় বোন দিনা লায়লাও একজন সংগীত শিল্পি ছিলেন। তিনি ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে অকালে মারা যান। স্বরলীপি সিনেমায় তাঁকে গান গাইতেও দেখা যাবে। ১৯৭১খ্রি. বাংলাদেশের অভূদ্যয়ের পরে শবনমের মতো রুনা লায়লাও ১৯৭৪খ্রি. পযর্ন্ত পাকিস্তানেই ছিলেন এবং দুজনই পেশাগত কারণে পাকিস্তানে সম্মানিত ও অপমানিত দুটোই হন। বাংলাদেশে এসে তিনি অনেকদিন দলাদলির শিকার হন। বেতার টেলিভিশন তাঁর কাছে অডিশন পরিক্ষা চেয়েছিলো বলে শোনা যায়। তারপরেও সেই রুনা লায়লা আজও আদি ও অকৃত্তিম। রুনা লায়লা দীর্ঘজীবী হোন।
রেজাউল করিম মুকুল, ২৫ জুলাই ২০২৬খ্রি.

সম্পর্কিত খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আবুল খায়ের 

নির্বাহী সম্পাদক: 
বার্তা প্রধান:

অফিস: বাড়ি ০৭, সড়ক ১৪/সি, সেক্টর ৪,

উত্তরা, ঢাকা-১২৩০।

যোগাযোগ: ০১৭১৫৩৬৩০৭৯

বিজ্ঞাপন: ০১৮২৬৩৯৫৫৪৯

Email: khair.hrm@gmail.com

info@dainikprotibimbo.com

protibimboprokash.com

ফেসবুকে আমরা

©2025 Dainik Protibimbo – All Right Reserved. Designed and Developed by Bangla Webs