গুচ্ছ কবিতা
মোর্শেদা চৌধুরী এ্যানি
তাং ২২-০৩-২৬ রবিবার
১. শত্রু যখন আপনজন
ঘরের ভেতর যুদ্ধ বাঁধে,
নীরব চোখে অশ্রু কাঁদে।
আপন মানুষ শত্রু আজ,
ভেঙে দেয় হৃদয়ের সাজ।
ভালোবাসা যেন স্পর্শহীন,
শূন্যতায় ভরা প্রতিদিন।
কথার ভেতর বিষের ঢেউ,
শান্তি খুঁজে পাই না কেউ।
অভিমানের কত দীর্ঘ রাত,
নিঃশব্দে ঝরে কান্নার পাত!
২. দোষের ভার
প্রতিটি বাক্য দোষে গড়া,
বুকে লাগে তীব্র ব্যথা ধরা।
অপরাধহীনও দোষী আমি,
কেনো আমার এমন নিয়তি ?
অপমানের এই ভারী বোঝা,
বয়ে অবিরাম নীরব খোঁজা।
সুখের আলো যেনো দূরে সরে,
দুঃখ-যন্ত্রণা এসে পাশে ভরে।
শান্তি খুঁজতে গিয়ে ক্লান্ত প্রাণ,
অশ্রুভিজিয়ে ডুবে অবসান।
৩. শূন্য উৎসব
ঈদের দিনে কি যে শূন্যতা,
হাসি হারায় নিঃশব্দতা।
একটি ফুলও জোটে না,
মনে ভালোবাসা ফোটে না।
উৎসব আসে, যায়ও ফিরে,
মোর অন্ধকারে ঘরটা ঘিরে।
উচ্ছ্বল আনন্দহীন নিঃসঙ্গ মন,
হাহাকারে কেটে যায় ক্ষণ।
রঙিন দিনেও রঙ নেই আর,
বেদনায় কাতরে ভরে সংসার।
৪. সন্তানের নীরবতা
চেয়ে থাকে যেন শিশুরা চুপ,
মায়ার ছোঁয়া কোথায় রূপ?
বাবার চোখে শীতল শূন্য,
তাদের মনে জমে বেদনা গুণ্য।
নীরব ক্ষয়ে শৈশব যায়,
ভালোবাসা হারিয়ে হায়।
খেলার সাথী পায় না তারা,
হাসির আলো পড়ে হারা।
মায়ের বুকে চাপা ক্ষত,
এই সংসার নিঃসঙ্গ পথ।
৫. সম্পর্কের দেয়াল
আত্মীয়রা যায় দূরে সরে,
মন বসে না কারো ঘরে।
মানুষগুলো দোষের ভান্ডার,
এমনই তাদের দৃষ্টিধার।
কথার মাঝে তিক্ত সুর,
ভালোবাসা হয় যে দূর।
মানবতা হয় অবহেলা,
নেই কোনো মমতার খেলা।
বন্ধ হয়ে সম্পর্ক দ্বার,
একা বয়ে জীবনের ভার।
৬. বন্দি জীবন
কোথাও যাওয়া হয় না আর,
ঘরটাই যেন মোর কারাগার।
হাসি মুছে ক্লান্ত-শ্রান্ত মুখে,
বাঁচি আছি শুধু দুঃখ সুখে।
বাইরের আলো ডাকে দূর,
যাওয়া যেন অসম্ভব সুর।
স্বপ্নগুলো মোর থেমে থাকে,
অন্ধকারে এই মনটা ঢাকে।
বন্ধন যেন কঠিন দেয়াল,
নেই মুক্তির কোনো কাল।
৭. অন্ধকার মন
নেতিবাচক কথার ঢেউ,
ভালো লাগে না কিছুই কেউ।
মানুষগুলো যেন ত্রুটির স্তূপ,
সুন্দর কিছুই পায় না রূপ।
হাসির মাঝে খুঁজে দোষ,
ভালোবাসা আজ খুব চুপ।
আলোর পথে আঁধার ঘন,
ভারী হয়ে সদা থাকে মন।
শান্তি খুঁজি তাই প্রতিক্ষণ,
মেলে না তার কোনো কারণ।
৮. দূরত্বের পর্দা
মোবাইলেতে ডুবে মন,
সংসার থাকে অচেতন।
সময়গুলো হারায় নীরব,
মনের মাঝে জমে ক্ষোভ।
কথা বলার সময় কই?
ভালোবাসা হারায় বই।
ডিজিটালের গভীর টান,
বাস্তবতায় আহা শূন্য প্রাণ।
চোখের সামনে দূরত্ব বাড়ে,
ভাঙে বন্ধন যেন অজানাতে।
৯. অবহেলার দিন
অবহেলায় কাটে বেলা,
মনে শুধু ব্যথার মেলা।
স্বপ্নগুলো শুধু ঝরে পড়ে,
নীরব অশ্রু গড়িয়ে ঘরে।
ভালোবাসা চেয়েছিলাম,
কষ্ট ছাড়া কি কিছু পেলাম?
ক্লান্ত হৃদয়ে নিঃশেষ প্রায়,
সুখের পথ আর খুঁজে না পায়।
নীরবতায় সহ্য প্রতিক্ষণ,
জ্বলে ভিতর বেদনাগণ।
১০. আশার আলো
তবুও আশা ছাড়ি না,
অন্ধকারে হারাই না।
একদিন আলো আসবেই,
ভাঙা মনও হাসবেই।
শিশুর মুখে ফুটবে হাসি,
ফিরবে সুখ ভালোবাসি।
রাত্রির পরে ভোর যে আসে,
আলো ফুটে কত আকাশে।
ধৈর্য ধরে সদা পথ চলি তাই,
একদিন যেন সুখ ফিরে পাই।

