সংস্কার বা পরিস্কার করা জরুরি
জি. এম. এস. মানসুর
নব্য শোষকদের পতন ও আগামীর বাংলাদেশ-
আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে গত ৫৫ বছরে এক অদ্ভুত ও ভয়ংকর ‘আধুনিক জমিদারি’ প্রথা গড়ে উঠেছে। এই জমিদাররা কোনো রাজপরিবারের সন্তান নন; বরং তারা রাজনীতিবিদ, আমলা, ব্যবসায়ী এবং কিছু অর্থলোভী ভারতীয় দালাল শ্রেনী। তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে কিছু বিপথগামী সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী—যারা নিজেদের আভিজাত্য জাহির করে সাধারণ মানুষকে দাবিয়ে রাখতে অভ্যস্ত।
সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এদের কারো সম্পদই বৈধ পথে অর্জিত নয়। এরা জনগণের রক্ত চুষে, চুরি করে এবং দুর্নীতি করে সম্পদের পাহাড় গড়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই আধুনিক শোষকদের মধ্যে চুরি বা দূর্নীতির দায়ে কোনো অনুশোচনা বা লজ্জাবোধ নেই। তারা যখন চুরি করে বা চাঁদাবাজি করে, তখন তারা সেটাকে রাজনৈতিক খোরাক এবং মিথ্যা কথা বলাকে রাজনৈতিক কৌশল বলে চালিয়ে দেয়। তারা মুখে অত্যন্ত সভ্য ও নম্র কথা বলে, কিন্তু পর্দার আড়ালে তারা এক একজন অন্ধকার জগতের অধিপতি।
সবচেয়ে ভয়ানক দিক হলো, এরা সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করে। কেউ যদি তাদের চোর বা বাটপার বলে সত্য প্রকাশ করতে চায়, তখন তারা ভাড়াটে লোক দিয়ে সেই ব্যক্তির চরিত্রহনন করে এবং তাকে ‘বেয়াদব’ প্রমাণ করার চেষ্টা করে। এরা সংখ্যায় অত্যন্ত সামান্য, কিন্তু চুরির টাকায় তারা এতটাই শক্তিশালী যে, জনগণকে ভাড়া করেই তারা নিজেদের অবৈধ সম্পদ পাহারা দেয়।
তবে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। এই গুটিকয়েক শোষককে বিনাশ করা সম্ভব, যদি আমাদের ছাত্র ও যুবসমাজ তাদের তীক্ষ্ণ মেধা ও প্রজ্ঞা ব্যবহার করে। এর জন্য কোনো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন পরিকল্পিত মেধার ব্যবহার।
আমাদের এই নব্য শোষকদের প্রতিহত করার উপায়গুলো হতে পারে এরকম:
১. তথ্য সংগ্রহ:
সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা এই শোষকদের অবৈধ সম্পদের হিসাব, তাদের দুর্নীতির প্রমাণ এবং তাদের দালালি চক্রের খতিয়ান সংগ্রহ করতে হবে।
২. জনসচেতনতা:
এই তথ্যগুলো সুনির্দিষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে জনগণের সামনে নিয়ে আসতে হবে। জনগণকে বুঝতে হবে যে, তাদের অধিকার কেড়ে নিয়েই এই মুষ্টিমেয় লোক ফুলেফেঁপে উঠছে।
৩. আইনি ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই:
কলম এবং আইনের আশ্রয় নিয়ে এদের প্রতিটি অপকর্মকে প্রকাশ্যে আনতে হবে। এদের মুখোশ খুলে দিতে হবে।
৪. সংগঠিত প্রতিরোধ:
যুবসমাজকে হতে হবে মেটিকুলাস বা অত্যন্ত সুক্ষ্মদর্শী। তারা যেন ছোট ছোট গ্রুপে কাজ করে এবং নিজেদের মেধা দিয়ে এদের চুরির অংকগুলো মিলিয়ে দেয়।
মনে রাখতে হবে, অসি বা তলোয়ারের চেয়ে মশির (কলম ও বুদ্ধির) জোর অনেক বেশি। বুদ্ধি দিয়ে পুরো পৃথিবী জয় করা সম্ভব, আর এই শোষকরা তো সামান্য কিছু লোক মাত্র। এদের কোনো নৈতিক ভিত্তি নেই, তাই এরা ভেতর থেকে দুর্বল। এখন সময় এসেছে জেগে ওঠার, পরিকল্পিত উপায়ে সত্যকে সামনে নিয়ে আসার। দেশ রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদেরই—আমরাই পারি আমাদের প্রিয় দেশকে এই নব্য জমিদারদের থাবা থেকে মুক্ত করতে।
মেধার বন্যায় ভাসিয়ে দাও এই অপশক্তি। বুদ্ধি এবং সততা দিয়ে গড়ে তোলো এক নতুন বাংলাদেশ।

