গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগ বেশ বেড়েছে। বাংলাদেশ থেকে দুই পর্যায়েই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সফর হচ্ছে বেইজিংয়ে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সফরকালে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং— উভয়ের সঙ্গেই পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসার সুযোগ পাচ্ছেন।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিবেচনায় এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে সরকারপ্রধানের এই সফর যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
আগামী জুনের শেষ সপ্তাহে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং উভয়ের সঙ্গেই পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন, যা কূটনৈতিক প্রোটোকল অনুযায়ী একটি বিরল অগ্রাধিকার। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান কেবল প্রেসিডেন্টের সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন, সেই তুলনায় নির্বাচিত এই সরকারপ্রধানকে বেইজিং বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে
চীনের দুই শীর্ষ নেতার সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ঢাকা–বেইজিং সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে কীভাবে সামনে এগোবে, তারই একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করবেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন সরকারের প্রধান হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। তিনি আগামী ২১ থেকে ২২ জুন কুয়ালালামপুর সফর করবেন। এরপর ২৩ থেকে ২৬ জুন চীন সফর করবেন। সরকারপ্রধান কুয়ালালামপুর থেকে সরাসরি বেইজিংয়ে পৌঁছাবেন বলে কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে বেইজিং সফর করেছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনি চীনের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী হুয়া চুনইংয়ের সঙ্গে তারেক রহমানের চীন সফরের নানা কর্মসূচি, আলোচ্যসূচি, সম্ভাব্য চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
ঢাকা-বেইজিংয়ের কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে একাধিক সমঝোতা স্মারকসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি চলছে। উভয় পক্ষের সম্মতিতে সফরের ঠিক আগমুহূর্তে এসব চুক্তি ও সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।
সরকারের একজন কূটনীতিবিদ বলেন, চীনের সঙ্গে নতুন সরকারের যোগাযোগ অনেক নিবিড় হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে চীনের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট— দুজনের সঙ্গেই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। দুই শীর্ষ নেতার সঙ্গে বড় পরিসরে প্রতিনিধিদল নিয়ে আলাদা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণত কোনো দেশের সরকারপ্রধান সফরে গেলে যেকোনো একজনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয় এবং অন্যজনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। কিন্তু এবার দুজনের সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে।
এই কূটনীতিক আরও বলেন, সরকারপ্রধানের দুই শীর্ষ নেতার সঙ্গেই দ্বিপক্ষীয় বৈঠক পাওয়াটা একটি বড় ‘প্রায়োরিটি’ বা বিশেষ অগ্রাধিকার। এটি প্রমাণ করে যে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে যাচ্ছে। এই সরকারের আমলে চীনের সঙ্গে আগামী দিনগুলোতে কীভাবে অংশীদারত্ব বাড়বে, তারই একটি রূপরেখা এই সফরের মধ্য দিয়ে প্রণয়ন হবে।
উল্লেখ্য, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরের সময় তিনি বেইজিংয়ে শুধুমাত্র চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করার সুযোগ পেয়েছিলেন। সেই তুলনায় নির্বাচিত সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চীন বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

