১২৫
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
অমর একুশে উদ্যাপন ২০২৬
বাংলা একাডেমি আজ ৮ই ফাল্গুন ১৪৩২/২১শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শনিবার মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে।
রাত ১২:৩০টায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের নেতৃত্বে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ৮:০০টায় বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। আসরে প্রায় ২৫০জন কবি স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন। সভাপতিত্ব করেন কবি আবদুল হাই শিকদার।
অমর একুশে বক্তৃতা ২০২৬
সকাল ১১:০০টায় একাডেমির নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় অমর একুশে বক্তৃতা ২০২৬। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। একটি স্কুল-মাসিক ম্যাগাজিন ছাত্র-সুহৃদ’র ইতিবৃত্ত শীর্ষক অমর একুশে বক্তৃতা প্রদান করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ্। অনুষ্ঠানে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রধারণার মূলে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের অবস্থান। রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের অন্যতম ফলাফল বাংলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা। আমরা রাষ্ট্রভাষা বাংলার যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে যেমন এর বিকাশ ঘটাতে সচেতন তেমনি এদেশে অস্তিত্ববান প্রায় অর্ধশত ভাষাভাষী গোষ্ঠীর জনমানুষের মাতৃভাষার অধিকারের বিষয়েও আমাদের সচেতনতা প্রত্যাশিত।
ড. মাহবুব উল্লাহ্ বলেন, আজ থেকে প্রায় ১১৫ বছর আগে বৃহত্তর ঢাকার কালীগঞ্জ রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ হাই ইংলিশ স্কুলের মাসিক ম্যাগাজিন ছাত্র-সুহৃদ প্রকাশিত হয়েছিল। বঙ্গাব্দ ১৩১৮ সালের আশ্বিন মাস অর্থাৎ ১৯১১ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু করে ১৩২০ সালের আশ্বিন মাসে ছাত্র-সুহৃদ’র শেষ সংখ্যা বের হয়েছিল। ছাত্র-সুহৃদ’র সর্বমোট ২৫টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল। ছাত্র-সুহৃদ’র ২৫টি সংখ্যার মধ্যে ২৪টি সংখ্যার সবক’টি লেখাই অবিকৃত অবস্থায় ড. মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান মানিক সম্পাদিত ছাত্র-সুহৃদ : হিরণ্ময় স্মৃতি নামক বিশেষ সংকলন গ্রন্থে ঠাঁই পেয়েছে। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিবর্গ সে কালে ছাত্র-সুহৃদ’র যে প্রশংসা করেছেন তাতেই আমরা বুঝতে পারি অল্প সময়ের মধ্যেই মাসিক স্কুল ম্যাগাজিনটি যথেষ্ট সুখ্যাতি অর্জন করেছিল। আজ একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানে সেই সময়ের কোমলমতি ছাত্রদের বাংলা সাহিত্য চর্চা, একুশের চেতনা যে অত্যন্ত গভীর এবং সে চেতনা সুদূর অতীত থেকে প্রবহমান, তা-ই আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস কেবল অতীতের বিষয়ই নয়। এটি বহমান বর্তমানকে ধারণ করে আলোকিত আগামীর দিকে নিয়ে চলে, আমাদের ভাষাভিত্তিক মানবিক জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়কে শাণিত করে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক সায়েরা হাবীব।

