২৭৯
মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উপলক্ষ্যে সেমিনার
মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি আজ ৩০শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২/১৫ই ডিসেম্বর ২০২৫ সোমবার বিকাল ৪:০০টায় একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা একাডেমির সচিব ড. মোঃ সেলিম রেজা। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসচর্চার গতিপথ এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক পরিসর শীর্ষক বক্তৃতা প্রদান করেন লেখক ও গবেষক সহুল আহমদ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা, লেখক ও রাজনৈতিক কর্মী কবি তুহিন খান। সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।
ড. মোঃ সেলিম রেজা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চুয়ান্ন বছর পেরিয়ে আমরা এক ঐতিহাসিক বাস্তবতার মুখোমুখি। এদেশের জনমানুষের রক্তে স্নাত স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষপাতহীন ইতিহাসচর্চা এবং মুক্তির চেতনায় বাংলাদেশ বিনির্মাণ এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
সহুল আহমদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসচর্চার সাথে এখনকার রাজনৈতিক পরিসরের সর্ম্পক খুব ওতপ্রোত। সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক পরিসর যেমন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসচর্চাকে প্রভাবিত করছিল, তেমনি ইতিহাসচর্চাও প্রভাবিত করছিল সাংস্কৃতিক- রাজনৈতিক পরিসরকে। ইতিহাসশাস্ত্র যেভাবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ‘বর্গ’কে বিচার করে, যাচাই-বাছাই করে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসচর্চার বেলাতে তার দেখা খুব কম মিলে। বরঞ্চ তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ ও দরকষাকষিই যেন ইতিহাসচর্চার দিশা দিয়েছে। তিনি বলেন, রক্তাক্ত জুলাই আমাদের সামনে মুক্তিযুদ্ধের অংশীদারিত্বমূলক ইতিহাসরচনার ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে।
আলোচকবৃন্দ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসচর্চা গৌরবের আবার গভীর ভাবনারও বিষয়। কারণ এদেশে ঐতিহাসিক জনযুদ্ধের ইতিহাসকেও নানা সময় কায়েমি স্বার্থে কলুষিত করা হয়েছে। যে সাধারণ মানুষের অপরিসীম আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন ভূখণ্ড অর্জন করেছি, সে সাধারণ মানুষের অধিকার আছে তার গৌরবের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষপাতহীন প্রকৃত ইতিহাস জানবার। তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণায় এদেশের ছাত্রজনতাসহ গণমানুষ বিভিন্ন সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, স্বাধীনতার মতোই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসচর্চা শুধু তথ্যের সংকলন নয় বরং অনন্তকাল আমাদের ভেতর জেগে থাকা বিদ্রোহের বীজতলা।
অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, মুক্তিযুদ্ধবাহিত বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চা নিষ্কণ্টক নয়। নানাপক্ষীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের নানা পরিসর তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রকৃত ইতিহাসের চেয়ে অনেকক্ষেত্রে সম্প্রদায়-স্বার্থও প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। আজকের আলোচনা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসচর্চার গতিপথ নিয়ে আমাদের কিছুটা হলেও স্বচ্ছ দিশা দিতে পারে।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন শামীমা চৌধুরী ও নূরুল হাসনাত জিলান। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আলম আরা মিনু ও শিল্পী ড. ছন্দা চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক সায়েরা হাবীব।

