ভূমি মালিকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে দলিল ও রেকর্ড খতিয়ানের পাঁচ ধরনের গুরুতর ভুল বিনা খরচে এবং মামলা ছাড়া সংশোধন করা যাবে। সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ড (এসএলআর) ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেই ভূমি মালিকরা এ সুযোগ পাবেন।
আগে এসব ভুল ঠিক করতে আদালতের দ্বারস্থ হতে হতো এবং বছরের পর বছর সময় ও বিপুল অর্থ ব্যয় হতো। অনেক ক্ষেত্রে সমস্যার সমাধান জীবদ্দশায়ও হয়ে উঠত না।
কোন কোন ভুল সংশোধন করা যাবে
১. নামের বানান ভুল – মালিক, পিতা-মাতা বা স্বামী-স্ত্রীর নামের বানানে গড়মিল।
২. ঠিকানা সংশোধন – ঠিকানা বা অন্যান্য করণিক তথ্যের ভুল।
৩. অংশের ঘরে ভুল – অংশ কম বা বেশি লেখা (যেমন ৫০ এর জায়গায় ৫০০ লেখা)।
৪. জমির শ্রেণীতে ভুল – ধানিজমির জায়গায় বাস্তুভিটা লেখা ইত্যাদি।
৫. দাগ নম্বরে ভুল – মূল দাগের পরিবর্তে অন্য দাগ বসে যাওয়া।
ভূমি মালিককে সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ড কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণাদি নিয়ে আবেদন করতে হবে।
সরকারের উদ্যোগ
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ১৯৫০ সালের স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি অ্যাক্ট-এর ১৪৩ ও ১৪৪ ধারার ক্ষমতা অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ের এসিল্যান্ডদের এসব ভুল সংশোধনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
ভূমি বিশেষজ্ঞদের মত
ভূমি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে লাখো ভূমি মালিক মামলা, হয়রানি ও অযথা খরচ থেকে মুক্তি পাবেন।
ভূমি মালিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—দলিলে কোনো ভুল ধরা পড়লে মামলা না করে সরাসরি এসিল্যান্ড কার্যালয়ে প্রমাণপত্রসহ আবেদন করতে।

