‘এপেস্টেইন কেলেংকারি’ ঢাকতে মোদি-বাংলাদেশ যুদ্ধ-প্রস্তুতি। মুক্তগদ্য। সালেম সুলেরী

by protibimbo
০ মন্তব্য ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

যে কোনো মূল্যে বৃহত্তর রংপুর-কে চায় ভারত
‘এপেস্টেইন কেলেংকারি’ ঢাকতে
মোদি-বাংলাদেশ যুদ্ধ-প্রস্তুতি
(মার্কিন মিডিয়া ঠিকানা’য় সদ্যপ্রকাশিত)
সালেম সুলেরী

সারা বিশ্বের হৃদয় কাঁপিয়েছে ‘এপেস্টেইন ফাইল’। কোমলমতি নারী শিশুদের বলৎকারের লোমহর্ষক কাহিনী। বিশ্বের খ্যাতিমান তারকা ব্যক্তিত্বরা তাদের উপভোগ করেছে। বিলিয়ন ডলারের ধনকুবেরেরা অপকর্মে জড়িত। বিকৃত বিনোদনের বীভৎস সব ঘটনাবলি। ধর্ষণের আগে কিশোরীদের গোপনাঙ্গ প্রসারকরণ। তরুণীদের গর্ভবতী বানিয়ে ভ্রুনের স্যুপ খাওয়া। এমনকি বলিদান দিয়ে সেই শিশুদের মাংস ভক্ষণ। ইহুদি ধর্মাবলম্বী জেফরি এপস্টেইন ছিলেন মূল উদ্যোক্তা। ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদে’র প্রতিনিধি। আদালত কর্তৃক ধর্ষক হিসেবে সাজাপ্রাপ্ত তিনি।

আমেরিকার ফ্লোরিডায় ক্যারিবীয় দ্বীপে গড়েন সংরক্ষিত আস্তানা। নানা কৌশলে শিশু-কিশোরীদের জড়ো করাতেন। বান্ধবী ঘিসাইল ম্যাক্সওয়েলসহ অপকর্মে নেতৃত্ব দিতেন। বিশ্ব তারকাদের বিনোদনে জড়িয়ে ছবি তুলতেন। রেকর্ড রেখে সুযোগমতো ব্ল্যাকমেইলও করতেন। খ্যাতিমানদের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, হিলারী ক্লিনটন। শীর্ষ ধনী বিল গেটস, ইলন মাস্ক। প্রয়াত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংস। ব্রিটেনের রাজপুত্র এন্ড্রু, মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক শেখ। এবং নাম এসেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি’র। মার্কিন আদালত প্রায় তিন লাখ নথি প্রকাশ করেছে। মোদিকে নিয়ে ভারতে চলছে প্রতিবাদ, উন্মাদনা।

এপেস্টিন কেলেঙ্কারিতে ট্রাম্পবিরোধী প্রতিবাদ চলছে আমেরিকায়। ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে ভারতের মোদি সরকার। বিরোধীপক্ষ লোকসভা গরম করার চেষ্টায় সোচ্চার। অন্যদিকে প্রতিবাদসভা ও টুইটারে তীব্র সমালোচনা। প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ‘জাতীয় লজ্জা’ বলা হচ্ছে।

Banner

অ্যাক্টিভিস্টরা দিচ্ছেন নিত্য-নতুন তথ্য, মন্তব্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রামাণ্য বিশ্লেষণ। বলছেন, গুজরাটসহ বিভিন্ন রাজ্যের ৪১ হাজার নারী নেই। এদের অধিকাংশই শিশু, কিশোর, অবিবাহিতা। দেড় দশকে তারা ভারত থেকে হারিয়ে গিয়েছে। ধারণা করা হয় বিশাল একটি অংশ এখন আমেরিকায়। এপেস্টেইন ক্যারিবিয়ান দ্বীপে অনেককেই মিলবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কারিশমা এটি। ২০১৭ এর জুলাই মাসে ইসরাইল সফর করেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প-এর সামনে নেচেছিলেন। পরে এপেস্টেইন দ্বীপে বিশেষ আথিত্য নেন।

‘সেক্স অফেন্ডার’ বা যৌন নিপীড়ক জেফরী অ্যাপেস্টেইন। ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইহুদ বারাকের বন্ধু। ওনার শাসনকালে ‘মোসাদে’র প্রশিক্ষণ নেন। পরে বিভিন্ন দেশে কার্যক্রম চালান। পাশাপাশি ক্যারিবীয় দ্বীপের সেক্স-রেকেট জমিয়ে তোলেন। শীর্ষ ধনকুবের বিল গেটসও ফাঁদে পা দেন। রাশিয়ান তরুণীদের পাল্লায় পড়ায় দাম্পত্য হারান। মিলিন্ডা গেটস-এর সঙ্গে বিচ্ছেদটি পৃথিবীকে কাঁদিয়েছিলো।

জেফরি অ্যাপেস্টেইন ২০১৯ এ কারারুদ্ধ হন। নিউইয়র্কের জেলে ১০ আগস্ট রহস্যজনক আত্মহত্যা। ১৯৫৩ সালে তিনি নিউইয়র্কে সাধারণ ঘরে জন্ম নেন।

ভারতে মোদি সরকার অ্যাপেস্টেইন ইস্যুর পরিবর্তন চায়। জনগণের দৃষ্টি পাল্টাতে চলছে প্রস্তুতি। প্রধান টার্গেট বাংলাদেশের সঙ্গে যুদ্ধ বাঁধানো। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সেক্ষেত্রে গুরুত্ব পাচ্ছে। ধর্মান্ধ বিজেপির আগ্রহ ধর্মপ্রধান দলগুলোর প্রতি। জামাতের নেতৃত্বে রয়েছে ১১ দলীয় জোট। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে রয়েছে সুসম্পর্ক। তবে জামাত নেতাদের সঙ্গে চলছে গোপন সমঝোতা। সূত্রমতে জামায়াতের বিজয় এখন ভারতের চাওয়া। কারণ সাম্প্রদায়িক ইস্যু তৈরি হবে অচিরেই। সে ক্ষেত্রে ভারত যুদ্ধ বাঁধানোর একটি সুযোগ পাবে।

সাতটি কারণে যুদ্ধ চায় ভারত বৃহত্তর রংপুর দখলই প্রধান লক্ষ্য

ঢাকার গুলশানে ভারতীয় দূতাবাস ভীষণ বিরক্ত। কারণ নিকটস্থ সড়কের ভারত-বিদ্বেষী নামকরণ হয়েছে। উদ্বোধন হয়েছে ‘শহীদ ফেলানি সড়ক।’ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের কাঁটাতারের নিহত কিশোরী ফেলানী। রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় এলাকায় বিএসএফের গুলিতে মৃত্যুবরণ। অনেকের মতে ভারতীয় আগ্রাসনে ফেলানি শহীদ হয়েছে। সারা বিশ্বের মানবতাবাদী মানুষকে নাড়া দেয় ঘটনাটি।

বৃহত্তর রংপুরের ছয়টি বিষয় ভারতকে ভাবাচ্ছে। অচল পড়ে থাকা দুটি বিমানবন্দর সচল হচ্ছে। ঠাকুরগাঁও এবং লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি। চীন, পাকিস্তান, তুরস্কের সহযোগিতায় পুনর্গঠিত হচ্ছে। ভারতের শিলিগুড়ি ‘চিকেন নেকে’র সন্নিকটেই লালমনিরহাট। ভারত আপত্তি জানালেও এগিয়ে চলেছে নির্মাণকাজ। নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর বিমানবন্দর সম্প্রসারিত হচ্ছে। সেটির অবস্থানও মূলত ক্যান্টনমেন্টের বুকের ভেতর। একযোগে তিনটি বিমানবন্দরের উত্থান ভারতকে ভাবিয়ে তুলেছে।

সৈয়দপুর-নীলফামারী সড়কে হচ্ছে ১০০০ শয্যার হাসপাতাল। ১৬ জেলার উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ চিকিৎসালয়। তিন বছরের মাথায় নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হবে। হলে ভারতমুখী চিকিৎসাদৌড় অনেকটা থেমে যাবে। অর্থনৈতিকভাবে পশ্চিমবঙ্গ ও অন্য অনেক চিকিৎসালয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো ‘চীনের রামরাজত্ব’। সুবিশাল হাসপাতালটি হচ্ছে চীনের অর্থায়নে, তত্বাবধানে। এ বিষয়েই ভারতের সমর কুশীলবদের আপত্তি। কারণ বৃহত্তর রংপুরে একটি চীনা চিকিৎসাঘাঁটি স্থায়ী হবে।

হিন্দু ধর্মের সারস্বত ৫০ ‘সীতাপীঠে’র একটি দেবীগন্জে। রংপুর বিভাগের করতোয়া সংলগ্ন ত্রিমোহিনীতে। প্রতিবছর দুর্গাপূজার পূর্বে বসে বিশাল মিলনমেলা। ভারতীয় দূতাবাসের উপ হাইকমিশনার তাতে অংশ নেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তরবঙ্গের হিন্দুরা অংশ নিতে মরিয়া। কিন্তু রাজনৈতিক বাতাবরণে ভিসা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধতা। ভারতীয় পক্ষ সীতাপীঠে’র পূর্ণ সান্নিধ্য পেতে যারপরনেই আগ্রহী।

বৃহত্তর রংপুরের সৈয়দপুরে বাংলাদেশের একমাত্র ‘ইপিজেড।’ এখন বিশ্বমানের মডেলকার, উইগ, কফিন নির্মাতা। পার্বতীপুরের লোকোমোটিভ কারখানা রেলের হুইল নির্মাতা। দেশের কয়লা ও পাথরের খনিগুলো এখানে বিরাজমান। ঐতিহাসিক ‘তিস্তা ব্যারেজ’ বৃহত্তর রংপুরে। গণদাবির মুখে মহাপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। চীনের অর্থায়ন ও কারিগরি সহযোগিতায় এগুচ্ছে কাজ। নির্বাচনের পরপরই শুরু হবে টেন্ডার কার্যক্রম।

‘তিস্তা মহাপ্রকল্পে’র বিষয়টি ভারতের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। যেকোনো মূল্যে তা প্রতিহতকরণের প্রস্তুতি চলছে। বলা হচ্ছে শিলিগুড়ি করিডোরের মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে। মহাশত্রু মহাচীনের উপস্থিতি ভারতের জন্য হুমকি স্বরূপ।

সবদিক বিবেচনায় বৃহত্তর রংপুরের দখল চায় ভারত। পশ্চিমবঙ্গের রিপাবলিকান টিভি তেমনটি চাচ্ছে। সমর কুশীলবরা মনে করেন একটি যুদ্ধই সমস্যার সমাধান। সূচনাতেই বিশাল সামরিক শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।

  • অ্যাপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে ফের ঐক্য– ট্রাম-মোদির। আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যে শুল্ক ছিল ৫০%। এপেস্টেইন ইস্যুকে ঘিরে সম্পর্কের বরফ গলেছে। শুল্কহার ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। ভারত মনে করছে সুযোগটি কাজে লাগাতে হবে।ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে উঠিয়ে নিয়ে গেছে আমেরিকা। রংপুর বিভাগ দখলেও মার্কিন সহযোগিতা পেতে ভারত মরিয়া। ‘সেভেন সিস্টার্স’ রক্ষা ও চলাচল সুগম করতে চলছে এ প্রক্রিয়া।

৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ss.generation71@gmail.com

 

সম্পর্কিত খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আবুল খায়ের 

নির্বাহী সম্পাদক: 
বার্তা প্রধান:

অফিস: বাড়ি ০৭, সড়ক ১৪/সি, সেক্টর ৪,

উত্তরা, ঢাকা-১২৩০।

যোগাযোগ: ০১৭১৫৩৬৩০৭৯

বিজ্ঞাপন: ০১৮২৬৩৯৫৫৪৯

Email: khair.hrm@gmail.com

info@dainikprotibimbo.com

protibimboprokash.com

ফেসবুকে আমরা

©2025 Dainik Protibimbo – All Right Reserved. Designed and Developed by Bangla Webs