নোয়াখালী সেনবাগ, উপজেলায় ১,৭১,৫৯১ জন নারী জনসংখ্যার জন্য সরকারি হাসপাতালে ১টি মাত্র লেবার রুম (নরমাল ডেলিভারি রুম)
থাকাটা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত অপ্রতুল এবং উদ্বেগের বিষয়। বিষয়টিকে কয়েকটি জরুরি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা প্রয়োজন:
১. স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সেবার মান
অতিরিক্ত চাপ: ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি নারী জনসংখ্যার অনুপাতে ১টি মাত্র ডেলিভারি রুম থাকলে, একই সময়ে একাধিক প্রসূতি মা এলে সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে।
সংক্রমণের ঝুঁকি: একটি ডেলিভারি শেষ হওয়ার পর সেটি সঠিকভাবে জীবাণুমুক্ত (Sterilize) করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায় না, যা মা ও নবজাতক উভয়ের জন্যই মারাত্মক ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
২. প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়া:-
মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমাতে ঘরে প্রসবের বদলে হাসপাতালে এসে নিরাপদ প্রসব (Institutional Delivery) করানোর ওপর জোর দিচ্ছে। কিন্তু হাসপাতালে যদি পর্যাপ্ত শয্যা বা রুমই না থাকে, তবে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে বাড়িতে অনিরাপদ উপায়ে প্রসব করাবে। এতে প্রসবকালীন জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
৩. সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক বোঝা
সরকারি হাসপাতালে জায়গা বা সুযোগ না পেয়ে অনেক দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবার বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতালে যায়। এতে তাদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়, যা অনেকের পক্ষেই বহন করা কঠিন।
সারসংক্ষেপ: একটি নিরাপদ ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে এই বিপুল জনসংখ্যার অনুপাতে অন্তত ৩ থেকে ৪টি লেবার বেড বা রুম থাকা জরুরি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত দক্ষ মিডওয়াইফ (ধাত্রী) এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে কোনো মা-কে সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে বা ঝুঁকিতে পড়তে না হয়।

