বার্লিনালে ৭৬ — আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব
—- বার্লিন থেকে কবি নাজমুন নেসা পিয়ারি
২০২৬ সালের বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব চলেছিল ১২ই ফেব্রুয়ারি থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি। সবমিলিয়ে ১০ দিনের এই উৎসবের জন্য ভীড় জমেছিল ছায়াছবির দর্শকদের, বিভিন্ন দেশ থেকে আগত প্রতিযোগী চিত্র তারকাদের ভক্তদের। বার্লিনের ব্রান্ডেনবুর্গ গেটের অদূরে পটসডামার প্লাৎস এলাকায় মেরলিনে ডিট্রিশ প্লাৎস এলাকায় প্রতিযোগিতার বেশীরভাগ ছবি প্রদর্শিত হয়। এ ছাড়াও শহরের অন্যান্য যায়গায়র পেক্ষাগৃহেও কিছু ছবি দেখানো হয়।
২২ শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের শুরুতে বার্লিনালে-র পরিচালক ট্রিশিয়া টাটেল তার উদ্বোধনী ভাষণে বলেন— “এই উৎসব অনুষ্ঠিত হলো এক ক্ষত বিক্ষত পৃথিবীতে। এখানে অনেকেই তাঁদের সঙ্গে নিয়ে
এসেছেন দুঃখ – বেদনা এবং উপস্থিত হয়েছেন পরিস্থিতির জরুরি অবস্থার উৎকন্ঠা নিয়ে — যা চার দেয়ালের সিনেমার বইরে বহুদূরে বিরাজ করছে। এই অনুভূতি বাস্তব — যদিও আমরা অনেক দূরে রয়েছি এখানেও আমাদের এলাকায় তা বিরাজ করছে। আমরা তা শুনতে পাই। সমালোচনার যেমন বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। তেমনই সেক্ষেত্রে মত বৈষম্যও হতে পারে। আমরা অন্য কারো বক্তব্যকে সম্মান জানাই — কারো বক্তব্যের সঙ্গে একমত না হলেও। সমালোচনা গনতন্ত্রেরই অংশ।” তিনি আরো বলেন, “ আমি এজন্য গর্ববোধ করি যে উৎসবের এই দশ দিন আগের মতোই ছিল যেরকম আগেও ছিল— যেকারনে এ উৎসব সৃষ্টি হয়েছিল তার বত্যায় ঘটেনি। ছায়াছবির এই উৎসব হলো এমন এক জায়গা যেখানে সবাই একত্রিত হয় — একই সাথে অন্ধকার ঘরে বসে এবং পৃথিবীকে দেখে অন্যরে দৃষ্টিকোন থেকে।
এই উৎসবে দশদিনে ৮০ টি দেশের ২৭৮ টি ছবি দেখানো হয়। ঝুঁকি নিয়েই পরিচালক তাঁর ছবির কাহিনী সাজিয়েছেন। তাঁদের ছবিতে রয়েছে ভায়োলেনস, সারভাইবাল, অবিচার, স্মৃতিকথা, স্মরণগাঁথা এবং ভালবাসা ও বন্ধুত্বও।
বার্লিনালেতে মুক্ত বক্তব্য অর্থ শুধু একটাই স্বর না — ভিন্ন ভিন্ন রূপে তা প্রতীয়মান হয়। কখনও শান্ত, কখনও ক্রুদ্ধ। কখনও নীরব মনে হলেও সিনেমার ভেতর দিয়েই তাঁরা বিশ্ব ও মানুষের বিষয়ে গভীর ভাবনার কথা বলেন। তাঁরা উৎসাহিত করে, তাঁরা আবেদন করে, তাঁরা নীরবে বা সরবে তাঁদের কাজ চালিয়ে যান যাতে আমরা তা লক্ষ্য করি! এবং এই বৈচিত্র লক্ষ্য করা যাবে আজকের পুরষ্কৃত সিনেমায়। যদি এই বার্লিনালে উৎসব সরব ও আবেগে ভরপুর মনে হয় তবে তাকে সিনেমার ব্যার্থতা বলে আখ্যায়িত করা যাবে না। একে বালা যাহ বার্লিনালে তার কাজ করছে, সিনেমা তার কাজ করছে!”
শ্রেষ্ঠ ছবির জন্য স্বর্ণ ভল্লুক — বার্লিনাল-এর সর্বোচ্চ পুরষ্কারটি জয় করে নেন তুরষ্কের বংশদ্ভুত বার্লিনবাসী জার্মান পরিচালক লেকার চ্যাটাক — তাঁর ছায়াছবি “গেলবে ব্রীফ” অর্থাৎ “হলুদ চিঠি”-র জন্য বার্লিনাল-এ তাঁকে এই পুরস্কারে ভূষিত করে! তিনি তিন বছর আগে আন্তর্জাতিক অস্কার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন।
সিলভার বিয়ার শ্রেষ্ঠ পুরস্কার রৌপ্য ভল্লুক জুরিদের কাছ থেকে গ্রহন করেন পরিচালক এমিন আলপার তাঁর ছবি “কর্তুলুস-এর জন্য।
জুরিদের কাছ থেকে শ্রেষ্ঠ পরিচালকের রৌপ্য ভল্লুক পুরস্কার অর্জন করেন গ্র্যনট গি “এভরি বডি ডিগস বিল ইভানস” ছবির জন্য।
জুরিদের কাছ থেকে রৌপ্য ভল্লুক পুরস্কার গ্রহণ করেন “ কুইন এট সি” ছায়াছবি পুরষ্কৃত হওয়ার জন্য পরিচালক লানস হামার।
প্রধান চরিত্রে অভিনয় দক্ষতার শ্রেষ্ঠ অভিনয়ের জন্য সিলভার বিয়ার পুরস্কার জয় করে নেন জার্মান অভিনেত্রী ফন মার্কুস শলাইনৎসার ।
—— চলবে

