লতা আর কাশেমের প্রেম কাহিনি
কবি ইফ্ফাত জাহান চৌধুরী
অনেক দিন ধরে লতা, আর কাশেম প্রেম করে যাচ্ছে। প্রায় সময় তারা দেখা সাক্ষাৎ করে রেষ্টুরেন্ট, পার্কে আবার কখনও রিসোর্টে চলে যায় দুই তিন দিনের জন্য। দুইজনে মিলে শপিং করে অনেক গিফট দেওয়া হয় একজন আরেক জনকে এভাবেই চলছে তাদের জীবন ও প্রেম কাহিনি। সারাক্ষণ ফোনে টাচে থাকে মেসেজ বা কথার মাধ্যমে। যখন দুইজনের ঝগড়া হয় তখন লতা সব গিফট ফেরত চায়। তখন কাশেম বিপাকে পরে যায়। কারণ তৈল, সাবান, সেম্পু, কোথাও থেকে দিবে।কিছুদিন পরে লতা আবার নক করে এবং কাশেমকে। এক প্রকার জোর করে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে; কাশেম অগত্যা রাজি হয়ে যায়।আবার কথাও মিট করে একজন অন্যজনকে সরি বলে। গিফটগুলো আবার কাশেমকে ফেরত দেয়। কাশেম নিতে চায় না জোর করে দেয়।এইভাবে চলে যায় অনেকদিন। হঠাৎ এক পার্কে তারা ঘুরতে গেল সাথে একটা কফি সপ আছে। তারা কফি অর্ডার করলো ফাঁকে একজন আরেক জনের ছবি তুলে দিচ্ছিল। তখন ওই জায়গায় কাশেমের এক বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে যায় । দুই বন্ধু বললো- আরে তুই?
হা আমি, তুই এখানে। ভাবি নাকি? কাশেম উওর না দিয়ে বলল- তর কি খবর বল দোস্ত।
বন্ধু একটু অবাক হলো; লতা বলল- আমি একটু ওয়াশরুমে যাব, বলে চলে গেল।
এখন বন্ধু বলল- কিরে, কি দেখে প্রেম করেছিস? তুই তো আমাদের মধ্যে হিরু। তুই এই মেয়ের সাথে কিভাবে প্রেম করিস? এই বলে বন্ধু বিশ্লেষণ করা শুরু করলো-
নম্বর ১) মেয়ের গায়ের রং কালো, গেরান্টি কালার নষ্ট হবে না
নম্বর ২) চোখ দেখেছিস, কাঁটা চামচ দিয়ে যদি টেনে স্টেপলার মারিস তাও তো চোখ দেখা যাবে না।
নম্বর ৩) এই মেয়েকে তো বেডা ষ্টাইলের মহিলা দেখা যায়…
আরো বিশ্লেষণ করতেই থাকল।
একটা সময় দেখে কাশেম চুপ করে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। বন্ধুও অবাক, তুই কথা বলছিস না কেন…?
তখন কাশেম হাসতে লাগল, বন্ধু বলল,
– তুই কি পাগল হয়ে গিয়েছিস।
কাশেম বলল,
– আমি আগে পাগল ছিলাম, এখন নরমাল, তুই তো এতক্ষণ বললি এখন আমার কথা শুন।
বন্ধু খুব আগ্রহ নিয়ে বললে বল,
-আমি শুনতে চাই।
কাশেম বলল,
– যখন আমি ওর গলা থেকে পা পর্যন্ত দেখি মনে হয় যে গার্ল ফ্রেন্ড
আর যখন গলা থেকে মুখ দেখি তখন মনে হয় আমার বয়ফ্রেন্ড।
এই কথা শুনে বন্ধু বলল,
– তুই ওর সাথে কেন রিলেসন রাখছিস?
কাশেম বলল,
– আমি প্রথম বুঝি নাই মেয়েটা এতটা খারাপ, যখন বুঝতে পারলাম অনেকবার ছুটতে চেয়েছি, সে আমাকে ব্ল্যাকমেল করে, মানসিক টর্চার করে, সমাজে সম্মানের ভয়ে পরে আছি।
বলেই কাশেম কেঁদে ফেলল; তখন বন্ধু বলল,
– তুই টেনশন করিস না, আমি দেখি কি করতে পারি।
আমরা তো সবসময় ছেলেদের দোষ দেখি, মেয়েরাও যে কতটা খারাপ হতে পারে তা, কাশেমের চোখের পানি, কথা বলাতে বুঝা গিয়েছে।
_____________________
কানাডায় তোলা ছবি
১২-০১-২০২৫