হস্তান্তরের আগেই ফাটল চিলাহাটি রেলস্টেশনের নবনির্মিত আইকনিক ভবনে
নীলফামারী জেলার চিলাহাটি রেলস্টেশনে নবনির্মিত আইকনিক ভবনে হস্তান্তরের আগেই ফাটলের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে একাধিকবার সংস্কার করতে দেখা গেছে। অবশেষে টাইলস পরিবর্তন করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিদর্শক ফরিদ আহমেদ চিলাহাটি রেলস্টেশন পরিদর্শনকালে স্থানীয়রা আইকনিক ভবনের ফাটলের চিত্র ও নবনির্মিত ওয়াশফিটের পিলারের ফাটলসহ নিম্নমানের কাজের অভিযোগ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রুবাইয়াত হোসেন, ইসমাইল ও সুমনসহ আরও অনেকে জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের কাজ করায় আইকনিক ভবন ও ওয়াশফিটের পিলারের ফাটল দেখা দিয়েছে। তারা নিম্নমানের বালু সিমেন্ট ও রড দিয়ে রাতের আঁধারে ঢালাইয়ের কাজ শেষ করছে। রেলওয়ের কর্তব্যরত কর্মকর্তারা দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে গেছেন।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অফিস সূত্র জানায়, ইঞ্জিন দাঁড়ানোর কারণে ভবনের ওই জায়গায় ফাটল ধরতে পারে। তবে স্থানীয়দের দাবি, কাজের মান খারাপ হওয়ায় ভবনে ফাটল ধরেছে। ব্যয়বহুল এই ভবনের কাজ শুরু থেকে কোনও সিটিজেন চার্ট না দিয়ে তারা তাদের ইচ্ছামতো কাজ করে গেছে। রেলওয়ের পক্ষে তদারকির জন্য পাকশী ডিভিশনের প্রকৌশলী-২ আব্দুর রহিমকে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তিনি সিটিজেন চার্টের ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কোনও তাগিদ দেননি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স-এর প্রকল্প পরিচালক নাজমুল হোসেন রকি এ ব্যাপারে কোনও তথ্য দিতে রাজি হননি।
স্থানীয়রা আইকনিক ভবনের ফাটলের চিত্র রেলওয়ের প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিম ও আইডব্লিউ শরিফুল আজিমকে অবগত করেন। এই সংবাদ পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্রুত ফাটলের জায়গায় উন্নত মানের আঠা দিয়ে বন্ধ করে রঙ লাগিয়ে ধামাচাপা দেয়। কিছুদিন পর ওই ফাটলের চিহ্ন পুনরায় দেখা দেয়। এরপর ফাটলের জায়গায় টাইলস খুলে মেশিন দিয়ে পুডিং করে। পুডিং শেষে পুনরায় সেই জায়গায় টাইলস বসিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে রাখে।
রেলের একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সঙ্গে চিলাহাটি হয়ে ভারতের রেল যোগাযোগ স্থাপনের জন্য চিলাহাটি রেলস্টেশনকে আধুনিকীরণ করার লক্ষ্যে প্রথম ধাপে ৮০ কোটি, দ্বিতীয় ধাপে তা বৃদ্ধি করে ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের শেষের দিকে কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সপ্রো কোম্পানি। ইতোমধ্যে আইকনিক ভবনের নির্মাণকাজ শেষ। বাকি কাজগুলো আংশিক বাকি রয়েছে। তবে স্টেশনমাস্টার, কর্তব্যরত স্টেশনমাস্টার ও বুকিং অফিসে এখনো এসি লাগানো হয়নি বলে তারা জানান। এমতাবস্থায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভবনটি হস্তান্তরের জন্য ওঠেপড়ে লেগে আছে। যেকোনও সময় ভবনটি হস্তান্তর হতে পারে। ইতোমধ্যে তারা তাদের মালামাল সরিয়ে ফেলেছে।
রেলওয়ের প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিম বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা গেছে ভবনের তেমন কোনও ক্ষতি হয়নি।’
মহাপরিদর্শক ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘দ্রুত ফাটলের স্থান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’