স্বপ্নের ভেতর
শিরীনা ইয়াসমিন
সূর্যচূড়া গেল ছুটে গজারি বনে। সেই থেকে ভোর দেখি না। সূর্যচূড়ার আভায় মন রাঙানো ভুলেই গেছি। সপ্তাহান্তে ভোরের সাথে যুদ্ধ আজ। ভোরের সাথে না বলে শয্যা আর ওমের সাথে বলা ভালো। মন গুটিয়ে শয্যা পেতে একটা বাজল। বিশ্বটাকে এক চক্করে ঘুরে এসে হল না শেষ! হাড়ির খবর মাড়ির খবর যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার খবর ঘড়ির কাঁটা দুটোর ওপর থামল এসে। গা এলিয়ে ওমের ভেতর যেই না ডুব, জ্বলছে শরীর একি!
ভাবছি উত্তরে হাওয়ায় আজ ডুবেই দেখি! শার্শি মাঝে হাত রেখে আতকে উঠি। কনসার্টে মেতে আছে বিশ্বমাঝে সবচেয়ে শক্তিশালী অত্যাচারী। লেকের পাড় বলেই নাকি রাজত্বটা এখানে বেশি। মন ফিরালাম। তিন ডানার ক্লান্তিহীন হাওয়ার ওপর ভরসা পেলাম।
সদ্য আসা কাঁচের ঘুমে পড়ল আঘাত। নীল আলোয় শব্দ মিলে হাপরের মত হাওয়া দিল, তাপে ঘুম লাভার মত গলে ফুটতে লাগল।
জ্বালামুখে সিল মেরে অন্ধকারে ডুব দিয়েছি।
ততক্ষণে ঘুম পালাল ওম পালাল। ছুটছি আমি গহীন বনে হরিণ যেন। আলোর বেগে ঘুরে এলাম সাত আসমান। হয়না বেচা মনটা আমার। ক্রেতা ধরা ভীষণ কঠিন। মনের বনে ভ্রমর আসে ফুলের রূপে মুগ্ধ হয়ে মধুর খোঁজে নেমে পড়ে। খলিশা ফুলের মধু, চড়া দাম, ক্রেতা ছুটে সরষে ফুলে। রং ভালো ভ্রমরও খুশি মধুও মেলে।
ভুলেই গেছি, ভ্রমরের ডানায় উড়া কখনো শিখিনি! নিজের ডানায়ই ভরসা পাই। শেকল পরতে বা পরাতে কোনটাতে মন লাগে না। অবিক্রীত মনটা নিয়ে মন্দ আছি? মোটেই না! ভাঙা ঘুম জোড়া দিয়ে হালকা ছফরে ছয়টা তের।
কুয়াশা ভেঙে ভোরের প্রার্থনায় সামিল যারা ওদের মত হয়নি আমি। প্রার্থনা শেষ সময় ঘড়িতে চোখ রেখে বিশ্বটাকে ছুড়ে ফেলে চোখ মুদি। জীবন পতনের শব্দ হল। নৈঃশব্দ্যে পিন পতনে যেমন মাটি কেঁপে ওঠে তেমন করে!ঝাঁকুনি খেলাম ডালে ডালে। এ গাছটার নিচের দিকটার একটি পাতা, তেমন হলুদ নয় পড়ল ঝরে!
ভাবতে গেলে মন চলে না শরীর অচল, পেশিতে নাই জোর । বারোটা বিশ মনে হয়ে চোখের পাতা ভারি হল। বাসের মাঝে ফেরিওয়ালার চেঁচামেচি। মনে পড়ল তিনটা সিঁড়ি! সিঁড়ি তো নয় তালগাছে বাঁশ বাঁধা। ভয়ে ভয়ে ওঠে পড়ি গাছের মাথায়। বিআরটিএ উন্নয়নের ছোঁয়ায় কখন আমার পা ভাঙে! লাফিয়ে পড়ি ফ্লাইওভার এ তিন ফিট ওপর থেকে। অর্ধ শতে পা দিয়ে এমন লাফালাফি! ঝক্কি বড়ো,উপায় তো নেই! চোখে ক্ষুধা মনে ক্ষুধা পেটের ক্ষুধা নাই বা বলি! ইএফটি এর ফান্দে আমি তার ওপর ভ্যাটের জ্বালা, কলরেটের লাগাম তো নেই, খরচ এখন আকাশ ছোঁয়া।
যাহোক সব পেরিয়ে বসের সামনে হাজির হওয়া ঠাণ্ডা আমি। লাল কালির পাইনি দেখা। ঘন্টা দুইয়ে এক আমার দুই হয়ে যায় ঘুমের ভেতর। দুই আমার এক হয় না, গণিতে ভীষণ কাঁচা। স্বপ্ন আমার করিয়ে নিল দুটো সফর ভালই তো, মন্দ না!
এক হিসেবে ভালোই আছি। ফাগুন আসবে স্বপ্ন দেখি। আটকে গিয়ে স্বপ্ন যদি ভাঙে! যেমন করে ছাউনিবিহীন মাটির দেয়াল অতি বৃষ্টিতে ধ্বসে! ভালোই আছি, নিজের ছায়ায় নিজে বাঁচি।
২ রা মাঘ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
শীতকাল।