লিটনের বাদ পড়া ও ইমনের দলে থাকা নিয়ে যা বললেন প্রধান নির্বাচক
আগামী মাসে আরব আমিরাত ও পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। এই আসরে জন্য রবিবার দুপুরে দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দলে তেমন কোনও চমক নেই। তবে জাতীয় দলের নিয়মিত ওপেনার লিটন দাসকে বাদ দেওয়া হয়েছে এই টুর্নামেন্ট থেকে। মূলত অফফর্মের কারণে অভিজ্ঞ এই ওপেনারকে দলে রাখা হয়নি। লিটনের বদলে সুযোগ পেয়েছেন খুব বেশি ওয়ানডে না খেলা পারভেজ হোসেন ইমন। দল ঘোষণার পর প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু লিটনের বাদ পড়া ও ইমনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
লম্বা সময় ধরে সাদা বলের ক্রিকেটে রান খরায় ভুগছেন লিটন। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা তার। ওয়ানডেতে যাচ্ছেতাই। সবশেষ ৫ ওয়ানডের ৩টিতে রানের খাতা খুলতে পারেননি। শেষ ৭ ওয়ানডে ইনিংসেও যেতে পারেননি দুই অঙ্কে। সবশেষ ওয়ানডে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন ২০২৩ বিশ্বকাপে; সেঞ্চুরিও পেয়েছেন ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তাই লিটনেদের বাদ পড়া নিয়ে প্রধান নির্বাচক গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘দুটো কারণ আমি বলবো। লিটন আউট অব ফর্ম। একজন ব্যাটার দীর্ঘদিন ধরে এই ফরম্যাটে রানের তীব্র খরায় ভুগছেন। আউটের প্যাটার্ন একইরকম। ক্রিকেটের সাদা বলের ফরম্যাটে পাওয়ারপ্লেতে যে সুবিধা নেওয়া দরকার… চাপ চলে আসছে, পার্টনারের চাপ বাড়ছে, তিন নম্বর এক্সপোজড। তারপরও অনেক আস্থা রেখেছিলাম। অনেক ম্যাচেই সুযোগ দিয়েছি। মাঝখানে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচেও দলে রাখিনি। আস্থার জায়গাটা… ব্যাটার ফর্মের বাইরে থাকলেও আস্থার জায়গা থেকে দলে রাখা হয়। আমার মনে হয় এ মুহূর্তে সেই অবস্থানে নেই।’
লিপু আরও বলেছেন, ‘প্রথম একাদশেও লিটনের জায়গা নেই। আমাদের মনে হয়েছে লিটনের ক্লাস, মেধা নিয়ে সন্দেহ নেই,। তবে ফর্মে সংকট, ঘাটতি দেখা গেলে তাকে সেই সংকট থেকে বের করে আনার জন্য যদি আরও কাজ করতে পারি, তাহলে আরও শক্তিশালী করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরাতে পারবো।’
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলা না হলেও লিটন দলের বাইরে চলে যাননি- তা স্পষ্ট করেছেন প্রধান নির্বাচক, ‘আমাদেরও এক্সপার্ট, অ্যানালিস্ট আছে। বিপক্ষ দলের অ্যানালিস্টরা বেশি সফল হয়ে যাচ্ছে। এটা ভাঙার উত্তম সময়। এমন নয় দল থেকে বাদ পড়ে গেছেন। সামনে অনেক খেলা আছে। এক্সপার্টরা এখন (লিটনের) দুর্বলতা নিয়ে কাজ করে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায় সেই সুযোগ পাবে।’
লিটন অফফর্মের কারণে বাদ পড়লেও কিছু না করেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলে জায়গা করে নিয়েছেন ইমন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের স্কোয়ডে থেকেও কোন ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। চলমান বিপিএলেও রান পাননি তরুণ এই ব্যাটার। সবমিলিয়ে কোন ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা না নিয়েই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন এই তরুণ। আহামরি পারফরম্যান্স না থাকলেও ইমনের অন্তর্ভুক্তি মূলত তার আগ্রাসী ব্যাটিং করতে পারার দক্ষতার কারণে। লিপু বলেছেন, ‘পারভেজ হোসেন ইমনকে নিয়ে আপনারা বলতে পারেন আহামরি কোনও পারফরম্যান্স তার নেই। এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে মনে হয়েছে যে জিনিসটা খুঁজছি বিশেষ করে সাদা বলের ক্রিকেটে, পাওয়ারপ্লেতে আগ্রাসী-ইমপ্যাক্টফুল ব্যাটিং, সে জিনিসটা তার মধ্যে আছে। যদি কোনও কারণে দুজন ওপেনারের মধ্যে তাকে থার্ড চয়েজ হিসেবে নিতে হয়, একই টেম্পোতে একই আগ্রাসনে সে ব্যাট করতে পারবে। তার যেটা আমাদের আকৃষ্ট করেছে, যখনই মনে হয় এটা অপরচুনিটি কিছু রান করতে হবে। দলকে জেতানোর জন্য, দলের মূল লক্ষ্য ঠিক রাখার জন্য। এত বড় গ্লোবাল টুর্নামেন্টে তাকে যদি রাখা যায়, তার ওপর আস্থা আছে। ভবিষ্যতে দীর্ঘদিন দলে কন্টিনিউ করবে এই আস্থা আছে এ কারণেই তাকে নেওয়া। ’
এদিকে, ইনজুরির কারণে বিপিএল খেলতে পারছেন না সৌম্য সরকার। তার ইনজুরির অবস্থা উন্নতির দিকে। তাকে রেখেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি আছেন ছন্দহীন তানজিদ হাসান তামিমও। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সৌম্য ও জুনিয়র তামিমকেই ওপেনিংয়ে দেখতে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানালেন প্রধান নির্বাচক, ‘সৌম্য ও তামিম ভালো করছে জুটি হিসেবে। তারাই ইনিংসের শুরু করতে যাচ্ছে। ’
দল নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে লিপু শেষে বলেছেন, ‘একাদশ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমরা নির্বাচকরা হস্তক্ষেপ করি না। ক্যাপ্টেন এবং কোচের মতামতের মূল্যই সবচেয়ে বেশি। তারা যে খেলোয়াড়কে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে করে তাকেই খেলায়। এ কারণেই ইমনকে হয়তো দেখতে পারেননি। দল গঠনে আমাদেরও মনে হয় এই খেলোয়াড় হয়ত কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। এ নিয়ে আলোচনা হয়, কেন নিচ্ছি সেই যৌক্তিকতা তুলে ধরি। জুনিয়র তামিমের এপ্রোচের সঙ্গে মিল রেখে আমরা একজনকে খুঁজেছি। ’