বাগেরহাটের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) আবুল হাসনাত খানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মতিউর রহমান এই আদেশ দেন। এর আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে রংপুর থেকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল সাবেক এসপি আবুল হাসনাত খানসহ পুলিশের আরও তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে আটক করে। পরদিন (শনিবার) জেলার ফকিরহাট থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলায় পুলিশ সুপার আবুল হাসনাতের বিরুদ্ধে সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়া, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনের চেষ্টা এবং ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এই মামলায় অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, শেখ তন্ময়, মীর শওকত আলী বাদশা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ কামরুজ্জামান টুকু, সাধারণ সম্পাদক ভূঁইয়া হেমায়েত উদ্দিন, বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র খান হাবিবুর রহমান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান যুবলীগ নেতা সরদার নাসির উদ্দিন ও শেখ হেলাল উদ্দিনের একান্ত সচিব ফিরোজুল ইসলাম জোমাদ্দার।
আদালতের রায়ের পরও ইব্রাহিমের মুক্তি পেতে সময় লাগলো ৮ বছর!
‘জুলাই আন্দোলন না হলে আমি পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি পেতাম না’
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মাহবুব মোরশেদ লালন বলেন, সাবেক তিন সংসদ সদস্য, সাবেক পুলিশ সুপারসহ মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এই মামলায় এসপি আবুল হাসনাতকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের ২৭ ব্যাচের কর্মকর্তা আবুল হাসনাত খান ২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটে পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি ‘একটি ব্যালট, একটি বুলেট’ বক্তব্য দিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন। এছাড়া, ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের আগে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে ‘যেখানে উন্নয়ন, সেখানেই ধ্বংস’ মন্তব্য করেও বিতর্ক সৃষ্টি করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট উপজেলার কাটাখালী গোলচত্বর এলাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলন নস্যাৎ করার উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা জড়ো হয়ে বোমা বিস্ফোরণ ঘটান এবং হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়েন। এই ঘটনার পর থেকেই বাগেরহাটে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।