নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ব্যতিক্রমধর্মী ও সময়োপযোগী এক “রোবোটিক্স ওয়ার্কশপ” অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২ এপ্রিল ২০২৬) দিনব্যাপী আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয় এবং শিক্ষার্থীদের হাতে–কলমে রোবোটিক্স ও প্রোগ্রামিংয়ের প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়।
ডিজিটাল যুগের চাহিদা পূরণে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে কর্মশালাটি আয়োজন করে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশন। উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় প্রায় ১২০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
কর্মশালায় রোবোটিক্স, প্রোগ্রামিং ও প্রযুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো ব্যবহারিকভাবে শেখানো হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আগ্রহের সৃষ্টি হয়।
কর্মশালায় টিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (KUET)-এর শিল্প প্রকৌশল ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২৪ ব্যাচের চারজন শিক্ষার্থী। তাদের তত্ত্বাবধানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তির ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে ধারণা লাভ করে এবং নিজেদের সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ পায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহসিয়া তাবাসসুম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল্লাহ, আইসিটি অফিসার আব্দুর রহিম এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন।
বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্ব দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। তাই শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করা সময়ের দাবি। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে সহায়ক হবে।
সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক মো. ইমরান হোসেন ভূঁইয়া ও সদস্য সচিব মাহামুদুর রহমান রাকিব বলেন, গ্রামীণ পর্যায়ে প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার ঘটাতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সেনবাগ উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে রোবোটিক্স ওয়ার্কশপ চালু করতে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ও সমাজের বিত্তশালীরা এগিয়ে আসবেন।
তারা আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে সৈয়দ হারুন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও টপস্টার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লায়ন সৈয়দ হারুন এমজেএফ-এর অবদান অনুকরণীয়।
কর্মশালায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন। তারা এ উদ্যোগকে যুগোপযোগী ও প্রশংসনীয় হিসেবে অভিহিত করেন। তাদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রযুক্তি বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি এবং ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
আয়োজকরা জানান, এ ধরনের প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মশালা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রযুক্তিনির্ভর, সৃজনশীল ও আত্মনির্ভরশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার অগ্রযাত্রা: ছিলোনিয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য রোবোটিক্স ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত
সেনবাগ প্রতিনিধি:
১৯

