২৩
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এ বছরের ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
যে ১৫ জন ব্যক্তি এবারের রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক এই পুরস্কারে মনোনীত হয়েছেন, তাদের একজন মো. সাইদুল হক। ছোটবেলায় টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে চোখের আলো নিভে যায় সাইদুল হকের। চোখের আলো নিভে গেলেও তিনি দমে যাননি। জ্ঞান স্পৃহা ও আলোকিত মানুষ হওয়ার স্বপ্ন তাকে সফলতার পথ দেখিয়েছে। এ যেন ধণুভাঙা পণ।
চোখে আলো নেই, তাতে কী- আলোর পথযাত্রী হয়ে দ্রুতি ছাড়াচ্ছেন সমাজে, কাজ করে যাচ্ছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য। রাজধানীর মিরপুরে ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহেবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (বার্ডো) নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এর আগে সমাজে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রীয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘একুশে পদক’ পেয়েছেন এই বিশিষ্ট নাগরিক।
১৯৬৭ সালের ১০ মে বরিশালের বাকেরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন সাইদুল হক। শৈশব কেটেছে তার সেখানেই। সরকারি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয় বরিশাল থেকে এসএসসি (১৯৮৩), বরিশাল বিএম কলেজ থেকে এইচএসসি (১৯৮৫) ও পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। সেখানে ১৯৮৮ সালে অনার্স ও ১৯৮৯ সালে দর্শনে মাস্টার্স শেষ করেন। পড়ালেখার পাশাপশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে তিনিও কাজ করেছেন। এরপর পড়াশোনা শেষ করে প্রথমে ঢাকার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের একটি স্কুলে অধ্যাপক হিসেবে ছিলেন, পরে একটি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। তবে তিনি সব সময় ভাবতেন চাকরি করলে নিজে চলতে পারবেন, কিন্তু তার মতো যাদের চোখের আলো নেই তাদের জন্য তো কিছু করতে পারবেন না। এই চিন্তা থেকে তিনি বার্ডো প্রতিষ্ঠা করেন।
মিরপুরের রুপনগরে গড়ে তুলেছেন বার্ডো নামে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের স্কুল, হাসপাতাল, বেইল প্রেস ও একটি লাইব্রেরি। এখানে প্রথম শ্রেণি থেকে এইচএসসি পর্যন্ত পড়ালেখা করতে পারছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা।

