স্বপ্নের আনাগোনা
ফারুক জাহাঙ্গীর
এ বুকে তোলপাড়, বেহিসেবী স্বপ্নের আনাগোনা
কবিতার উপমা হবার এই এক প্রাণান্ত বাসনা
তবুও তা হলাম কই, থামেনি যে ভেতরের হৈচৈ
হিরণ্ময় প্রহরে খুঁজবো নাহয় নীলাদ্রি সে নগর।
রাত গভীর হয়, অতীন্দ্রিয় ছায়াটা চেপে ধরে কণ্ঠ
বুকের ভেতর জাগে অমিত প্রণয় উচ্ছ্বাস
অতঃপর স্বপ্ন আসে ভালোবেসে কাব্যিক বাসরে
হেসে ওঠে কবির কবিতার প্রেমার্দ্র ছায়া নিলয়।
তবুও ধীরে ধীরে আকাশে জমে মেঘেদের সারী
হিমেল বাতাসের ছোঁয়ায় ওদের দেহ হয় ভারি
নির্নিমেষ অপেক্ষায় ঝরতে সুনসান রাত্রির বুকে
কবির কবিতা হয়ে ওঠে যেন লাস্যময়ী নারী।
হঠাৎ ছন্দপতন, দমকা বাতাস মেঘের বালিয়াড়ি
কোলাহল বাড়ছে ধীরে বাসনার দুই তীরে
কবিতার বেলাভূমে শোনা যায় কাকস্য হাঁকডাক
কবির কবিতা শ্লীলতা খুঁজে প্রণয় অভিসারে।
রাত্রির ঘুম ভেঙ্গে যায় ধুমপতনের বিকট শব্দে
আলুথালু বেশে কবিতা বিমর্ষ
দিগন্তে নবীন প্রভাতের পূণ্যময় আলোর বিচ্ছুরণ
কেটে গেছে আজ সব বিদঘুটে মেঘ।
মুক্তির আনন্দে হাসছে কবি, কবিতার চোখে আনন্দাশ্রু
রক্তঋণে আঁধারের অমানিশা কেটেছে আজ
কবিতা ভুলেছে অযুত বেদনার ক্লেদাক্ত সময়
মুক্তির আনন্দে হাসছে আমার কাব্যসখির প্রাণ।