৪
একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রখ্যাত কবি ও প্রবীণ সাংবাদিক আল মুজাহিদীর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতীয় কবিতা পরিষদের ৬৯তম নিয়মিত ‘কবিতাপাঠ ও আলোচনা সভা’ সম্পন্ন হয়েছে।
গত মঙ্গলবার, ২৩ জুন, বিকাল ৫টায় রাজধানীর ২৬ ইস্কাটন গার্ডেন রোডস্থ ‘কাজল মিলনায়তন’- এই সাহিত্য সভা ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি উৎসর্গ করা হয় দৈনিক ইত্তেফাক-এর দীর্ঘদিনের সাহিত্য সম্পাদক সদ্য প্রয়াত কবি আল মুজাহিদীর জীবন ও কর্মের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা রেখে। ।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে রণাঙ্গনের কবি মোহন রায়হান বলেন, ‘একজন আল মুজাহিদী কেবল কবি ছিলেন না; তিনি ছিলেন তাঁর সময়ে বাংলা ভাষা এবং সাহিত্যের মহান সংগঠক। তিনি ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন ডাকসাইটে ছাত্র নেতা এবং সব শেষে একজন সাধারণ মানুষ। তুমুল যোগ্যতা নিয়ে আমাদের দেশে সাধারণ মানুষ থাকার নজির কবি আল মুজাহিদী!’
অনুষ্ঠানে কবি আল মুজাহিদীর সহধর্মিণী পলিন পারভীন এবং কন্যা পরমা আল মুজাহিদী উপস্থিত থেকে কবিকে নিয়ে তাঁদের শ্রদ্ধাশীল অভিজ্ঞতার স্মৃতি স্মরণ করে রাষ্ট্রীয় অবহেলা, অনাদর, অপমানের আক্ষেপ ব্যক্ত করেন। কবি কন্যা পরমার কন্ঠে তাঁর বাবার স্মৃতি-আকুতি পুরো মিলনায়তন মুহুর্তেই ভারী হয়ে উঠে! তাঁর সহধর্মিণী পলিন পারভীন বলেন, কোন কবি কখনোই খুনি হতে পারে না অথচ আল মুজাহিদীর মতন মানুষকে মিথ্যা খুনের মামলার আসামী করা হয়েছিল।”
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থেকে আল মুজাহিদীর জীবন, সাহিত্যকর্ম ও জাতীয় সাংস্কৃতিক পরিসরে তাঁর অনন্য অবদানের ওপর মূল আলোচনা উপস্থাপন করেন জাতীয় কবিতা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও দেশের খ্যাতিমান কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন। তিনি বলেন, ‘কবি আল মুজাহিদী কেবল একজন শক্তিমান সাহিত্যিকই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন আমাদের মুক্তিসংগ্রামের এক অনিরুদ্ধ বীর সেনানী। তাঁর ক্ষুরধার লেখনী ও দীর্ঘদিনের সাহিত্য সম্পাদনা বাংলা সংস্কৃতিকে আজীবন সমৃদ্ধ করবে।’

কবি আল মুজাহিদীকে স্মরণ করে আরও বক্তব্য রাখেন, জাতীয় কবিতা পরিষদের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য বর্ষিয়ান কবি মতিন বৈরাগী, জাতীয় কবিতা পরিষদের অর্থ সম্পাদক কবি ক্যামেলিয়া আহমেদ, কবি আশফাকুজ্জামান প্রমুখ।
স্মরণ আলোচনা শেষে অনুষ্ঠিত হয় প্রাণবন্ত কবিতা পাঠ, আবৃত্তি ও সঙ্গীত পরিবেশনা। এতে দেশের বরেণ্য এবং প্রতিশ্রুতিশীল নবীন-প্রবীণ কবি, আবৃত্তিশিল্পী ও দেশের শীর্ষস্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ববৃন্দ অংশ নেন।
কবিতাপাঠে অংশ নেন– কবি মতিন বৈরাগী, কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন, কবি হরষিত বালা, কবি দীনবন্ধু দাশ, কবি লিলি হক, কবি রফিক হাসান, কবি ক্যামেলিয়া আহমেদ, কবি নিপু মল্লিক, কবি ইউসুফ রেজা, কবি বাবু হাবিবুল, কবি আসাদ কাজল, কবি শিমুল পারভীন, কবি সাম্য শাহ, কবি রোকন জহুর, কবি সবুজ মনির, কবি কাব্য রাসেল, কবি নাহিদ হাসান, কবি প্রসপারিনা সরকার, কবি সূফী মোহাম্মদ, কবি নিথর মাহবুব, কবি হিমেল ইসহাক, কবি কুদরাত-ই-খোদা, কবি মুসতাক মুকুল, কবি মো. ইমদাদুল ইসলাম, কবি নূর মোহাম্মদ, কবি ইউসুফ আলী, কবি জয়নাল আবেদীন জয়, কবি মোছা. রোকসানা খাতুন, কবি রানা জামান, কবি হিমেল ইসহাক, কবি আশফাকুজ্জামান, কবি শরীফ খান দীপ, কবি রাকিব ফরায়েজী, কবি শাহাজাদা সেলিম, কবি ইসরাত হোসেন বাবলু, কবি শোভা চৌধুরী, কবি দেলোয়ার হোসেন, কবি রানা জামান, কবি আতিকুল ইসলাম, কবি রফিক চৌধুরী, কবি এস.আই. জনি, কবি আইরিন, কবি ইমরুল কায়েস, কবি মেহেদী পারভেজ, কবি মাহমুদুল হাসান, কবি টোটন চন্দ্র দাস, কবি এম,এইচ প্রিন্স, কবি স্বপন, কবি রাসেল আহম্মেদ, কবি আতিকুজ্জামান খান প্রমুখ।
কবিতা, স্মৃতি ও সৃজনশীলতার এই মিলনমেলায় কাজল মিলনায়তন প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে জাতীয় কবিতা পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিপুল সংখ্যক সাহিত্য অনুরাগী, কবি, সাংবাদিক এবং দর্শক-শ্রোতা উপস্থিত ছিলেন।
বার্তা প্রেরক-
সাম্য শাহ
জাতীয় কবিতা পরিষদ
ঢাকা, বাংলাদেশ।

