আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি: আজকের ইরানকে গড়ে তুলেছিলেন তিনি

by protibimbo
০ মন্তব্য ৪৯ বার পড়া হয়েছে

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

আজ রোববার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে আলী খামেনির নিহত হওয়ার খবর জানানো হয়। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে শনিবার যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আলী খামেনি নিহত হওয়ার কথা বলেছিলেন।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হন। এর আগে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে তিনি ইরানে ইসলামি বিপ্লবে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৭৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে গঠিত সরকারে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন। ১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট’ (ধর্মীয় নেতাদের একটি পর্ষদ) আলী খামেনিকে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচন করে; যদিও তাঁকে দায়িত্ব গ্রহণের সুযোগ দিতে সংবিধান সংশোধন করার প্রয়োজন পড়েছিল।

Banner

আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ছিলেন সেই আদর্শগত শক্তি, যিনি ইরানে পাহলভি রাজতন্ত্র অবসানের বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। আর আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছিলেন সেই নেতা, যিনি ইরানের সামরিক ও আধা সামরিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালীরূপে গড়ে তুলেছিলেন। এ ব্যবস্থা শুধু শত্রুর বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করে ক্ষান্ত হননি, বরং দেশের সীমার বাইরে গিয়েও নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে। আজকের ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতা তিনিই গড়ে তুলেছিলেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার আগে ১৯৮০-এর দশকে ইরাকের সঙ্গে দেশটির রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

দীর্ঘ যুদ্ধ, সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর ইরাকের নেতা সাদ্দাম হোসেনকে সমর্থন দেওয়ার কারণে ইরানিদের ভেতর একধরনের বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি তৈরি হয়েছিল। এতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আলী খামেনির অবিশ্বাস আরও গভীর হয় বলে মত বিশ্লেষকদের।

আর এই মনোভাবই তাঁর দশকব্যাপী শাসনের ভিত্তি গড়ে তুলেছিল। তাঁর এই ধারণাকে দৃঢ় করেছিল যে ইরানকে সব সময় বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থায় থাকতে হবে।

এই মনোভাব থেকেই তিনি দেশটির ইসলামি বিপ্লবী বাহিনীকে (আইআরজিসি) আধা সামরিক বাহিনী থেকে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। পরে এই বাহিনী পুরো অঞ্চলে ইরানের প্রভাব বিস্তারে কেন্দ্রীয় ভূমিকা গ্রহণ করে।

খামেনি ইরানের ‘প্রতিরোধ অর্থনীতি’ গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে নিয়েছিলেন, যাতে কঠোর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখেও স্বনির্ভরতা বাড়ানো যায়। তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িত হওয়ার ব্যাপারে গভীরভাবে সন্দিহান থাকতেন।

আলী খামেনির প্রতিরক্ষামূলক নীতি প্রয়োজনীয় সংস্কারের পথে বাধা সৃষ্টি করছে—এমন অভিযোগের বিরুদ্ধে তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাতেন।

শুধু তা–ই নয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেশের ভেতরেও তাঁর শাসন মারাত্মক পরীক্ষার মুখোমুখি হয়। এর মধ্যে ২০০৯ সালে কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সেবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলকে ‘ছলনা’ দাবি করে বহু মানুষ সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেন। আলী খামেনি কঠোর হাতে ওই বিক্ষোভ দমন করেন।

এরপর ২০২২ সালে তেহরানে মাসা আমিনি নামের এক কুর্দি তরুণীর পুলিশি নির্যাতনে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইরানজুড়ে তীব্র আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল। কয়েক মাস ধরে ওই আন্দোলন চলে। সেবারও কঠোর হাতেই বিক্ষোভ দমন করেছিলেন আলী খামেনি।

তবে ৩৭ বছরের শাসকজীবনে আলী খামেনি খুব সম্ভবত এ বছর জানুয়ারিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন। ডলারের বিপরীতে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়ালের ব্যাপক দরপতন ঘিরে গত বছর ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে ব্যবসায়ী ও দোকানদারেরা বিক্ষোভ শুরু করেছিলেন। সেখান থেকে পুরো দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, বিক্ষোভকারীরা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতনের ডাক দেন।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন

১৯৩৯ সালে উত্তর-পূর্ব ইরানের পবিত্র নগরী মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তাঁর বাবা একজন খ্যাতনামা মুসলিম নেতা ছিলেন। তিনি (বাবা) পার্শ্ববর্তী দেশ ইরাকের আজারবাইজানি জাতিসত্তার ছিলেন।

আজারবাইজানি পরিবারটি প্রথমে উত্তর-পশ্চিম ইরানের তাবরিজে বসবাস শুরু করেছিল, পরে মাশহাদে চলে আসে। শহরটি ধর্মীয় তীর্থযাত্রীদের পছন্দের স্থান। সেখানে আলী খামেনির বাবা একটি আজারবাইজানি মসজিদের প্রধান ছিলেন।

আলী খামেনির মায়ের নাম খাদিজা মিরদামাদি। খামেনি নিজের মাকে পবিত্র কোরআন ও অন্যান্য বইয়ের একজন একনিষ্ঠ পাঠক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

খাদিজা মিরদামাদি তাঁর সন্তানের মধ্যে সাহিত্য ও কবিতার প্রতি ভালোবাসা জন্মিয়েছিলেন। পাহলভি রাজবংশের শাসনের বিরুদ্ধে তাঁর আন্দোলনে যোগ দেওয়াতেও মায়ের সমর্থন ছিল।

চার বছর বয়সে আলী খামেনি লেখাপড়া শুরু করেন। তিনি পবিত্র কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং মাশহাদের প্রথম ইসলামি বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। তিনি হাইস্কুল শেষ করেননি; এর পরিবর্তে ধর্মতাত্ত্বিক স্কুলে ভর্তি হন এবং সে সময়ের খ্যাতনামা ইসলামি পণ্ডিতদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে তাঁর বাবা এবং শেখ হাসেম গাজভিনিও ছিলেন।

পরবর্তী বছরগুলোয় আলী খামেনি নাজাফ ও কোমের আরও খ্যাতনামা শিয়া উচ্চশিক্ষার কেন্দ্রগুলোয়

কোমে কয়েকজন প্রসিদ্ধ মুসলিম ধর্মীয় নেতার সঙ্গে আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যাঁদের একজন ছিলেন আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি। শাহ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কারণে রুহুল্লাহ খোমিন তরুণ ধর্মশিক্ষার্থীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন।

এভাবেই আলী খামেনি ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। শাহ শাসনের সময় তিনি বেশ কয়েকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁকে ইরানের প্রত্যন্ত শহর ইরানশাহরে নির্বাসিত করা হয়েছিলেন। ১৯৭৮ সালে শাহ পাহলভি শাসনের বিরুদ্ধে ইসলামি বিপ্লব শুরু হলে তিনি বিক্ষোভে অংশ নিতে ফিরে আসেন।

সর্বোচ্চ নেতা

১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লব সফল হয়। ইরানে পাহলভি রাজবংশের শাসনের অবসান হয়। নতুন শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় চলে আসেন আলী খামেনি।

আলী খামেনি ১৯৮০ সালে অল্প সময়ের জন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সূচনার পর তিনি ইসলামি বিপ্লবী বাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করেন।

১৯৮১ সালটি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর। সেবার অল্পের জন্য তিনি গুপ্তহত্যার চেষ্টা থেকে প্রাণে রক্ষা পান। তবে তাঁর ডান হাতটি অকেজো হয়ে যায়। ওই বছরই তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনিই ইরানের প্রথম ধর্মীয় নেতা, যিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন।

১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যু ইসলামি বিপ্লবকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এনে দাঁড় করিয়ে দেয়।

খোমেনি মৃত্যুর আগেই তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে বহু বছর আগে থেকে নির্ধারিত আয়াতুল্লাহ হোসেইন আলী মন্তাজেরিকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। আলী মন্তাজেরি ১৯৮৮ সালে বন্দীদের গণমৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সমালোচনা করেছিলেন।

পরে সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত একটি পরিষদ খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করে।

খামেনিকে নিয়োগ দিতে ওই পর্ষদকে দেশের শীর্ষপদে যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতার শর্তগুলো শিথিল করতে হয়েছিল। কারণ, খামেনির কাছে হুজতুলইসলাম পদবি ছিল না। এটি উচ্চপদস্থ শিয়া আলেমদের একটি পদবি।

নিয়ম শিথিল করে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করার পর এক ভাষণে খামেনি বলেছিলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, আমি এই পদটির যোগ্য নই; হয়তো আপনি এবং আমি এ বিষয়টি জানি। এটি প্রতীকী নেতৃত্ব হবে, বাস্তব নেতৃত্ব নয়।’

প্রতীকী নয়, সত্যিকারের নেতা ছিলেন খামেনি

দায়িত্ব গ্রহণ করেই আলী খামেনি দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেন। খামেনি যখন ক্ষমতায় আসেন, ইরাকের সঙ্গে আট বছরের যুদ্ধে ইরানের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এ যুদ্ধে ১০ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়।

ইরানের সেনা ও সাধারণ মানুষের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করেছিল ইরাক। এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিশ্ব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি বলে মনে করা হয়। ফলে এ যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ইরানের ক্ষোভ উসকে দিয়েছিল।

ইরান–ইরাক যুদ্ধের সময় খামেনি প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সে সময় তিনি প্রায়ই যুদ্ধক্ষেত্র পরিদর্শনে যেতেন। সেখান থেকেই তিনি আইআরজিসি আনুগত্য অর্জন করেন এবং যুদ্ধের বাস্তবতা সরাসরি উপলব্ধি করেন।

সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার পর তিনি সামরিক এবং আধা সামরিক ব্যবস্থাকে গড়ে তোলায় মনোনিবেশ করেন, যেন দেশের বিরুদ্ধে অবিরাম আক্রমণ মোকাবিলা করা যায় এবং ধারাবাহিক প্রতিরোধ নিশ্চিত হয়।

‘শান্তিও না, যুদ্ধও না’

শুধু কট্টর ধর্মীয় নেতা নয়, খামেনি একজন বাস্তববাদীরা নেতাও ছিলেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, তিনি বিশ্বাস করতেন যে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে লড়াই ভিন্ন কৌশলে পরিচালনা করতে হবে; প্রতিরোধ করতে হবে, কিন্তু প্রয়োজনে আলোচনাও করতে হবে।

২০১৫ সাল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তত দিনে দেশটির ওপর নানা কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির অর্থনীতি ধুঁকছিল।

আলী খামেনি অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক চাপ কমানো এবং সরকারের বৈধতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন।

আলী খামেনি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানিকে পশ্চিমাদের সঙ্গে আলোচনায় অনুমোদন দেন। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বশক্তির সঙ্গে একটি পারমাণবিক চুক্তিতে উপনীত হয় ইরান। এটি ইরান পরমাণু চুক্তি নামে পরিচিত। ওই চুক্তিতে বলা ছিল, ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনবে, বিনিময়ে ধাপে ধাপে ইরানের ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।

যদিও ওই চুক্তি হওয়ার তিন বছর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই চুক্তি থেকে বের করে আনেন এবং দেশটির ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

এর জেরে আলী খামেনিও আবার তাঁর আগ্রাসী অবস্থানে ফিরে আসেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা বাতিল করেন এবং ধীরে ধীরে চুক্তি লঙ্ঘনের সমর্থন দেন।

২০১৯ সালে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপ আরও বাড়ে। এর ফলে ইরানে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যায়, সে সময়ে সরকার পেট্রোলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়।

নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর হাতে বিক্ষোভ দমন করে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, শতাধিক বিক্ষোভকারী নিহত হন।

বিক্ষোভের পেছনে প্রতিবিপ্লবীদের এবং বিদেশের ‘ইন্ধন’ আছে বলে অভিযোগ করেছিলেন খামেনি।

২০২২ সালে তেহরানে হিজাব আইন লঙ্ঘন করার অভিযোগে মাসা আমিনি নামের এক কুর্দি তরুণীকে আটক করে ইরানের নীতি পুলিশ। পুলিশি হেফাজতে মাসা আমিনির মৃত্যুর পর ইরানজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।

এবারও কঠোর হাতে বিক্ষোভ দমন করেন খামেনি। কয়েক মাস ধরে চলা ওই বিক্ষোভে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়।

প্রতিরোধ অক্ষ

খামেনির দৃষ্টিতে স্বাধীনতা ও শক্তি দেশের সীমার বাইরে থেকেও প্রয়োজন। তাহলে সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহত করতে এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো শত্রুর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ মোকাবিলা করতে একটি ‘অগ্রগামী প্রতিরক্ষা’ ব্যবস্থা বজায় রাখা যায়।

এ ভাবনা বাস্তবে পরিণত হয় ইরানের বাইরে সহযোগী দেশ ও গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে মিলে বিকল্প বাহিনী গড়ে তোলার মাধ্যমে। ওই বাহিনীকে অস্ত্র ও অর্থ দিয়ে সহায়তা করে ইরান। এই বাহিনীই ইরানের ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ নামে পরিচিত। এটি ছিল খামেনির সবচেয়ে প্রভাবশালী কৌশলগত প্রকল্প।

খামেনির এই কৌশলের প্রধান স্থপতি ছিলেন কাসেম সোলাইমানি। তিনি খামেনির দৃঢ় সমর্থক এবং ইরানের কুদস বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাঁকে হত্যা করে।

গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের এই অক্ষ জোরালোভাবে আত্মপ্রকাশ করে।

এরপর ২০২৫ সালের ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানে হামলা করে। যুক্তরাষ্ট্র এ হামলার বিষয়ে অবগত ছিল এবং পরে ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক ক্ষেত্রে বোমা হামলা চালায়। ১২ দিন ধরে ওই যুদ্ধ চলে।

সর্বশেষ গত ২৮ ডিসেম্বর আবারও ইরান বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে। সে সময়ে ট্রাম্প বারবার ইরানে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন। প্রস্তুতি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরিসহ নৌবহর পাঠিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছেন।

এদিকে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনাও চলছিল। ওই আলোচনায় যখন অগ্রগতির খবর পওয়া যাচ্ছিল, ঠিক সে সময়ে গতকাল শনিবার ইরানে যৌথভাবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। হামলায় নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

সম্পর্কিত খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : আবুল খায়ের 

নির্বাহী সম্পাদক: 
বার্তা প্রধান:

অফিস: বাড়ি ০৭, সড়ক ১৪/সি, সেক্টর ৪,

উত্তরা, ঢাকা-১২৩০।

যোগাযোগ: ০১৭১৫৩৬৩০৭৯

বিজ্ঞাপন: ০১৮২৬৩৯৫৫৪৯

Email: khair.hrm@gmail.com

info@dainikprotibimbo.com

protibimboprokash.com

ফেসবুকে আমরা

©2025 Dainik Protibimbo – All Right Reserved. Designed and Developed by Bangla Webs